পেশাগত দায়িত্ব পালনে চিকিৎসকরা দেউলিয়ার পথে ?

  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৪
  • 19 পাঠক

দিশারী ডেস্ক। ২২ ফেব্রয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বৈজ্ঞানিক জার্নাল প্রকাশনা সংস্থা উইলিতে প্রকাশিত ‘ডক্তর-পেশেন্ট রিলেশনশিপ: এভিডেন্স ফ্রম বাংলাদেশ’গবেষণায় ওঠে এসেছে, চিকিৎসকের বিষয়ে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে অর্ধেকের বেশি রোগী। গবেষণায় জনসাধারণ, রোগী ও চিকিৎসকের দৃষ্টিভঙ্গি গবেষণায় তুলে আনা হয়েছে।

চিকিৎসকের সম্পর্কে ৮৫ শতাংশ মানুষ নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি দেখিয়েছে। চিকিৎসা প্রদানে চিকিৎসকের আন্তরিকতার অভাব, পর্যাপ্ত সময় না দেয়া, মানসিক বিষয় বিবেচনা না করা, রোগীর নিজস্ব মতামত ও রোগ সম্পর্কে বিস্তারিত না শোনা, বিস্তারিতভাবে ব্যবস্থাপত্র বুঝিয়ে না দেয়া, সামাজিক অবস্থান বিবেচনায় বৈষম্য চিকিৎসকের ওপর অনাস্থার বিষয়গুলো উল্লেখযোগ্য।

দেশে সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা প্রসারের সঙ্গে রোগীর অসন্তুষ্টি ও চিকিৎসা অবহেলায় রোগী মৃত্যুর ঘটনাও বেড়েছে। মানবতার সেবায় নিয়োজিত থাকার শপথ নেয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধেই ওঠছে পেশায় অনৈতিকতা চর্চার অভিযোগ। মূলত বাণিজ্যিক মনোভাব ও খ্যাতির মোহ তাদের দায়িত্বশীলতার জায়গা থেকে সরিয়ে দিচ্ছে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য পেশাজীবীরা। সাম্প্রতিক বেশ কয়েকজন রোগীর মৃত্যুই তার প্রমাণ। অভিযোগ রয়েছে, চিকিৎসায় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের গাফিলতি ও অবহেলাই তাদের মৃত্যুর কারণ।

বাংলাদেশ চিকিৎসা গবেষণা পরিষদের (বিএমআরসি) এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের স্বাস্থ্য পেশাজীবীদের মধ্যে চিকিৎসা নৈতিকতার চর্চা সন্তোষজনক নয়। রোগীকে পর্যাপ্ত সময় না দেয়া, নির্দিষ্ট রোগ নিরীক্ষা কেন্দ্রে পাঠানো, অপ্রয়োজনীয় ওষুধের পরামর্শ ও কোম্পানির কাছ থেকে কমিশন গ্রহণ, অভিযোগ না শোনা এবং বৈষম্যের বিষয়টি বারবার ওঠে আসছে। চিকিৎসা অবহেলা প্রতিকারে আইনগত দুর্বলতাও তাদের পেশাগত নৈতিকতাকে প্রভাবিত করছে। অথচ এর অনুশীলন রোগীর অধিকার রক্ষার পাশাপাশি চিকিৎসকের সুরক্ষার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

দেশের চিকিৎসক পেশাজীবী সংগঠন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সাবেক সভাপতি ও স্বাস্থ্য অধিকার আন্দোলনের জাতীয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. রশীদ-ই-মাহবুব বলেন, চিকিৎসার বিভিন্ন অভিযোগ পৃথিবীর সব জায়গায় রয়েছে। তবে কম বা বেশি। সমস্যাটি হচ্ছে, আমরা রোগীদের বোঝাতে চেষ্টা করি না যে কী ঘটতে পারে। সাধারণ একটা ইনজেকশনের কারণে রোগী মারা যেতে পারে। তবে এর প্রতিকারের ব্যবস্থাও আছে। কেন্দ্রীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না। তবে আঞ্চলিকভাবে মনিটরিং করতে হবে। প্রয়োজন হলে প্রত্যেক চিকিৎসককে পাঁচ বছর পর ওরিয়েন্টেশন করানো, যাতে সে আপগ্রেডেড হতে পারে। একটা জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন করা উচিত।

রাজধানীর মালিবাগে জেএস ডায়াগনস্টিক ও হাসপাতালে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যেয় মৃত্যু হয় মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের চতুর্থ শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীর। সুন্নাতে খতনা করার জন্য তাকে চিকিৎসা কেন্দ্রটিতে ভর্তি করা হয়েছিল। ছোট এ অস্ত্রোপচারের জন্য শিশুটিকে পুরো অজ্ঞান করা হয়েছিল বলে স্বজনদের অভিযোগ। ওই ঘটনায় মঙ্গলবার রাতেই ডা. মোক্তাদির হোসেন ও ডা. মাহবুব হোসেন নামে দুই চিকিৎসককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সেই সঙ্গে হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ করে দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

খতনা করাতে গিয়ে একইভাবে গত ৭ জানুয়ারি প্রাণ হারায় পাঁচ বছরের আরেক শিশু। পুরোপুরি অজ্ঞান করে গত ৩১ ডিসেম্বর রাজধানীর বাড্ডার সাতারকুলে ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল। এ ঘটনায় পরিবারের করা মামলায় অ্যানেস্থেশিয়া বিশেষজ্ঞ ডা. সাঈদ সাব্বির আহমেদ ও সার্জারি চিকিৎসক তাসনুভা মাহজাবিনকে অভিযুক্ত করা হয়।

জেএস ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিদর্শনে এসে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মইনুল আহসান বলেন, চিকিৎসায় গাফলতির কারণে কোনো রোগীর মৃত্যু হলে আইন অনুযায়ী বিচার হবে।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাটি ঘটেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারভেনশনাল হেপাটোলজির অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাবের (স্বপ্নীল) হাতে। রাজধানীর ল্যাবএইড স্পেশালাইজড হাসপাতালের বহির্বিভাগের এক রোগীকে ১৫ ফেব্রুয়ারি তিনি এন্ডোস্কোপি করেন। তবে রোগীর আগের রোগ নিরীক্ষার প্রতিবেদন না দেখেই পরীক্ষাটি করানো হয় বলে অভিযোগ করছেন স্বজনরা।

গণমাধ্যমকে তারা বলছেন, চিকিৎসক স্বপ্নীল চিকিৎসা প্রটোকল না মেনে এন্ডোস্কোপি করিয়েছেন, অ্যানেস্থেশিয়া দিয়েছেন। এতে রোগীর হৃদজটিলতা সৃষ্টি হয়। এমনকি পরীক্ষাটি করার জন্য সেদিন সন্ধ্যে ৬টা সময় দেয়া হলেও চিকিৎসক আসেন রাত ১১টায়। এন্ডোস্কোপি শুরুর পর দেড় ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও রোগীকে বাইরে আনা হচ্ছিল না। পরে তার এক বন্ধু ওই কক্ষে প্রবেশ করে রোগীকে মুমূর্ষু অবস্থায় দেখতে পান। অবস্থা জটিল হলে নেয়া হয় আইসিইউতে। সোমবার ওই রোগীর মৃত্যু হয়।

অভিযোগের বিষয়ে ডা. মামুন আল মাহতাব বলেন, ২০ বছরের বেশি সময় ধরে চিকিৎসা পেশায় আছি। আমি পেশাগত দায়িত্বে অবহেলা করিনি। সেদিন অ্যানেস্থেশিয়ার ব্যবহারই হয়নি। যখন এন্ডোস্কোপি করি, তখন রোগীকে দুটি অফার দিই—ঘুমে করবেন নাকি না ঘুমিয়ে করবেন। ঘুম পাড়িয়ে করতে হলে রোগীকে ঘুমের ওষুধ দেয়া হয়, কোনো অ্যানেস্থেশিয়া দেয়া হয় না। তাও খুব লো ডোজের ওষুধ। যখন এটা করি রোগীর সম্মতি নিয়ে নেয়া হয়। সেদিনও সম্মতি নেয়া হয়েছে। রোগীর অবস্ট্রাক্টিভ স্লিপ অ্যাপেনিয়া ছিল, যা তার স্বজন বা রোগী আমাদের জানায়নি। আর রোগীর যেসব আত্মীয়স্বজন ওইদিনের ঘটনাপ্রবাহ বর্ণনা করছেন, তাদের কেউ সেখানে উপস্থিত ছিলেন না।

চিকিৎসক মামুন আল মাহতাবের বিরুদ্ধে চেম্বারে মধ্যরাতে রোগী দেখা ও প্রয়োজনের বাইরে পরীক্ষা দেয়ার অভিযোগও রয়েছে। তার পরামর্শ নিতে গত সপ্তাহে সত্তরোর্ধ্ব এক রোগীর জন্য অ্যাপয়েন্ট নেয়া হয় রাত ৯টায়। তবে ওইদিন ডা. স্বপ্নীল তার চেম্বারেই প্রবেশ করেন রাত প্রায় ১১টায়। রোগীর স্বজনদের দাবি, অসুস্থ অবস্থায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষার ফলে পরবর্তী সময়ে রোগীর শাররিক অবস্থার অবনতি ঘটে। এমনকি তিনি রোগীর শাররিক সমস্যা বিস্তারিত শোনেননি, এর আগে করা পরীক্ষার রিপোর্ট না দেখেই প্রায় ২৫ ধরনের পরীক্ষা দেন। অথচ একাধিক চিকিৎসক এগুলোকে অপ্রয়োজনীয় বলে উল্লেখ করেছেন। এছাড়া পরীক্ষা-পরবর্তী সময়ে রিপোর্ট দেখাতে গিয়েও ভোগান্তিতে পড়তে হয় ওই রোগীকে। রাত ১২টায় রিপোর্ট নিয়ে আসতে বললেও ডা. স্বপ্নীল চেম্বারে আসেন রাত ২টায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. মামুন আল মাহতাব (স্বপ্নীল) বলেন, আমি সিরিয়াসলি রোগী দেখি কিনা তা সবাই জানেন। আমি প্রভাবশালী চিকিৎসক কিনা জানি না। তবে বলতে পারি আমি বাংলাদেশে সর্বোচ্চসংখ্যক বৈজ্ঞানিক প্রকাশনার অধিকারী চিকিৎসক। আমার সাড়ে তিনশ পাবলিকেশন আছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাউথ-ইস্ট এশিয়া রিজিয়নের অ্যাডভাইজরি কমিটি অ্যান্ড ভাইরাল হেপাটাইটিসের ইনডিপেনডেন্ট মেম্বার। চিকিৎসার পাশাপাশি আমি অনান্য সংগঠন করি, এটার জন্য গর্বিত।

এর আগে গত বছরের জুনে রাজধানীর গ্রিন রোডের সেন্ট্রাল হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) ও জরুরি সেবার মান সন্তোষজনক না হওয়ায় ওই নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছিল। অভিযোগ ছিল, এক প্রসূতিকে চিকিৎসায় অবহেলা ও ভুল চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এতে প্রসূতি ও নবজাতকের মৃত্যু হয়। প্রসূতি ওই হাসপাতালে গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. সংযুক্তা সাহার অধীন ভর্তি ছিলেন।

অভিযোগ রয়েছে, ডা. সংযুক্তা সামাজিক মাধ্যমে রোগীকে প্রভাবিত করেন। বিষয়টিকে অনৈতিক ও চিকিৎসা নৈতিকতা বিরোধী বলে মনে করছেন জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকরা। সংযুক্তা সাহার বিরুদ্ধে চিকিৎসায় অবহেলা ও রোগীদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগও দীর্ঘদিনের। এসব কারণে দুই বছর আগে একটি মেডিকেল কলেজ তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়। এমনকি তিনি মেয়াদোত্তীর্ণ নিবন্ধনে এক যুগের বেশি সময় ধরে চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছিলেন বলে সে সময় ওঠে আসে। প্রসূতি ও নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ এনে তার বিরুদ্ধে তখন ধানমন্ডি থানায় মামলাও করা হয়।

বাম কানের সমস্যা নিয়ে ২০২০ সালের মার্চে রাজধানীর ইমপালস হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন পঁয়ত্রিশোর্ধ্ব এক নারী। তার চিকিৎসার তত্ত্বাবধানে ছিলেন হাসপাতালটির তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) অধ্যাপক ডা. আলী জাহীর আল-আমীন। রোগী বাম কানে সমস্যা নিয়ে ভর্তি হলেও ওই চিকিৎসক তার অস্ত্রোপচার করেন ডান কানে।

অভিযোগ তদন্তে প্রমাণ হওয়ায় ২০২২ সালের ২০ নভেম্বর আলী জাহীর আল-আমীনের চিকিৎসকের নিবন্ধন এক বছরের জন্য স্থগিত করে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি)।

বিএমএ সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন বলেন, আমরা চিকিৎসকের যে শপথ নিয়ে পেশায় প্রবেশ করেছিলাম সে অবস্থা এখন চিকিৎসকদের মধ্যে দেখতে পাচ্ছি না। যে চিকিৎসক সারাদিন ডাক্তারি করে আবার রাত ৩টা-৪টা পর্যন্ত চেম্বার করেন তার তো মস্তিষ্কই কাজ করার কথা নয়। সকাল থেকে সরকারি, দুপুরে একটু রেস্ট নিয়ে মধ্যরাত পর্যন্ত রোগী কেন দেখতে হবে ? আমাদের ডাক্তাররাও আগের মতো নেই। যারা দায়িত্বে আছেন তাদের পর্যবেক্ষণ বাড়ানো উচিত। কিছু চিকিৎসকের যে ভুল হয় না বা অবহেলা করেন না তা বলব না। তবে তার জন্য চিকিৎসকের সর্বোচ্চ আদালত বিএমডিসি রয়েছে। আমাদের জাতীয় সংগঠন বিএমএ রয়েছে। সেখানে যে কেউ অভিযোগ নিয়ে আসতে পারে। চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়।

বিএমডিসির রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মো. লিয়াকত হোসেন বলেন, শপথ নিয়ে চিকিৎসা পেশায় আসতে হয়। পেশাগত নৈতিক চর্চা কেমন হবে তা নিয়ে বিএমডিসির নীতিমালা বা নির্দেশিকা রয়েছে। চিকিৎসকের বিরুদ্ধে পেশাগত অনৈতিকতা ও চিকিৎসায় অভিযোগ এলে বিএমডিসি বিষয়গুলো নিষ্পত্তি করে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কোনো চিকিৎসক অবহেলা করলে তার বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। দেশে এখন এমবিবিএস ও বিডিএস ডিগ্রিধারী নিবন্ধন পাওয়া চিকিৎসক দেড় লাখ। তবে নৈতিকতা হারিয়েছেন এমন অভিযোগ সবাইকে দেয়া যায় না।

সার্বিক বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, যেসব অভিযোগ ওঠছে তার সমাধান করতে হবে। অবশ্যই আমরা যারা চিকিৎসা পেশায় আছি তাদের চিকিৎসাকেই প্রধান পেশা মেনে নেয়া উচিত। অন্য কোনো খ্যাতির মোহে কাজ করা যাবে না। স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন নিয়ে আমরা কাজ করছি। অতি দ্রুততার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে আলোচনা করে সংসদে নেয়ার ব্যবস্থা করব। বর্তমানে শুধু ডাক্তার নয়, সব পেশা এখন আগের চেয়ে অন্য রকম হয়ে গেছে। তবে চিকিৎসা নিয়ে বেশি আলোচনা হয়। কারণ এটা সরসারি মানুষের জীবনের সঙ্গে জড়িত।

অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও ওষুধ দেয়া, রোগী পাঠিয়ে রোগ নির্ণয় কেন্দ্র থেকে কমিশন নেয়া, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সরকারি চিকিৎসকের পেশা চর্চা করতে গিয়ে মূল দায়িত্বে অবহেলা ইত্যাদি মোটাদাগে চিকিৎসা অনৈতিকতা। পেশাগত নৈতিকতার অবস্থান শক্ত হলে চিকিৎসার জন্য রোগীদের নিজস্ব ব্যয় (আউট অব পকেট এক্সপেন্ডিচার) অনেক কমে আসবে বলে মনে করেন জনস্বাস্থ্য ও স্বাস্থ্য অর্থনীতিবিদরা। তারা বলছেন, বর্তমানে কিছু চিকিৎসক খ্যাতির মোহে পড়ে রোগীর কাছে নিজেকে চিকিৎসক হিসেবে উপস্থাপনের চেয়ে তারকা বলে উপস্থাপন করতে বেশি আগ্রহী। অনেক চিকিৎসকই সঠিকভাবে ব্যবস্থাপত্র লেখেন না।

সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!