সোনাপুর পল্লী বিদ্যুতে অনুমানের বিল ?

  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬
  • ১২ পাঠক

দিশারী ডেস্ক।। ৩০ জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ।।

———————————————————————————————-

ধর্মপুরে আলতাফ হোসেনের বসত ঘরের ওপর দিয়ে ভিন্ন বাড়ির গ্রাহককে দেয়া হয়েছিল বৈদ্যুতিক লাইন। আলতাফ ঘরটি মেরামতসহ পুণনিমার্ণ করতে গেলে ওই তারের বিপত্তির বিষয়ে অভিযোগ দিয়েছেন সদরস্থ সোনাপুর কার্যালয়ে। এসময় তাকে ওই দপ্তর থেকে জানিয়ে দেয়া হয়, কমপক্ষে এক লাখ টাকা দেয়া ছাড়া এ তার অন্যভাবে সংযোগ করা সম্ভব নয়।

আর এমন বিষয়ে কথা বলতে ওই কার্যালয়ের ডিডিএমকে একাধিকার চেষ্টা করেও তার কার্যালয়ে দেখা মেলেনি। কর্মচারীরা জানান, তিনি ইচ্ছে হলে আসেন। না হলে আসেননা।

অথচ, আলতাফের বসতি ঘরের ওপর এ তারটি মারাত্বক ঝুঁকিপূর্ণ। যে কোন সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন ওই পরিবার।

—————————————————————————————————

বিদ্যুৎ ব্যবহার প্রায় একই ; কিন্তু মাস শেষে বিলের অঙ্ক দ্বিগুণ, কোথাও তিন গুণ। এমনকি দীর্ঘ সময় লোডশেডিংয়ের মধ্যেও অস্বাভাবিক বিল হাতে পেয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন অনেক গ্রাহক। নোয়াখালীর সদরের পল্লী বিদ্যুতের বিল নিয়ে এমন অভিযোগই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। গ্রাহকদের অভিযোগ, প্রকৃত মিটার রিডিংয়ের বদলে অনেক ক্ষেত্রে তৈরি করা হচ্ছে অনুমাননির্ভর বিল। এমন বিলে নাজেহাল তারা। যদিও পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ বলছে, অভিযোগ পাওয়া গেলে তা যাচাই করে নেয়া হবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা।

অবশ্য বিদ্যুৎ বিল নিয়ে এ ধরনের অভিযোগ নতুন নয়। চলতি মাসে দুই অঞ্চলের গ্রাহকদের ভোগান্তি একই হওয়ায় বিষয়টি আলোচনায় এসেছে নতুন করে। নোয়াখালীর সদরের ধর্মপুরসহ প্রায় গ্রামে চলতি মাসে বিভিন্ন এলাকার গ্রাহকরা অতিরিক্ত ও অসংগতিপূর্ণ বিদ্যুৎ বিল পাওয়ার অভিযোগ করেছেন।

তাদের দাবি, দীর্ঘ সময় লোডশেডিং থাকার পরও হঠাৎ করেই বিল বেড়ে গেছে অস্বাভাবিকভাবে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নিয়মিত প্রতিবাদ জানাচ্ছেন ভুক্তভোগীরা।

————————————————————————————————————

স্থানীয় গ্রাহক সেলিম মিয়ার বিদ্যুৎ-সংযোগে আগের চেয়ে চলতি মাসের বিলে দেখানো হয়েছে দ্বিগুন। তিনি জানান, গত মাসের চেয়ে এ মাসে অনেক বেশি বিল দেয়া হয়েছে তাঁকে। অথচ আগে ফ্যান, লাইট যা ছিল , এখনো হুবহু তাই রয়েছে বলে দাবি করছেন তিনি।

ভাটিরটেক বাজারের ব্যবসায়ী মামুনের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে মিটার দেখে রিডিং নেয়ার পরিবর্তে অফিসে বসেই তৈরি করা হচ্ছে অনুমাননির্ভর বিল। ফলে স্বাভাবিক ব্যবহারের তুলনায় দ্বিগুণ-তিন গুণ বিল গুনতে হচ্ছে গ্রাহকদের।

————————————————————————————————————

শুধু আর্থিক চাপ নয়, এতে সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থাও কমছে বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা। কার্যকর তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

যদিও অভিযোগের বিষয়ে বেতাগী সাব-জোনাল অফিসের সহকারী মহাব্যবস্থাপকের ভাষ্য, বিদ্যুৎ ব্যবহার বেশি হওয়া বা মিটার রিডিংয়ে কোনো ভুল থাকলে অভিযোগ যাচাই করে দ্রুত সমন্বয় করা হবে বিদ্যুৎ বিল।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গ্রাহকদের অভিযোগের বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হোমায়রা ইসলামেরও নজরে এসেছে। অনুমানভিত্তিক বিল গ্রহণযোগ্য নয় উল্লেখ করে তিনি বললেন, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে নেয়া হবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা।

ধর্মপুরের মতোই প্রায় একই ধরনের অভিযোগ ওঠেছে নোয়াখালীর কবিরহাটেও। সেখানে শুধু অভিযোগই নয়, অতিরিক্ত বিল নিয়ে সরাসরি সাব-জোনাল অফিসে নিয়মিত ভিড় করছেন অসংখ্য গ্রাহক।

গত মঙ্গলবার বিল পরিশোধের দিন পল্লী বিদ্যুতের সাব-জোনাল অফিসে গিয়ে দেখা গেছে, বিল জমা দেয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত বিলের অভিযোগ জানাতেও সহকারী মহাব্যবস্থাপকের কার্যালয়ের সামনে ভিড় করেছেন অসংখ্য গ্রাহক। অনেকের হাতেই ছিল আগের ও চলতি মাসের বিল। তাদের প্রশ্ন , ব্যবহার প্রায় একই থাকলেও বিল এত বেড়ে গেল কীভাবে ?

ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের বাসিন্দা আলমগীর হোসেনের ভাষায়, দুই মাস আগেও তার বিদ্যুৎ বিল যা ছিল, হঠাৎ এ মাসে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে দ্বিগুণ।

একই অভিযোগ বাজারের ব্যবসায়ী রবিউল হাসান, আপেল ও পাপেলসহ কয়েকজন ব্যবসায়ীর। তাদের দাবি, দোকানের বিদ্যুৎ ব্যবহার প্রায় একই থাকলেও কয়েক মাসের ব্যবধানে দ্বিগুণের বেশি হয়ে গেছে বিল। এতে কঠিন হয়ে পড়ছে ব্যবসা পরিচালনা করা। গ্রাহকদের অভিযোগের সঙ্গে স্থানীয়দের পর্যবেক্ষণও মিলছে। তাদের মতে, সমস্যার মূল কারণ খুঁজে বের না করলে এমন ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে।

————————————————————————————————————–

আইনজীবী কবির আহমেদ চৌধুরীর মতে, দীর্ঘদিন ধরেই অনেক মিটারের রিডিং নির্ধারিত সময়ে নেয়া হয় না। ফলে একাধিক মাসের ইউনিট একসঙ্গে যুক্ত হয়ে অতিরিক্ত বিল আসে। নিয়মিত মিটার রিডিং এবং বিলিং ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে, এ ধরনের সমস্যা কমে আসবে অনেকটাই।

————————————————————————————————————–

চলতি বছরের জুনে পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ বা প্রতি ইউনিটে ১ টাকা ৩৯ পয়সা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। আর গ্রাহক পর্যায়ে বাড়ানো হয়েছে গড়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ বা ১ টাকা ৫২ পয়সা। এ ছাড়া সঞ্চালন চার্জ বেড়েছে ২৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ। নতুন এ দাম কার্যকর হয়েছে জুন থেকেই।

সদর সাব-জোনাল অফিসের সহকারী মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, আগের তুলনায় লোডশেডিং কম থাকায় বেড়েছে বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ। পাশাপাশি বেড়েছে ইউনিটের দামও। এ দুটি কারণেই অনেকের বিল বেশি এসেছে। তবে কোনো গ্রাহকের মিটার রিডিং বা বিলে অসংগতির অভিযোগ থাকলে তা যাচাই করে নেয়া হবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা।

কিন্তু এ ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন অধিকাংশ গ্রাহক। তাদের দাবি, প্রকৃত ব্যবহার না বাড়লেও কেন বিল অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, তার নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে। একই সঙ্গে প্রতিটি মিটারের নিয়মিত রিডিং গ্রহণ, বিল প্রস্তুত প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

 

 

সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!