আবহমান বাংলায় চিরায়ত শরতের ভেলা

  • আপডেট সময় রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬
  • ১২ পাঠক

দিশারী ডেস্ক।। ১৬ আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ।।

আবহমান বাংলায় বর্ষাকালের চিরায়ত দৃশ্যপট প্রকটিত হওয়ার আগেই প্রকৃতিতে লুটিয়ে পড়ল শরৎ। আষাঢ়-শ্রাবণে ‘ঝরো ঝরো মুখর বাদরদিনে’র ঘনঘোর বর্ষাপ্লাবিত চিত্র অদেখাই থাকল। মেঘস্বরে বাদল-ঝরঝরে তপনহীন ঘন তমসায় শ্রাবণের অঝোরধারায় যে ঘোর, বাদল দিনের মাদল বাঁশির যে সুর, তার কিছুই বর্ষানুরাগীদের প্রাণ স্পর্শ করতে পারল না।

আষাঢ়-শ্রাবণের ভরা বর্ষাকালেই সারা দেশে গড়ে স্বাভাবিকের চেয়ে অর্ধেকেরও কম (৫৭ দশমিক ৬ শতাংশ) বৃষ্টিপাত হয়েছে। তারই মাঝে আজ প্রকৃতির মালিন্য মুছে দিতে মেঘের সিংহবাহনে শরৎ এলো মধুর মুরতি নিয়ে।

আজ পহেলা ভাদ্র। ষড়ঋতুর বাংলাদেশে ঋতুর পালাবদলে টানা দুই মাস শরতের রাজত্বকাল। মিষ্টি ঘ্রাণের শিউলি চুপি চুপি বলে যায়, ‘ আজি এ শরত্বেলা ’। ‘ আজ ধানের ক্ষেতে রৌদ্রছায়ায় লুকোচুরি খেলা রে ভাই, লুকোচুরি খেলা/ নীলাকাশে কে ভাসালে সাদা মেঘের ভেলা রে ভাই লুকোচুরি খেলা ’ পঙ্ক্তিতে কবিগুরু শরত্কে ‘স্বল্পায়ু’ বলেছেন।

———————————————————————————————————————————

ষড়ঋতুর বাংলাদেশে প্রতিটি ঋতুই ভিন্ন ভিন্ন রূপবৈচিত্র্য নিয়ে সমুখে আসে। নতুন করে সাজে প্রকৃতি। গ্রামে যেমন, শহরেও তাই। এখন গ্রামের বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে নবীন ধানের সঙ্গে কাশফুলের দোলা আর শহরের নীল আকাশে ভেসে বেড়ায় সাদা মেঘের ভেলা।

———————————————————————————————————————————

শরৎ হচ্ছে আকাশ ও মাটির মিলন। একদিকে নীলাকাশ, আরেক দিকে কচি ফসলের দুরন্তপনা। একদিকে সোনারোদ, আরেক দিকে সবুজের কচি মুখ। সঙ্গে আকাশ ও মৃত্তিকার যে হৃদয়াবেগ, তা আমাদের হৃদয়কে নাড়া দিয়ে যায়। ভাদ্র মনকে উদ্বেলিত করে। প্রকৃতির সবুজ ছড়িয়ে পড়ে মাঠে-ঘাটে। প্রকৃতি তার ভালোবাসা দিয়ে আপন করে নিতে চায় সব মনকে।

প্রকৃতির কবি জীবনানন্দ দাশ শরতের চরিত্রের সঙ্গে বর্ণনা করেছেন প্রিয়তমাকে। প্রেম-দ্রোহের কবি নজরুলকেও আলোড়িত করেছিল শরতের প্রকৃতি। বিশেষ করে শরতের শিউলী তাকে মুগ্ধ করেছিল। কবি কাজী নজরুল ইসলাম শরতে হারানো প্রিয়াকে অনুভব করেছেন : ‘ শিউলি ফুলের মালা দোলে শারদ-রাতের বুকে ঐ/এমন রাতে একলা জাগি সাথে জাগার সাথি কই…।’ শরতে মাঠে মাঠে নতুন ধানের সমারোহ। কৃষকের মনে নবীন আশা, সাজ সাজ রব। দোয়েল-কোয়েলের কূজনে মুখরিত পল্লিগ্রাম-মাঠ-ঘাট-জনপদ। বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘরে ঘরে প্রহর গোনা শুরু হলো এই শরতে কৈলাশ ছেড়ে দেবী দুর্গা আসবেন তাদের গৃহে।

সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!