রাইসিরা মানুষের হৃদয়ে বাস করবেন, শতাব্দীর পর শতাব্দী

  • আপডেট সময় সোমবার, মে ২০, ২০২৪
  • 90 পাঠক

—————————

এ কে এম ফারুক হোসেন 

—————————

বর্তমান বিশ্বে সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের ও তাদের যায়নবাদী নীতির বিরুদ্ধে যিনি প্রায় একাই রুখে দাঁড়িয়েছিলেন, যিনি সত্যের পক্ষে অবিচল দাড়িয়ে অবিরাম সংগ্রাম করে গেছেন ; সেই ইরানের রাষ্ট্রপতি ইব্রাহিম রাইসোলসাদাতি বিশ্বখ্যাত ইব্রাহিম রাইসি নামে পরিচিত মহান নেতা গতকাল ১৯ মে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

এ সময় তাঁর সাথে থাকা সফরসঙ্গী ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির আবদুল্লাহ হিয়ানসহ আরো দু’জন মোট ৪ জন আরোহীর সকলেই মৃত্যু বরণ করেন। ১৯৭৯ সালের ইরানে ইসলামি বিপ্লবের পর ৮ম রাষ্ট্রপতি হিসেবে ২০২১ সালে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

ডিসেম্বর ১৯৬০ সালে জন্মগ্রহনকারী ইব্রাহিম রাইসি গতকাল ১৯ মে ২০২৪ সালে হেলিকপ্টার বিস্ফোরণে মৃত্যু বরণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৩ বছর।

বৈবাহিক জীবনে তিনি ইরানের রাজধানী তেহরানের একটি মসজিদের ইমামের মেয়েকে বিয়ে করেন। তার ২ টি কন্যা সন্তান রেখে গ্যাছেন।ইব্রাহিম রাইসি উড়ে এসে জুড়ে বসা কোনো নেতা নন।আন্দোলন সংগ্রামের রয়েছে তার দীর্ঘ ইতিহাস।

১৯৭৯ সালে প্রতিবাদকারী জনতা ইরানের স্বৈরাচার রেজাশাহ পাহলভীর বিরুদ্ধে বিপ্লব সংঘটিত হওয়ার সময় রাইসির তেজোদৃপ্ত জ্বালাময়ী ভাষণে সাধারণ মানুষকে যেমন উজ্জীবিত করেছেন সেটা ইরানের ইতিহাসে আলাদা জায়গা করে নিয়েছেন।

দীর্ঘ সময়ে বিচারক হিসেবে কাজ করাকালীন ১৯৮৮ সালে আমেরিকার সিআইয়ের ৪ জনকে ফাঁসির দণ্ডাদেশ দেয়া ৪ বিচারকের মধ্যে রাইসি ছিলেন অন্যতম। সেই ঘটনার পরপরই আমেরিকা রাইসিকে স্যাংশন দেয়, যা মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বহাল ছিল।

রাইসি এমন একজন রাষ্ট্র প্রধান, যার সময়ে সন্ত্রাসী রাষ্ট্র ইসরায়েলে মিসাইল ও ড্রোন হামলা করা হয়। যেটা কিনা ইসরায়েল রাষ্ট্র সৃষ্টির ৭৫ বছরের মধ্যে আর কারোর সময়ে ঘটেনি। তিনি বলেছেন, যতদিন মজলুম ফিলিস্তিনের মানুষের বিরুদ্ধে ইসরায়েল গণহত্যা বন্ধ করবে না , ততদিন ইরানের হামলা অব্যাহত থাকবে। তিনি তার কথা রেখেছেন।

আধুনিক মুসলিম বিশ্বে এমন শাসক যার কথা ও কাজে মিল আছে যিনি সত্যের পক্ষে অবিচল রাইসি ছাড়া আর কে আছেন ? যে মুহুর্তে ফিলিস্তিনের বিজয় সন্নিকটে হানাদার ইসরায়েলের পরাজয় সময়ের ব্যাপার মাত্র , ঠিক তখনই রহস্য জনক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত। সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকা, যুক্তরাজ্য ও সন্ত্রাসী যায়নবাদী ইসরায়েলের নৃশংস হামলার বলি কিনা সেটা সময় হলে জানা যাবে।

তবে যায়নবাদীরা জানেইনা রইসিরা মৃত্যুকে পরোয়া করে না।তারা শাহাদাতের পেয়ালা পানের জন্য সবসময় প্রস্তুত থাকে। তা-নাহলে একজন প্রেসিডেন্ট পুরাতন একটি হেলিকপ্টারে চড়ে আজারবাইজান সীমান্তে যাওয়ার সাহস রাখতেন না।তাও আবার এমন এক সময় যখন চিরশত্রু আমেরিকা ও ইসরায়েলের সাথে ছায়া যুদ্ধ চলছে !

ইসলামের অকুতোভয় সৈনিকরা অকাতরে প্রাণ বিসর্জন দেন তার পরবর্তী প্রজন্মের জন্য। রইসির পূর্ববর্তী প্রজন্ম থেকে প্রাপ্ত জ্ঞান-বিজ্ঞান ব্যবহার চর্চা করে আজ সারা পৃথিবীতে বিষ্ময়কর জাতি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছে।

ষড়যন্ত্রকারীরা রাতের আধারে কাপুরুষোচিত নীলনকশা তৈরি করে এমন মহান বিপ্লবীদের জীবন নাশ করতে পারলেও তাদের আদর্শ থেকে যাবে পৃথিবীতে।

অনাগত ভবিষ্যত প্রজন্ম ঠিকই এখান থেকে খুঁজে নেবে লড়াই করার চেতনা। যে চেতনা একদিন সাম্যের পৃথিবী গঠনে ভূমিকা রাখবে।রাইসিরা মজলুম মানুষের হৃদয়ে বাস করবেন শতাব্দীর পর শতাব্দীতে।

লেখক : সাংবাদিক।

সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!