১২:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫

বিমসটেকের পরবর্তী চেয়ারম্যান হচ্ছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস

  • Akash Md. Jasim Editor
  • আপডেট: ১০:৫৮:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ এপ্রিল ২০২৫

দিশারী ডেস্ক। ০২ এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ।

বিমসটেকের পরবর্তী চেয়ারম্যান হচ্ছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। বুধবার ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত ড. খলিলুর রহমান।

বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টিসেক্টরাল, টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন (বিমসটেক) অর্থাৎ বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে বিভিন্নখাতে কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা উদ্যোগে ষষ্ঠ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে বৃহস্পতিবার থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক যাচ্ছেন প্রধান উপদেষ্টা। বিমসটেক দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় কয়েকটি দেশ নিয়ে গঠিত একটি আঞ্চলিক জোট।

সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠক হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত।

তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টা বিমসটেকের পরবর্তী চেয়ারম্যান। তাই সব দেশের প্রধানদের সঙ্গে পরবর্তী করণীয় নিয়ে আলোচনা দরকার।

————————————————————————————————————————————————————————–

বিসমটেকের মাধ্যমে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে কোন উদ্যোগ থাকবে কী না ? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রোহিঙ্গা বা এ ধরনের রাজনৈতিক বিষয়গুলো বিমসটেকের চার্টারে নেই। কাজেই সম্মেলনে এগুলো আলাপের পরিসর আমরা পাবো না। তবে একেবারেই আমরা চুপচাপ থাকবো কা নয়। আমরা বিভিন্ন পক্ষের সাথে আলাপোর চেষ্টা করবো। আমরা সব পক্ষের সাথে যোগাযোগ করেছি। যখন যেখানে সুযোগ পাবো আমাদের চেষ্টা থাকবে। প্রত্যাবাসন কীভাবে এগিয়ে নিতে পারি সেটা নিয়ে সবার সাথে কথা বলবো।

————————————————————————————————————————————————————————–

চীন সফরকালে সেভেন সিস্টার নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য নিয়ে ভারতের নেতৃবৃন্দের প্রতিক্রিয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই কথাটি প্রধান উপদেষ্টা এই প্রথমবার বলেননি।

তিনি ২০১২ সালেও একই ধরনের কথা বলেছিলেন। এর থেকে আরো একটু এগিয়ে গিয়ে জাপানের প্রধানমন্ত্রী ২০২৩ সালে দিল্লিতে বসে বলেছিলেন নর্থ-ওয়েস্ট ইন্ডিয়া এবং বাংলাদেশ একটি ভ্যালু চেইনে আবদ্ধ করার এবং এ বিষয়ে সিঙ্গেল ইকোনমিক জোনের কথা বলেছিলেন। যেটা ‘বিগ বে ইনিশিয়েটিভ’ বলে গণ্য করা হয়। আগেই বলেছি কানেক্টিভিটি এই অঞ্চলের সম্ভাবনার দুয়ারটা খুলে দেবে- বিশেষ করে যাদের জন্য সমুদ্রে অ্যাক্সেস পাওয়াটা কঠিন। আমরা কিন্তু কানেক্টিভিটি জোর করে চাপিয়ে দেবো না। দেয়ার অবস্থটা আমাদের নেই। কেউ যদি গ্রহণ করে ভালো। না নিয়ে আমরা কী করবো? কিছু করার নেই। অত্যন্ত সদুদ্দেশ্যপূ্র্ণ কথা তিনি বলেছেন। এখন এর ব্যাখ্যা যদি অন্যরকম দেয়া হয় সেটা তো আমরা ঠেকাতে পারছি না। আমরা সকলের লাভের জন্য আমরা কানেক্টিভিটি দিতে আগ্রহী আছি। কেউ নেবেন তো ভালো। না নিলে নেবেন না।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম, উপ প্রেস সচিব মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ মজুমদার।

বৈঠকের সম্ভাবনা কোন প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টা বিসমটেকের পরবর্তী চেয়ারম্যান হচ্ছেন। আমরা আশা করছি অন্যান্য সকল সদস্য রাষ্ট্রের শীর্ষ প্রতিনিধি এই সুযোগে তার সঙ্গে বিমসটেকের আগামী দিনের কাজকর্ম নিয়ে আলোচনা করবেন। এটা স্বাভাবিক।

তিনি বলেন, আগামী চেয়ারম্যানশিপ অব বিমসটেক থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে অর্পিত হবে আমাদের প্রধান উপদেষ্টার হাতে। এ সময় থেকে বিমসটেকের পরিচালনার প্রধান ভূমিকা পালন শুরু করবে বাংলাদেশ।

এবারের বিসমটেক সম্মেলন বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিসমটেকের কর্মকাণ্ড আরো বিস্তৃতি ও শক্তিশালী হওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। সেই উদ্দেশ্যে ‘বিমসটেক ব্যাংকক ভিশন ২০৩০’ কৌশলপত্রটি এবারের সম্মেলনে গৃহীত হবে।

বিসমটেকভুক্ত দেশগুলোর প্রধানদের সাথে প্রধান উপদেষ্টা দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করবেন বলেও জানান তিনি।

বিগতদিনের অভিজ্ঞতায় বিমসটেকের সম্ভাবনা কতটা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আঞ্চলিক জোটগুলো সব দেশের শক্তিগুলোকে এক জায়গায় এনে বিভিন্ন সমস্যাগুলোর সমাধানের প্রচেষ্টা চালায়। আমাদের এ অঞ্চলে কানেক্টিভিটি অন্যতম প্রধান বিষয়। আঞ্চলিক সহযোগিতা ছাড়া সেটা করা সম্ভব নয়। এই মুহুর্তে আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে যে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে- সেটাও এ অঞ্চেলের দেশ বিশেষ করে ছোট ছোট দেশগুলোকে এককভাবে মোকাবিলা করা অত্যন্ত কঠিন। জোটগতভাবে এই সমস্যাগুলোর সমাধানের চেষ্টা করলে সমাধানের সম্ভাবনা বাড়বে। এজন্য আশাবাদী থাকতে হবে। এটা সত্য ২৫ বছরে বিসমটেক থেকে আমরা উল্লেখযোগ্য ফুটপ্রিন্ট দেখতে পাইনি। তবে এবার প্রথমবারের জন্য কিন্তু বাস্তবভিত্তিক ফোকাস এরিয়া নির্দিষ্ট করা হয়েছে। আমাদের প্রচেষ্টা থাকবে আগামী দিনগুলোতে এগুলো এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বাস্তবসন্মত কার্যক্রম তৈরি করা। আঞ্চলিক সহযোগিতার মাধ্যমে আপনি সমস্যার সমাধান যতটা করতে পারবেন একক শক্তিতে কোন দেশের পক্ষে সেটা করা খুবই দুরহ। এজন্য আমরা অন্তত আশাটা বজায় রাখবো বিসমটেক তার রোলটা প্লে করবে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ বলন, এক জায়গায় গেলে অন্য জায়গার সাথে সম্পর্ক নষ্ট হবে এমন কোন বিষয় নয়। আমাদের সুবিধার জন্য বা পারষ্পারিক সুবিধার জন্য আমরা যতটুকু এগুতে পারি আমরা সেই চেষ্টা করবো। সেই প্রত্যাশায় আমরা সকল দেশের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চাই। কাউকে বাদ দিয়ে আমরা এগুতে চাই না।

বিমসটেকের সম্মেলনে প্রথমদিন ইয়ুথ কনফারেন্সে যোগ দেবেন প্রধান উপদেষ্টা। পরদিন সম্মেলনে বক্তব্য রাখবেন। এছাড়া সাইডলাইনে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। সম্মেলনে তিনটি সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি সই হওয়ার কথা।

ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম, ডেপুটি প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার।

বিমসটেক ১৯৯৭ সালের ৬ জুন ব্যাংককে বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের একটি বৈঠকে একটি নতুন আন্তঃআঞ্চলিক জোট সৃষ্টি করা হয়। সভায় অংশগ্রহণকারী মূল আলোচনাকারী দেশেগুলোর নামের আদ্যাক্ষর অনুযায়ী এই জোটের নাম দেওয়া হয় (বিমসটেক)।

বিমসটেকের পরবর্তী চেয়ারম্যান হচ্ছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস

আপডেট: ১০:৫৮:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ এপ্রিল ২০২৫

দিশারী ডেস্ক। ০২ এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ।

বিমসটেকের পরবর্তী চেয়ারম্যান হচ্ছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। বুধবার ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত ড. খলিলুর রহমান।

বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টিসেক্টরাল, টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন (বিমসটেক) অর্থাৎ বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে বিভিন্নখাতে কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা উদ্যোগে ষষ্ঠ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে বৃহস্পতিবার থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক যাচ্ছেন প্রধান উপদেষ্টা। বিমসটেক দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় কয়েকটি দেশ নিয়ে গঠিত একটি আঞ্চলিক জোট।

সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠক হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত।

তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টা বিমসটেকের পরবর্তী চেয়ারম্যান। তাই সব দেশের প্রধানদের সঙ্গে পরবর্তী করণীয় নিয়ে আলোচনা দরকার।

————————————————————————————————————————————————————————–

বিসমটেকের মাধ্যমে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে কোন উদ্যোগ থাকবে কী না ? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রোহিঙ্গা বা এ ধরনের রাজনৈতিক বিষয়গুলো বিমসটেকের চার্টারে নেই। কাজেই সম্মেলনে এগুলো আলাপের পরিসর আমরা পাবো না। তবে একেবারেই আমরা চুপচাপ থাকবো কা নয়। আমরা বিভিন্ন পক্ষের সাথে আলাপোর চেষ্টা করবো। আমরা সব পক্ষের সাথে যোগাযোগ করেছি। যখন যেখানে সুযোগ পাবো আমাদের চেষ্টা থাকবে। প্রত্যাবাসন কীভাবে এগিয়ে নিতে পারি সেটা নিয়ে সবার সাথে কথা বলবো।

————————————————————————————————————————————————————————–

চীন সফরকালে সেভেন সিস্টার নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য নিয়ে ভারতের নেতৃবৃন্দের প্রতিক্রিয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই কথাটি প্রধান উপদেষ্টা এই প্রথমবার বলেননি।

তিনি ২০১২ সালেও একই ধরনের কথা বলেছিলেন। এর থেকে আরো একটু এগিয়ে গিয়ে জাপানের প্রধানমন্ত্রী ২০২৩ সালে দিল্লিতে বসে বলেছিলেন নর্থ-ওয়েস্ট ইন্ডিয়া এবং বাংলাদেশ একটি ভ্যালু চেইনে আবদ্ধ করার এবং এ বিষয়ে সিঙ্গেল ইকোনমিক জোনের কথা বলেছিলেন। যেটা ‘বিগ বে ইনিশিয়েটিভ’ বলে গণ্য করা হয়। আগেই বলেছি কানেক্টিভিটি এই অঞ্চলের সম্ভাবনার দুয়ারটা খুলে দেবে- বিশেষ করে যাদের জন্য সমুদ্রে অ্যাক্সেস পাওয়াটা কঠিন। আমরা কিন্তু কানেক্টিভিটি জোর করে চাপিয়ে দেবো না। দেয়ার অবস্থটা আমাদের নেই। কেউ যদি গ্রহণ করে ভালো। না নিয়ে আমরা কী করবো? কিছু করার নেই। অত্যন্ত সদুদ্দেশ্যপূ্র্ণ কথা তিনি বলেছেন। এখন এর ব্যাখ্যা যদি অন্যরকম দেয়া হয় সেটা তো আমরা ঠেকাতে পারছি না। আমরা সকলের লাভের জন্য আমরা কানেক্টিভিটি দিতে আগ্রহী আছি। কেউ নেবেন তো ভালো। না নিলে নেবেন না।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম, উপ প্রেস সচিব মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ মজুমদার।

বৈঠকের সম্ভাবনা কোন প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টা বিসমটেকের পরবর্তী চেয়ারম্যান হচ্ছেন। আমরা আশা করছি অন্যান্য সকল সদস্য রাষ্ট্রের শীর্ষ প্রতিনিধি এই সুযোগে তার সঙ্গে বিমসটেকের আগামী দিনের কাজকর্ম নিয়ে আলোচনা করবেন। এটা স্বাভাবিক।

তিনি বলেন, আগামী চেয়ারম্যানশিপ অব বিমসটেক থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে অর্পিত হবে আমাদের প্রধান উপদেষ্টার হাতে। এ সময় থেকে বিমসটেকের পরিচালনার প্রধান ভূমিকা পালন শুরু করবে বাংলাদেশ।

এবারের বিসমটেক সম্মেলন বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিসমটেকের কর্মকাণ্ড আরো বিস্তৃতি ও শক্তিশালী হওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। সেই উদ্দেশ্যে ‘বিমসটেক ব্যাংকক ভিশন ২০৩০’ কৌশলপত্রটি এবারের সম্মেলনে গৃহীত হবে।

বিসমটেকভুক্ত দেশগুলোর প্রধানদের সাথে প্রধান উপদেষ্টা দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করবেন বলেও জানান তিনি।

বিগতদিনের অভিজ্ঞতায় বিমসটেকের সম্ভাবনা কতটা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আঞ্চলিক জোটগুলো সব দেশের শক্তিগুলোকে এক জায়গায় এনে বিভিন্ন সমস্যাগুলোর সমাধানের প্রচেষ্টা চালায়। আমাদের এ অঞ্চলে কানেক্টিভিটি অন্যতম প্রধান বিষয়। আঞ্চলিক সহযোগিতা ছাড়া সেটা করা সম্ভব নয়। এই মুহুর্তে আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে যে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে- সেটাও এ অঞ্চেলের দেশ বিশেষ করে ছোট ছোট দেশগুলোকে এককভাবে মোকাবিলা করা অত্যন্ত কঠিন। জোটগতভাবে এই সমস্যাগুলোর সমাধানের চেষ্টা করলে সমাধানের সম্ভাবনা বাড়বে। এজন্য আশাবাদী থাকতে হবে। এটা সত্য ২৫ বছরে বিসমটেক থেকে আমরা উল্লেখযোগ্য ফুটপ্রিন্ট দেখতে পাইনি। তবে এবার প্রথমবারের জন্য কিন্তু বাস্তবভিত্তিক ফোকাস এরিয়া নির্দিষ্ট করা হয়েছে। আমাদের প্রচেষ্টা থাকবে আগামী দিনগুলোতে এগুলো এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বাস্তবসন্মত কার্যক্রম তৈরি করা। আঞ্চলিক সহযোগিতার মাধ্যমে আপনি সমস্যার সমাধান যতটা করতে পারবেন একক শক্তিতে কোন দেশের পক্ষে সেটা করা খুবই দুরহ। এজন্য আমরা অন্তত আশাটা বজায় রাখবো বিসমটেক তার রোলটা প্লে করবে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ বলন, এক জায়গায় গেলে অন্য জায়গার সাথে সম্পর্ক নষ্ট হবে এমন কোন বিষয় নয়। আমাদের সুবিধার জন্য বা পারষ্পারিক সুবিধার জন্য আমরা যতটুকু এগুতে পারি আমরা সেই চেষ্টা করবো। সেই প্রত্যাশায় আমরা সকল দেশের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চাই। কাউকে বাদ দিয়ে আমরা এগুতে চাই না।

বিমসটেকের সম্মেলনে প্রথমদিন ইয়ুথ কনফারেন্সে যোগ দেবেন প্রধান উপদেষ্টা। পরদিন সম্মেলনে বক্তব্য রাখবেন। এছাড়া সাইডলাইনে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। সম্মেলনে তিনটি সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি সই হওয়ার কথা।

ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম, ডেপুটি প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার।

বিমসটেক ১৯৯৭ সালের ৬ জুন ব্যাংককে বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের একটি বৈঠকে একটি নতুন আন্তঃআঞ্চলিক জোট সৃষ্টি করা হয়। সভায় অংশগ্রহণকারী মূল আলোচনাকারী দেশেগুলোর নামের আদ্যাক্ষর অনুযায়ী এই জোটের নাম দেওয়া হয় (বিমসটেক)।