হায়দর মিয়ার হাট তহশিলে সামছুলের অন্তহীন দুর্নীতি

  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, মার্চ ২৬, ২০২৪
  • 35 পাঠক

নিজস্ব প্রতিনিধি। ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।

একাধিক ভূমি মালিকেরা অভিযোগ করেন, সামছুুল আলমের হাত নাকি অনেক ওপরে। ইতোপূর্বে তার সংঘটিত অনিয়ম, অন্যায় ও অন্তহীন দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের বিভিন্নমহলে অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার হয়নি। উপরন্তু এখানে যেন স্থায়ী নিবাসই গড়ছেন তিনি। ভাবখানা এমন তার বিরুদ্ধে ওপরে নিচে কোথাও কোন অভিযোগ করেও লাভ হবেনা !

নোয়াখালী সদর উপজেলার হায়দর মিয়ার হাট ভূমি উপ-সহকারী সামছুল আলমের অনিয়ম, দুুর্নীতি ও অনৈতিক কর্মকান্ডের যাঁতাকলে ভূমি মালিকেরা অতিষ্ঠ হয়ে ওঠছেন।

অভিযোগ রয়েছে, এ তহশিলে তাঁর অবৈধ ও মনগড়া কার্যকলাপের দায়ে সাধারণ নাগরিকেরা প্রতিনিয়তই নানাভাবে হয়রানি ও বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন।

জানা যায়, সামছুল আলম নিজের চাহিদাকৃত সুবিধা না পেলে ভূমি মালিকদের দখল, আদালতের রায়, ডিক্রীসহ যাবতীয় বৈধতা ও ন্যায্যতা থাকার পরেও মানুষকে হয়রানি করেন।

ধর্মপুরের এক ভূমি মালিক অভিযোগ করেন, তার খরিদীয় ও ভোগ দখলীয় জায়গায় আদালতের রায়, ডিক্রী, হাল রেকর্ড নিজেদের নামে থাকার পরেও উপ-সহকারী সামছুল আলম তার নামে জমা খারিজ খতিয়ান সৃজনের মতামত দেননি। এ বিষয়ে সামছুল আলম বলেন, ওই জমি দিয়ারা রেকর্ডে সরকারের নামে থাকায় তিনি তা দেননি।এ সময় আদালতের রায়, ডিক্রী ও হাল রেকর্ডের কোন গুরুত্ব নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

ফলে স্থানীয়ভাবে এসব জায়গার বেচাকেনা পুরোটাই বন্ধ হয়ে গেছে। আবার অনেকে ছাপ কবলা দলিলমূলে খরিদ করেও চরম বিপাকে পড়েছেন।

তবে অনেক ভুক্তভোগীরা জানান, তারা দিয়ারা জরিপের বিরুদ্ধে দেওয়ানী মামলা করে রায়, ডিক্রী সবই পেয়েছেন। হাল রেকর্ডও তাদের নামে রয়েছে। তথাপি মাত্র নগদ আর্থিক সুবিধা না পাওয়ার কারণে সামছুল আলম নামজারি জমা খারিজ খতিয়ান সৃজনে বাধা হয়ে দাঁড়ান। এদিকে, তার এহেন কার্যকলাপের কারণে সরকার প্রতিদিনই হাজার হাজার টাকার রাজস্ব লাভে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাছাড়া বিনষ্ট হচ্ছে সরকারের ভাবমূর্তিও।

আরেকজন অভিযোগ করেন, মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে আদালতের রায়, ডিক্রী উপেক্ষা করে এ তহশিলের আওতাধীন ধর্মপুরসহ বিভিন্ন মৌজায় অনেক জায়গাও তিনি বিভিন্ন ভূমিলিপ্সুদের নামে বন্দোবস্ত প্রদান করেছেন।

নোয়াখালীর একজন বিশিষ্ট আইনজীবি বলেন, কোন আদালতের রায়, ডিক্রীর পর তা সরকারের অধিকারে বর্তায় না। আদালতের রায়, ডিক্রীটাই মূূলত মালিকানা নির্ধারিত ও নির্দিষ্ট হয়। সে মোতাবেক খতিয়ান হওয়া ছাড়া গতান্তর নেই। অপরদিকে, এসব জায়গা হাল রেকর্ডে ব্যক্তিদের নামে রেকর্ড সৃজিত হয়েছে। তথাপি দুর্নীতিবাজ সামছুল আলমের কারণে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়তই নানাভাবে জমা খারিজ খতিয়ান সৃজন ও খাজনাদী প্রদান করতে গিয়ে অন্তহীন হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

একজন ভূমি মালিক বলেন, সামছুল আলম অনেকটা প্রতিবন্ধীর প্রকৃতির মানুষ। সে নিজেকে অনেক বেশি ক্ষমতাধর মনে করেন। তাছাড়া সামছুল আলম সমাজের বিভিন্ন মহলে বলে থ কেন, তার টাকার ভাগ থেকে নাকি জেলার উর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও ভাটোয়ারা পান। যে কারণে তিনি কাউকে কোন ধরনের তোয়াক্কা করেননা।

সামছুল আলমের সংঘটিত দুর্নীতি ও অনিয়মের বিষয়ে সদর উপজেলার সহকারী ভূমি কমিশনার বায়েজীদ আখন্দকে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!