দিশারী ডেস্ক।। ১৩ নভেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ।।
জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক পুলিশের মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল–মামুনের বিরুদ্ধে করা মামলার রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
আগামী সোমবার (১৭ নভেম্বর) এই মামলার রায় ঘোষণা করা হবে। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) বেলা ১২টা ৯ মিনিটে ট্রাইব্যুনাল–১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই দিন ধার্য করেন। অন্য সদস্যরা হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারপতি মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, গাজী এমএইচ তামিম, ফারুক আহম্মদসহ অন্যরা।
আদালত–সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে। সেগুলো হলো
১. উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান
২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনার দেয়া বক্তব্যের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও দলীয় সমর্থকরা ব্যাপক হামলায় জড়িত হয় বলে অভিযোগ। এতে বহু নিরীহ ছাত্র ও সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন।
২. প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ
অভিযোগ রয়েছে, আন্দোলন দমনে শেখ হাসিনা হেলিকপ্টার, ড্রোন এবং প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও পুলিশের প্রধান চৌধুরী আবদুল্লাহ আল–মামুন সেই নির্দেশ বাস্তবায়নে মাঠ পর্যায়ে নির্দেশনা দেন।
৩. রংপুরে আবু সাঈদ হত্যা
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে ছাত্র আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় তিন আসামিকেই অভিযুক্ত করা হয়েছে।
৪. চানখাঁরপুলে ছয়জনকে হত্যা
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে ছয়জন নিহত হন। এ ঘটনাতেও শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।
৫. আশুলিয়ায় ছয়জনকে হত্যা ও লাশ পোড়ানো
একই দিন আশুলিয়া এলাকায় ছয়জনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। নিহতদের মধ্যে পাঁচজনের লাশ পুড়িয়ে দেয়া হয়, আরেক আহত ব্যক্তিকেও আগুনে পোড়ানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
উল্লেখ্য, হত্যার নির্দেশদাতাকে সাধারণত দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ৩০২ ধারা (খুন) এর অধীনে অভিযুক্ত করা হয়, কারণ হত্যার পরিকল্পনা এবং নির্দেশ প্রদান করাও খুনের একটি অংশ। যদিও যারা সরাসরি হত্যা করে, তাদের উপরও এই ধারা প্রযোজ্য, তবে নির্দেশদাতাকে সাধারণত সহযোগী অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং একই অপরাধে অভিযুক্ত করা হয়।
দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ৩০২ ধারা : এই ধারায় খুনের শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।
পরিকল্পিত হত্যা : পূর্বপরিকল্পিতভাবে বা নির্দেশনার মাধ্যমে যদি কোনো হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়, তবে নির্দেশদাতা এবং মূল খুনি উভয়কেই একই ধারার অধীনে বিচার করা হয়।
Leave a Reply