চলতি মাসেই দলকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা

  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬
  • ১৩ পাঠক

দিশারী ডেস্ক।। ৯ জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ।।

রাজনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনায় ভারসাম্য বজায় রাখার পাশাপাশি দলীয় ভিত আরও মজবুত করতে এক অভিনব ও দূরদর্শী কৌশল হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। সূত্রমতে, সংগঠনকে শক্তিশালী করতে এবং তৃণমূল পর্যায়ে গতি ফেরাতে বিএনপি এখন ব্যাপক সাংগঠনিক পুনর্গঠন কার্যক্রম চালাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি মাসেই স্বেচ্ছাসেবক, ছাত্রদল, যুবদল ও কৃষক দলকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা নিয়েছে দল।

এদিকে বিএনপি সরকার গঠনের পর জনমতকে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের রাষ্ট্র সংস্কার ও রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন কার্যক্রমে জোরালো সমর্থনের পাশাপাশি দলীয় শক্তি বাড়াতে কাজ করছে। দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা এবং আওয়ামী শাসনামলের চরম দমন-পীড়ন, মামলা-হামলার ধকল কাটিয়ে উঠে তৃণমূল পর্যায়ে গতি ফেরাতে বিএনপি এখন দেশজুড়ে ব্যাপক সাংগঠনিক পুনর্গঠন কার্যক্রম চালাচ্ছে।

দলটির নীতিনির্ধারকদের মতে, দীর্ঘদিন পর রাজনৈতিক পরিবেশ স্বাভাবিক হওয়ায় এখন সংগঠনকে ঢেলে সাজানোর উপযুক্ত সময় মনে করছে। আর এ লক্ষ্যেই কেন্দ্র থেকে শুরু করে জেলা, উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন এমনকি ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত দলকে নতুন করে সাজানোর মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে বিভিন্ন পরিকল্পনা ও কৌশল নিয়ে কাজ করছে দলটি।

ঝিমিয়ে পড়া নেতৃত্বকে সক্রিয় করার উদ্যোগ : বিএনপির মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বলছেন, নয়া কৌশলের মূল ভিত্তি ও লক্ষ্য হচ্ছে দলকে গতিশীল করা। দলের এই ব্যাপক পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্যগুলো হলো তৃণমূলে গতি ফেরানো। এ ছাড়া বিএনপি সরকার গঠনের পর বিগত দিনে যেসব এলাকায় নেতৃত্ব ঝিমিয়ে পড়েছিল বা সমন্বয়হীনতা ছিল, সেখানে নতুন ও সক্রিয় নেতৃত্বকে সামনে আনা।

পুনর্গঠনে যা ভাবছে বিএনপি বিতর্কিতদের বাদ দেয়া : দীর্ঘ দুঃসময়ে যারা নিষ্ক্রিয় ছিলেন, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন কিংবা সুযোগসন্ধানী ভূমিকা পালন করেছেন, তাদের সরিয়ে দেওয়া।

ত্যাগী ও তরুণদের মূল্যায়ন : আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে থাকা ত্যাগী নেতাকর্মী এবং শিক্ষিত, প্রতিভাবান তরুণ নেতৃত্বকে মূল পদে পদায়ন করা।

অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন শক্তিশালীকরণ : চলতি মাসেই তিনটি অঙ্গ সংগঠনকে ঢেলে সাজানো হতে পারে। এ ছাড়া মূল দলের পাশাপাশি ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও কৃষক দলের মতো গুরুত্বপূর্ণ উইংগুলো পুনর্গঠন করে মাঠ পর্যায়ে রাজপথের শক্তি বাড়ানো।

দেশজুড়ে চলছে নিবিড় তদারকি : বিএনপির দলীয় সূত্র জানায়, এবারের পুনর্গঠন প্রক্রিয়া কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ নয়। কেন্দ্রের শীর্ষ নেতারা সরাসরি বিভিন্ন জেলা ও বিভাগ সফর করবেন। গঠন করা হয়েছে একাধিক বিশেষ সাংগঠনিক টিম। এই টিমগুলো স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করে, তাদের মতামত নিয়ে এবং সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় পকেট কমিটি সংস্কৃতির বাইরে গিয়ে নতুন নেতৃত্ব গঠন করবে। ইতিমধ্যে দেশের অর্ধেকেরও বেশি জেলা ও মহানগরে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে দলীয় কার্যক্রম চলছে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের আলটিমেটামও দেয়া হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন পর সরকার গঠনের পর রাজপথে মুক্ত বাতাসে রাজনীতি করার সুযোগ পেয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে যেমন বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে, তেমনি স্থানীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে একধরনের অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতাও তৈরি হয়েছে।

অভ্যন্তরীণ কোন্দল মাথাচাড়া দেয়ার সুযোগ খুবই কম : তবে দলীয় হাইকমান্ড যেভাবে কঠোর নজরদারি ও শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে এই প্রক্রিয়াটি এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, তাতে শুদ্ধ বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল মাথাচাড়া দেওয়ার সুযোগ খুবই কম। বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে, ক্ষমতার দাপট বা ব্যক্তিগত গ্রুপিংয়ের কোনো স্থান দলে হবে না। যারা জনগণের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখবে এবং দলের আদর্শের প্রতি অনুগত থাকবে, তারাই নেতৃত্বে আসবে। সরকারের পাশাপাশি নিজেদের রাজনৈতিক শক্তি ও সক্ষমতা বৃদ্ধির এই দ্বিমুখী কৌশল আগামী দিনে বিএনপিকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে মনে করছেন সাধারণ নেতাকর্মীরা। তৃণমূলের গতিশীলতা এবং কেন্দ্রের সুদৃঢ় সমন্বয়ের মাধ্যমে বিএনপি একটি আধুনিক, সুশৃঙ্খল ও জনবান্ধব রাজনৈতিক দল হিসেবে নিজেদের রূপান্তরের এই যাত্রায় কতটুকু সফল হয়, তা আগামী দিনগুলোতেই স্পষ্ট হবে। তবে বর্তমানের এই ব্যাপক কর্মযজ্ঞ দলটির ভেতর এক নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়।

খবর : অন্য দৈনিক।

শক্তিশালী রাষ্ট্র গঠনের পূর্বশর্ত হলো শক্তিশালী দল ও সুশৃঙ্খল রাজনৈতিক চর্চা : দলের এই নয়া কৌশল এবং দেশব্যাপী চলমান সাংগঠনিক পুনর্গঠন নিয়ে কথা বলেছেন বিএনপির নীতিনির্ধারণী ফোরামের অন্যতম শীর্ষ নেতা এবং দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান।

তিনি বলেন, বিএনপি একটি গণমুখী ও জনবান্ধব দল। আমরা বিশ্বাস করি, একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র গঠনের পূর্বশর্ত হলো দল শক্তিশালী ও সুশৃঙ্খল রাজনৈতিক চর্চা। বর্তমান সরকারের রাষ্ট্র সংস্কারের পাশাপাশি আমাদের নিজেদের ঘর গোছানোর কাজও সমান গতিতে চলছে এবং চলবে। আমাদের নয়া কৌশল হলো আমরা রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার সংস্কারের পাশাপাশি দলের ভেতরেও আমূল সংস্কার ও শুদ্ধি অভিযান চালাচ্ছি। তৃণমূলের প্রতিটি কর্মীকে আমরা বোঝাতে সক্ষম হব যে, ত্যাগ ও সততার কোনো বিকল্প নেই। এই ব্যাপক পুনর্গঠন কার্যক্রম শেষ হলে বিএনপি এমন একটি ইস্পাতকঠিন শক্তিতে পরিণত হবে, যা আগামী দিনে দেশ রক্ষার স্বার্থে ও যেকোনো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় এবং দেশের অগ্রগতিতে নেতৃত্ব দিতে পুরোপুরি সক্ষম হবে।

বর্তমান সরকারের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত জনসম্মুখে ও দলীয় কর্মকা- জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে এবং প্রচার-প্রচারণায় নতুন মাত্রা যোগ করতে কাজ করছেন বিএনপির প্রচার সম্পাদক এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

সাংগঠনিক এই কর্মযজ্ঞ নিয়ে তিনি তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, বিগত ১৬ বছর ধরে আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে আমাদের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা সবচেয়ে বেশি মার খেয়েছেন, জেলে গিয়েছেন। এখন সময় এসেছে তাদের সেই ত্যাগের সঠিক মূল্যায়ন করার। দল সেটাই ভাবছে। আমরা শুধু শহরকেন্দ্রিক রাজনীতিতে বিশ্বাসী নই ; বিএনপির আসল শক্তি লুকিয়ে আছে এ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষক, শ্রমিক আর সাধারণ মেহনতি মানুষের মধ্যে। তৃণমূল পর্যায়ে সরকারের পাশাপাশি দলের গতিশীলতা ফেরাতে এবং প্রতিটি ঘরে বিএনপির বার্তা পৌঁছে দিতে এবং দলের হাইকমান্ডের নির্দেশে দলকে শক্তিশালী করতে এই ব্যাপক পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত।

তবে অবিলম্বে হয়তো আমাদের দলের চেয়ারম্যান ও সরকারপ্রধান তারেক রহমান দেশ ও মানুষের কল্যাণে সরকারের পাশাপাশি দলকে উজ্জীবিত করতে বিভিন্ন কৌশল ভাবতে পারেন। সরকারের পাশাপাশি সংগঠনকে শক্তিশালী করার এই কৌশল আমাদের আগামী দিনের যেকোনো রাজনৈতিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বহুগুণ এগিয়ে রাখবে। কোনো অনুপ্রবেশকারী বা সুযোগসন্ধানী যেন এই প্রক্রিয়ায় ঢুকে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে না পারে, সে ব্যাপারে আমরা কঠোর অবস্থানে বিএনপি। সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ ও আশার আলো বিএনপির এই সাংগঠনিক পুনর্গঠন প্রক্রিয়া রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিও আকর্ষণ করবে।

সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!