দিশারী ডেস্ক।। ২৮ জুন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ।।
দেশে বেড়েছে ঘুষের শিকার মানুষের সংখ্যা। আর এই ঘুষ নেয়ার ক্ষেত্রে শীর্ষে রয়েছেন সরকারি চাকরিজীবীরা। প্রতি ১০০ জন সরকারি চাকরিজীবীর মধ্যে ৯১ জন ঘুষ নেন। সংখ্যাটি অন্য যেকোনো খাতের প্রায় পাঁচ গুণ।
এই পরিসংখ্যান ওঠে এসেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) সবশেষ প্রতিবেদনে। এর তথ্য অনুযায়ী, সরকারি কর্মকর্তাদের পরের ধাপেই আছেন রাজনীতিবিদরা। প্রতি ১০০ জন রাজনৈতিক ব্যক্তি বা জনপ্রতিনিধির মধ্যে ১৯ জন ঘুষ নেন। ঘুষ নেয়ার তালিকায় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের পরেই অবস্থান দালালদের। গত বৃহস্পতিবার ‘ জাতীয় খানা জরিপ-২০২৫’-এর ফলাফল নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে টিআইবি। যে জরিপে অংশ নেন ১৫ হাজার ৭১৫ পরিবারের সদস্যরা।
——————————————————————————————————–
টিআইবি প্রতিবেদন
ঘুষ নেয়ার শীর্ষে সরকারি চাকরিজীবী, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রাজনৈতিক ব্যক্তি।।
ঘুষ না দিলে সেবা পায় না ৮২% মানুষ।।
নির্ধারিত প্রক্রিয়া এড়াতে ১১% মানুষ ঘুষ দেন।।
দায়িত্ব অবহেলার কারণে ৫৫% মানুষ সেবা বঞ্চিত।।
———————————————————————————————————-
অংশগ্রহণকারীদের দেয়া তথ্যের সন্নিবেশ থেকে দেখা গেল, ৯১ দশমিক ২ শতাংশ সরকারি চাকরিজীবী ঘুষ নেন। রাজনৈতিক ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে ঘুষ নেন ১৮ দশমিক ৯ শতাংশ, ১৮ দশমিক ১ শতাংশ দালাল রয়েছেন এরপরের তালিকায়। এমনকি নিরাপত্তা প্রহরীরাও ঘুষ নেন, এমন তথ্য ওঠে এসেছে জরিপে।
প্রশ্ন হচ্ছে, শতাংশে হিসাব করলেও মোট ঘুষ নেয়া ব্যক্তির সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়ে যাচ্ছে কীভাবে ? জবাব দিলেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বললেন, ‘একজন ব্যক্তি একাধিক মাধ্যমে সেবা নেন। ফলে একাধিক জায়গায় তার অভিজ্ঞতা থাকে। এখানে মিশ্র হয়েছে। অনেকেই একাধিক উত্তর দিয়েছেন। তাই যোগফল ১০০ পেরিয়ে যাচ্ছে।’
টিআইবির পর্যবেক্ষণ বলছে, সরকারি সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে ঘুষ ও অনিয়ম এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। জরিপের ফলাফলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধেও উল্লেখযোগ্য অভিযোগ ওঠেছে, যা জনসেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তাকে ফের এনেছে সামনে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকারি সেবা পাওয়ার জন্য ঘুষ দিতে বাধ্য হচ্ছে ৯৮ দশমিক ১ শতাংশ মানুষ। যার মধ্যে প্রায় ৮২ শতাংশ মানুষ মনে করেন ঘুষ না দিলে সরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রত্যাশিত সেবা পাওয়া যায় না। আর ৩৩ শতাংশের বেশি মানুষ মনে করেন, সময়মতো কাজ পেতে ঘুষ দিতেই হবে। নির্ধারিত ফি জানা না থাকায় ৫৮ শতাংশ মানুষ ঘুষ দিতে বাধ্য হচ্ছে সরকারি সেবা পেতে। আবার অতিরিক্ত সুবিধা পাওয়ার জন্য কর্মচারীদের সঙ্গে যোগসাজশে ঘুষ দিয়েছেন ২৩ দশমিক ১ শতাংশ মানুষ। যার মধ্যে ১১ শতাংশের বেশি মানুষ ঘুষ দেয় নির্ধারিত প্রক্রিয়া এড়ানোর জন্য।
খানার জরিপে দেখা গেল, দায়িত্ব অবহেলার কারণে ৫৫ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষ প্রত্যাশিত সেবা থেকে বঞ্চিত। সেবা নিতে গেলে হয়রানি বা দুর্ব্যবহারের শিকার হয়েছেন ৩৯ শতাংশ মানুষ। অপ্রয়োজনীয় সেবা নিতে বাধ্য হয়েছেন দেশের প্রায় ১১ শতাংশ মানুষ। এ ছাড়া এই তালিকায় দালালদের কারণে হয়রানির শিকার হয়েছেন সাড়ে ৭ শতাংশ মানুষ। প্রতারণা, আত্মসাৎ ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের শিকার যথাক্রমে ৭ দশমিক ২ শতাংশ, ৬ দশমিক ৮ শতাংশ এবং ২ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষ।
টিআইবি বলছে, ঘুষ ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে শুধু আইন প্রয়োগই যথেষ্ট নয় ; পাশাপাশি সরকারি প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট সেবা খাতগুলোতে কার্যকর জবাবদিহিা, প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা এবং কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে নাগরিকদের জন্য হয়রানিমুক্ত ও দুর্নীতিবিহীন সেবা নিশ্চিত করতে সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নেয়ার ওপরও গুরুত্ব দেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
Leave a Reply