০৪:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫

আন্দোলন, সংগ্রামে ত্যাগীদের মধ্যে গরীবের সংখ্যা বেশি

  • Akash Md. Jasim Editor
  • আপডেট: ০৬:৩৪:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৫
  • ১১৮

দিশারী ডেস্ক। ২৩ জানুয়ারি, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ।

গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হচ্ছে ভিন্ন মত ও নানান পথ। তবে এখানে ঐক্যের ভিত্তি হতে হবে বাংলাদেশ। সেটার ওপর ভিত্তি করেই এগিয়ে যেতে হবে। ঐকমত্য থাকা মানে মতামত স্থগিত নয়। প্রত্যেকে তাদের মতামত প্রকাশ করবে। গণতন্ত্রের মধ্য দিয়েই শক্তিশালী রাষ্ট্র বিনির্মাণ করতে হবে।

‘‌ জাতীয় ঐক্য: কেন, কিসের ভিত্তিতে এবং কোন পথে  ?’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন বক্তারা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মুজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে ইউনিটি ফর বাংলাদেশ এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

———————————————————–

আলোচনা সভায় বক্তারা

—————————————————-

আলোচনায় অংশ নিয়ে ইংরেজি দৈনিক নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবির বলেন, কার কতটুকু প্রাপ্য তার একটা ন্যায়সংগত অনুপাত মাথায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। যতগুলো রাজনৈতিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে, পরবর্তীকালে তার সীমাবদ্ধতাসহ যে অগ্রগতি সাধিত হয়েছে, সেসব আন্দোলন সংগ্রাম বা যুদ্ধে যাদের অবদান সবচেয়ে বেশি, রাষ্ট্রের কাছ থেকেও তাদের পাওনা বেশি। সব আন্দোলন সংগ্রামে ত্যাগীদের মধ্যে গরিব মানুষের সংখ্যা বেশি। বায়ান্ন, ঊনসত্তর, এমনকি একাত্তরে যারা অংশ নিয়েছিলেন তাদের মধ্যে গরিব মানুষই বেশি। গণ-অভ্যুত্থানে যারা মৃত্যুবরণ করেছেন, সবার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বলব সেখানেও গরিব মানুষের সংখ্যা বেশি।

তিনি বলেন, ভিন্ন ভিন্ন শক্তি, যারা রাজনীতিতে প্রাধান্য বিস্তার করে আছেন, তারা আপন আপন দল বা জনগোষ্ঠীর পক্ষে কাজ করতে পারেন। কিন্তু যাদের আত্মদানের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়া যায়, তাদের ভুলে গেলে আমরা অপরাধী বলব। গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সৃষ্ট ঐক্য ভেঙে যাচ্ছে বলে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। আমি মনে করি উদ্বেগের কিছু নেই। প্রত্যেক রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের আপন আপন আদর্শ থাকে, সেই অনুযায়ী কর্মসূচি থাকে। সমাজে অনেকগুলো সংগঠনের মধ্যে আরেকটি সংগঠন হওয়ার অর্থ হলো নতুনটার সঙ্গে যারা যুক্ত থাকেন বিদ্যমান সংগঠনগুলোর সঙ্গে তারা একমত পোষণ করেন না। এ কারণেই নতুন সংগঠন তৈরি হয়।

ছাত্র-জনতার আন্দোলনে যারা নেতৃত্বে ছিলেন তাদের কারো বর্তমান সরকারের অংশ হওয়া উচিত হয়নি বলে উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, বাইরে থেকে যে চাপ আমরা সৃষ্টি করতে পারতাম, সেটি অনেকাংশে কমে গেছে। এটা হয়তো এখনো অনেকেই বলেন না। এটা বাস্তবতা। সেখানে তারা না গেলে ভালো করতেন।

———————————————————————————————–

গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হচ্ছে ভিন্ন মত ও নানান পথ। তবে এখানে ঐক্যের ভিত্তি হতে হবে বাংলাদেশ। সেটার ওপর ভিত্তি করেই এগিয়ে যেতে হবে। ঐকমত্য থাকা মানে মতামত স্থগিত নয়।

—————————————————————————————————-

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেন, সাধারণভাবে অন্তর্বর্তী সরকার সবার ঐকমত্যের ভিত্তিতে গঠিত হয়েছে। তবে সরকারের সমালোচনা রয়েছে। ঐকমত্য থাকা মানে মতামত স্থগিত নয়। প্রত্যেকে তাদের মতামত প্রকাশ করবে। আমরা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়তে চাই। গণতান্ত্রিক বন্দোবস্তের দিকে যাব, নাকি শক্তিশালী রাষ্ট্র বিনির্মাণ করব, সে প্রশ্ন বেশ কিছুদিন ধরে ওঠছে।

তিনি বলেন, আমি মনে করি গণতন্ত্রের মধ্য দিয়েই শক্তিশালী রাষ্ট্র বিনির্মাণ করতে হবে। জনগণের অধিকার শক্তিশালী করতে হবে, জনআকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দিতে হবে। নির্বাচনের জন্য সংস্কার প্রয়োজন। আবার মৌলিক কাঠামোগত সংস্কারের জন্যও নির্বাচন প্রয়োজন। যে সংস্কার আমরা করতে যাচ্ছি, সেটি জনগণের ইচ্ছা ও অভিপ্রায় অনুযায়ী হতে হবে।

সিপিবি কেন্দ্রীয় সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য ও রাকসুর সাবেক ভিপি রাগিব আহসান মুন্না বলেন, চব্বিশের অভ্যুত্থানের ফলে নতুন ধরনের দাবি তৈরি হয়েছে। এ দাবির বাস্তবায়ন করতে পুরনো শাসন কাঠামো পরিবর্তন করতে হবে। পুঁজিবাদী শাসন ব্যবস্থা থেকে বের হতে না হতে অভ্যুত্থান ব্যর্থ হবে। জাতি পরিবর্তনের ঐক্য দেখতে চায়। বর্তমান সরকার জনগণের অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এসেছে, বিরোধিতা নেই। আমাদের ঐক্য সেই জায়গায় হতে হবে সেখানে দরিদ্র জনগোষ্ঠী পররাষ্ট্রনীতি ঠিক করবে, শাসন ব্যবস্থা ঠিক করবে। সমাজের দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে ক্ষমতায়নের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। সমাজে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে সামনে নিয়ে না এলে অভ্যুত্থান ব্যর্থ হবে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. স্নিগ্ধা রেজওয়ানা বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে ফ্যাসিবাদ শব্দটি বারবার ব্যবহারের ফলে যদি সরকারই ফ্যাসিবাদী হয়ে ওঠে, তাহলে ঐক্য সম্ভব নয়। ঐক্যবদ্ধ থাকতে হলে ভেদাভেদ ভুলে একসঙ্গে চলতে হবে।

লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আমিনুল করিম বলেন,  সবকিছুতেই জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজন নেই। মৌলিক বিষয়গুলোয় জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন। সেজন্য আগে মৌলিক বিষয়গুলোকে চিহ্নিত করা প্রয়োজন। আমাদের রাজনৈতিক সাংস্কৃতিতে সমস্যা রয়েছে, সেটি পরিবর্তন করতে হবে। আমাদের দলগুলোর মধ্যে অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের চর্চা বাড়াতে হবে। নির্বাচনের খরচ ঠিক করতে হবে। এছাড়া আমাদের অন্যতম বড় সংকটের জায়গা মূল্যবোধের অবক্ষয়। এটা ঠিক না করতে পারলে কোনো কিছুই ঠিক হবে না।

আন্দোলন, সংগ্রামে ত্যাগীদের মধ্যে গরীবের সংখ্যা বেশি

আপডেট: ০৬:৩৪:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৫

দিশারী ডেস্ক। ২৩ জানুয়ারি, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ।

গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হচ্ছে ভিন্ন মত ও নানান পথ। তবে এখানে ঐক্যের ভিত্তি হতে হবে বাংলাদেশ। সেটার ওপর ভিত্তি করেই এগিয়ে যেতে হবে। ঐকমত্য থাকা মানে মতামত স্থগিত নয়। প্রত্যেকে তাদের মতামত প্রকাশ করবে। গণতন্ত্রের মধ্য দিয়েই শক্তিশালী রাষ্ট্র বিনির্মাণ করতে হবে।

‘‌ জাতীয় ঐক্য: কেন, কিসের ভিত্তিতে এবং কোন পথে  ?’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন বক্তারা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মুজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে ইউনিটি ফর বাংলাদেশ এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

———————————————————–

আলোচনা সভায় বক্তারা

—————————————————-

আলোচনায় অংশ নিয়ে ইংরেজি দৈনিক নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবির বলেন, কার কতটুকু প্রাপ্য তার একটা ন্যায়সংগত অনুপাত মাথায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। যতগুলো রাজনৈতিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে, পরবর্তীকালে তার সীমাবদ্ধতাসহ যে অগ্রগতি সাধিত হয়েছে, সেসব আন্দোলন সংগ্রাম বা যুদ্ধে যাদের অবদান সবচেয়ে বেশি, রাষ্ট্রের কাছ থেকেও তাদের পাওনা বেশি। সব আন্দোলন সংগ্রামে ত্যাগীদের মধ্যে গরিব মানুষের সংখ্যা বেশি। বায়ান্ন, ঊনসত্তর, এমনকি একাত্তরে যারা অংশ নিয়েছিলেন তাদের মধ্যে গরিব মানুষই বেশি। গণ-অভ্যুত্থানে যারা মৃত্যুবরণ করেছেন, সবার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বলব সেখানেও গরিব মানুষের সংখ্যা বেশি।

তিনি বলেন, ভিন্ন ভিন্ন শক্তি, যারা রাজনীতিতে প্রাধান্য বিস্তার করে আছেন, তারা আপন আপন দল বা জনগোষ্ঠীর পক্ষে কাজ করতে পারেন। কিন্তু যাদের আত্মদানের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়া যায়, তাদের ভুলে গেলে আমরা অপরাধী বলব। গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সৃষ্ট ঐক্য ভেঙে যাচ্ছে বলে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। আমি মনে করি উদ্বেগের কিছু নেই। প্রত্যেক রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের আপন আপন আদর্শ থাকে, সেই অনুযায়ী কর্মসূচি থাকে। সমাজে অনেকগুলো সংগঠনের মধ্যে আরেকটি সংগঠন হওয়ার অর্থ হলো নতুনটার সঙ্গে যারা যুক্ত থাকেন বিদ্যমান সংগঠনগুলোর সঙ্গে তারা একমত পোষণ করেন না। এ কারণেই নতুন সংগঠন তৈরি হয়।

ছাত্র-জনতার আন্দোলনে যারা নেতৃত্বে ছিলেন তাদের কারো বর্তমান সরকারের অংশ হওয়া উচিত হয়নি বলে উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, বাইরে থেকে যে চাপ আমরা সৃষ্টি করতে পারতাম, সেটি অনেকাংশে কমে গেছে। এটা হয়তো এখনো অনেকেই বলেন না। এটা বাস্তবতা। সেখানে তারা না গেলে ভালো করতেন।

———————————————————————————————–

গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হচ্ছে ভিন্ন মত ও নানান পথ। তবে এখানে ঐক্যের ভিত্তি হতে হবে বাংলাদেশ। সেটার ওপর ভিত্তি করেই এগিয়ে যেতে হবে। ঐকমত্য থাকা মানে মতামত স্থগিত নয়।

—————————————————————————————————-

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেন, সাধারণভাবে অন্তর্বর্তী সরকার সবার ঐকমত্যের ভিত্তিতে গঠিত হয়েছে। তবে সরকারের সমালোচনা রয়েছে। ঐকমত্য থাকা মানে মতামত স্থগিত নয়। প্রত্যেকে তাদের মতামত প্রকাশ করবে। আমরা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়তে চাই। গণতান্ত্রিক বন্দোবস্তের দিকে যাব, নাকি শক্তিশালী রাষ্ট্র বিনির্মাণ করব, সে প্রশ্ন বেশ কিছুদিন ধরে ওঠছে।

তিনি বলেন, আমি মনে করি গণতন্ত্রের মধ্য দিয়েই শক্তিশালী রাষ্ট্র বিনির্মাণ করতে হবে। জনগণের অধিকার শক্তিশালী করতে হবে, জনআকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দিতে হবে। নির্বাচনের জন্য সংস্কার প্রয়োজন। আবার মৌলিক কাঠামোগত সংস্কারের জন্যও নির্বাচন প্রয়োজন। যে সংস্কার আমরা করতে যাচ্ছি, সেটি জনগণের ইচ্ছা ও অভিপ্রায় অনুযায়ী হতে হবে।

সিপিবি কেন্দ্রীয় সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য ও রাকসুর সাবেক ভিপি রাগিব আহসান মুন্না বলেন, চব্বিশের অভ্যুত্থানের ফলে নতুন ধরনের দাবি তৈরি হয়েছে। এ দাবির বাস্তবায়ন করতে পুরনো শাসন কাঠামো পরিবর্তন করতে হবে। পুঁজিবাদী শাসন ব্যবস্থা থেকে বের হতে না হতে অভ্যুত্থান ব্যর্থ হবে। জাতি পরিবর্তনের ঐক্য দেখতে চায়। বর্তমান সরকার জনগণের অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এসেছে, বিরোধিতা নেই। আমাদের ঐক্য সেই জায়গায় হতে হবে সেখানে দরিদ্র জনগোষ্ঠী পররাষ্ট্রনীতি ঠিক করবে, শাসন ব্যবস্থা ঠিক করবে। সমাজের দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে ক্ষমতায়নের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। সমাজে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে সামনে নিয়ে না এলে অভ্যুত্থান ব্যর্থ হবে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. স্নিগ্ধা রেজওয়ানা বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে ফ্যাসিবাদ শব্দটি বারবার ব্যবহারের ফলে যদি সরকারই ফ্যাসিবাদী হয়ে ওঠে, তাহলে ঐক্য সম্ভব নয়। ঐক্যবদ্ধ থাকতে হলে ভেদাভেদ ভুলে একসঙ্গে চলতে হবে।

লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আমিনুল করিম বলেন,  সবকিছুতেই জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজন নেই। মৌলিক বিষয়গুলোয় জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন। সেজন্য আগে মৌলিক বিষয়গুলোকে চিহ্নিত করা প্রয়োজন। আমাদের রাজনৈতিক সাংস্কৃতিতে সমস্যা রয়েছে, সেটি পরিবর্তন করতে হবে। আমাদের দলগুলোর মধ্যে অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের চর্চা বাড়াতে হবে। নির্বাচনের খরচ ঠিক করতে হবে। এছাড়া আমাদের অন্যতম বড় সংকটের জায়গা মূল্যবোধের অবক্ষয়। এটা ঠিক না করতে পারলে কোনো কিছুই ঠিক হবে না।