এস আহমদ খান সাইফুল ।। ঢাকা অফিস।।
১৬ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ।।
রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার পর রাষ্ট্র পরিচালনার পাশাপাশি দল গোছানোর চিন্তা ও চেতনার বাস্তবতায় মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। সামনে জাতীয় কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে দলটির ভেতরে শুরু হয়েছে ব্যাপক সাংগঠনিক পুনর্গঠনের প্রস্তুতি।
সূত্র জানায়, বিএনপিতে মূল দল থেকে শুরু করে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকাকে কেন্দ্র করে নতুন নেতৃত্ব আনার বিষয়ে চলছে জোর আলোচনা। দলীয় সূত্র বলছে, ঈদুল আজহার পরপরই সাংগঠনিক পরিবর্তনের দৃশ্যমান প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।
এই পুনর্গঠনের সবচেয়ে বড় আলোচনার জায়গা এখন বিএনপির মহাসচিব পদ। বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা, আন্দোলনে ভূমিকা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা বিবেচনায় একাধিক নেতার নাম ঘুরছে দলীয় অন্দরে। প্রশ্ন ওঠেছে-কে হচ্ছেন বিএনপির নতুন মহাসচিব ?
দলীয় আলোচনা ও রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত নাম সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভীর। দীর্ঘদিন ধরে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনা, আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা, সংবাদ সম্মেলন এবং দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে তিনি সামনের সারিতে রয়েছেন। বিশেষ করে কঠিন সময়ে দলের মুখপাত্র হিসেবে তার ভূমিকা তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যেও আলাদা গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছে। ফলে ‘ ফুলটাইম অর্গানাইজার ’ হিসেবেই তাকে সবচেয়ে এগিয়ে রাখা হচ্ছে আলোচনায়।
কিন্তু তিনি শাররিকভাবে খুবই ক্লান্ত ও প্রায় নুব্জ। যে কারণে মাঠপর্যায়ে কাজ করায় সক্ষমতা না থাকায় তিনি দলের জন্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে দলে অন্য কোথাও সম্মানিত করা হতে পারে।
তবে সমান গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের নামও। রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণ এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তার অভিজ্ঞতা দলীয় নেতৃত্বের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত। যদিও বর্তমানে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকায় দল ও সরকারের ভারসাম্য কীভাবে বজায় থাকবে—সেই প্রশ্নও সামনে আসছে।
—————————————————————————————————
আলোচনায় রয়েছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীও। আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, কূটনৈতিক তৎপরতা এবং অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণে সক্রিয় এই নেতা দলের শীর্ষ মহলের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত। বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগে তার ভূমিকা বিএনপির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও মাঠপর্যায়ের রাজনীতিতে তুলনামূলক কম সক্রিয়তা তাকে কিছুটা পিছিয়ে রাখতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।
—————————————————————————————————
অন্যদিকে মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকার কারণে আলোচনায় ওঠে এসেছে যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির নাম। ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসা এই নেতা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয়। কর্মীদের সংগঠিত রাখা এবং সাংগঠনিক সংকট মোকাবিলায় তার দক্ষতা দলীয় মহলে ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে। তবে তিনি বিভিন্ন সময়ে বক্তৃতা , বিবৃতিতে সংবেদনশীলতা হারিয়ে ফেলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তৃণমূলভিত্তিক রাজনীতিতে সক্রিয় থাকায় আলোচনায় রয়েছেন হাবিব উন নবী খান সোহেলও। ছাত্রদল থেকে ওঠে আসা এ নেতার সঙ্গে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের যোগাযোগ দৃঢ় বলে মনে করা হয়। দল যদি তৃণমূলকেন্দ্রিক নেতৃত্বকে অগ্রাধিকার দেয়, তাহলে তার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না।
তাছাড়া, তাঁকে সরকারেও অংশীদারিত্ব করা হয়নি। বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, তাঁকে দলের সাংগঠনিক কাজে নিয়োজিত করার চিন্তা ভাবনা থেকেই সরকারের চেয়ারে নেয়া হয়নি।
এ ছাড়া মিডিয়ায় বিশ্লেষণধর্মী বক্তব্য ও রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে আলোচনায় আছেন সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। যদিও সরাসরি সাংগঠনিক কার্যক্রমে সীমিত সম্পৃক্ততার বিষয়টি তার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে তাঁর বিদ্যা, বুদ্ধির চর্চা ও একজন পরিশীলিত আচরণের মানুষ হিসেবে তাঁকেও সম্ভাবনার খাতায় উড়িয়ে দেয়া যায়না।
অভিজ্ঞতার বিচারে আলোচনায় রয়েছেন আমান উল্লাহ আমানও। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মন্ত্রীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। তবে বর্তমান বাস্তবতায় বিএনপি তুলনামূলক তরুণ ও মাঠসক্রিয় নেতৃত্বের দিকেই ঝুঁকতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এছাড়া আলোচনায় রয়েছে, খায়রুল কবির খোকনের নামও। সংগঠক হিসেবে পরিচিত হলেও জাতীয় পর্যায়ে এখনো বড় প্রভাব তৈরি করতে পারেননি তিনি। তবে দল যদি বড় ধরনের পরিবর্তনের পথে হাঁটে, তাহলে নতুন সমীকরণে তার নামও সামনে চলে আসতে পারে।
Leave a Reply