দিশারী ডেস্ক।। ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ।।
রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে তীব্র জ্বর নিয়ে মাকে ভর্তি করিয়েছেন বেসরকারি চাকরিজীবী সাইফুল ইসলাম। চিকিৎসক বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বেশ কিছু ওষুধ দিয়েছেন, যার বেশির ভাগই হাসপাতাল থেকে বিনা মূল্যে দেয়ার কথা। কিন্তু একটি ওষুধও হাসপাতাল থেকে না পেয়ে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের সামনে একটি ফার্মেসিতে এসেছেন ওষুধ নিতে। ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, ‘প্রেসক্রিপশনের বেশির ভাগ ওষুধই হাসপাতাল থেকে বিনা মূল্যে পাওয়ার কথা। কিন্তু বিশ্বাস করুন, একটা প্যারাসিটামল পর্যন্ত পাইনি বিনা মূল্যে। তাই এখান থেকে নিতে এসেছি।’
সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে দরিদ্র রোগীর সবচেয়ে বড় ভরসা বিনা মূল্যের ওষুধ। কিন্তু বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। দেশের বহু সরকারি হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের হাতে প্রয়োজনীয় ওষুধ তুলে দেয়ার বদলে প্রায়ই ধরিয়ে দেয়া হয় বাইরের ফার্মেসির প্রেসক্রিপশন।
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ কিনতে গিয়ে দরিদ্র রোগীর পকেট খালি হয়, অনেকেই চিকিৎসা অসম্পূর্ণ রেখেই বাড়ি ফিরে যান। অথচ একই দেশে সরকারি অর্থে কেনা বিপুল পরিমাণ ওষুধ হাসপাতালের গুদামে পড়ে থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ হচ্ছে। কোথাও সঠিকভাবে বিতরণ না হওয়ায় ওষুধ নষ্ট হচ্ছে, কোথাও গুদাম ব্যবস্থাপনার দুর্বলতায় লাখ লাখ টাকার ওষুধ মেয়াদ হারাচ্ছে। সর্বশেষ টাঙ্গাইলের একটি ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে— রোগীদের জন্য কেনা সরকারি ওষুধের শেষ গন্তব্য কি হাসপাতালের রোগীর কাছে, নাকি নদীর পানি ?
———————————————————————————————————————————
সম্প্রতি টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে পিকআপভর্তি সরকারি ওষুধ যমুনা নদীতে ফেলার সময় স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়েন চালক। পুলিশ ১৮ বস্তা মেয়াদোত্তীর্ণ সরকারি ওষুধ জব্দ করে। অভিযোগ ওঠে, এসব ওষুধ ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল নদীতে ফেলার জন্য। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্বাস্থ্য প্রশাসনে তোলপাড় শুরু হয়। সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থাও নেয়া হয়েছে এবং তদন্ত শুরু হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন ওঠেছে, শুধু নদীতে ফেলার ঘটনাই কি মূল সমস্যা ? নাকি এটি দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে ওষুধ ব্যবস্থাপনার দীর্ঘদিনের অরাজকতার একটি দৃশ্যমান নমুনা ?
———————————————————————————————————————————
হাসপাতালে নেই, গুদামে নষ্ট :
সরকারি হাসপাতালের রোগীদের অভিযোগ পুরোনো— হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলেও অধিকাংশ ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হয়। বিশেষ করে অ্যান্টিবায়োটিক, ডায়াবেটিস, হৃদরোগসহ বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগের ওষুধ এবং জরুরি চিকিৎসায় ব্যবহৃত নানা মেডিসিন প্রায়ই হাসপাতালের স্টোরে নেই বলে জানানো হয়। কিন্তু বিভিন্ন সময়ের তদন্ত ও অভিযানে দেখা গেছে, রোগীরা যখন ওষুধের অভাবে বাইরে থেকে কিনছেন, তখন সরকারি হাসপাতালের গুদামে বিপুল পরিমাণ ওষুধ পড়ে থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ হচ্ছে।
চলতি বছরের জুলাইয়ে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে গিয়ে বিপুল পরিমাণ মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ দেখতে পান স্বাস্থ্য উপদেষ্টা পর্যায়ের দায়িত্বশীলরা। সেখানে দরিদ্র রোগীরা ওষুধ না পাওয়ার অভিযোগ করলেও হাসপাতালের একটি পরিত্যক্ত স্থানে লাখ লাখ টাকার মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পাওয়া যায়। ঘটনাটি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রশ্ন তোলা হয়— যে দেশের দরিদ্র মানুষ ওষুধের অভাবে চিকিৎসা নিতে পারেন না, সেখানে এত সরকারি ওষুধ কীভাবে মেয়াদ হারায় ? শুধু তাই নয়, সুনামগঞ্জের ২৫০ শয্যার জেলা সদর হাসপাতালেও সরকারি তদন্তে প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ টাকার ১৫ ধরনের প্রয়োজনীয় ওষুধ মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার তথ্য ওঠে এসেছে। অভিযোগ ছিল, রোগীদের মধ্যে বিতরণের কথা থাকলেও যথাযথ ব্যবস্থাপনার অভাবে ওষুধগুলো গুদামেই পড়ে থাকে।
যমুনায় ফেলার চেষ্টা, সামনে এলো ভয়াবহ চিত্র :
টাঙ্গাইলের ঘটনাটি আরও উদ্বেগজনক। সম্প্রতি মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ নদীতে ফেলার সময় স্থানীয়দের সন্দেহের কারণে একটি পিকআপ আটক করা হয়। তা না হলে বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ হয়তো যমুনার পানিতে ফেলে দেয়া হতো। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে চালকের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ওষুধগুলো ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে আনা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ধ্বংসের একটি নির্ধারিত প্রক্রিয়া রয়েছে।
কমিটির উপস্থিতিতে নিয়ম মেনে এসব ওষুধ ধ্বংস করার কথা। কিন্তু সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে কেন গভীর রাতে নদীর দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, সেটিই এখন তদন্তের মূল প্রশ্ন। আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, ওষুধগুলো কীভাবে এত বিপুল পরিমাণে মেয়াদোত্তীর্ণ হলো ? যদি ওষুধের চাহিদা না থাকে, তাহলে এত ওষুধ কেন কেনা হলো ? আর যদি রোগীদের প্রয়োজন থেকেই থাকে, তাহলে তাদের মধ্যে সময়মতো বিতরণ করা হলো না কেন ? এসব প্রশ্নের মাঝেই লুকিয়ে আছে সরকারি ওষুধ ব্যবস্থাপনার বড় সংকট।
———————————————————————————————————————————
এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেনিন চৌধুরী বলেন, আমাদের দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় এরকম দৃশ্য খুব কমই দেখা গেছে। হাসপাতালে কোনো ওষুধ পাওয়া যায় না— এটা শুনে শুনে আমাদের অভ্যাস হয়ে গেছে। কিন্তু ওষুধ মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে নদীতে ফেলে দেয়ার মতো নিকৃষ্ট ঘটনা আর নেই। নদীতে মাছসহ অনেক ধরনের পরিবেশের উপকারী জীবের বসবাস। এসব মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ নদীতে ফেললে জীববৈচিত্র্যে ভয়াবহ অবস্থা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই যথাযথ কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে এখনই।
———————————————————————————————————————————
কাগজে কেনা, গুদামে নেই ওষুধ :
সরকারি হাসপাতালের ওষুধ ব্যবস্থাপনায় শুধু মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার ঘটনাই নয়, রয়েছে কেনাকাটা ও সরবরাহ নিয়ে গুরুতর অভিযোগও। পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে দুর্নীতি দমন কমিশনের অভিযানে ওষুধ ক্রয় ও সরবরাহে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে আসে। নথিপত্রে ওষুধ কেনা ও সরবরাহের তথ্য থাকলেও তদন্তকারীরা স্টোরে সেই ওষুধের অস্তিত্ব পাননি।
অভিযোগ অনুযায়ী, তিন ধরনের জেনেরিকের ১৫ হাজারের বেশি ওষুধের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সম্প্রতি লালমনিরহাট সদর হাসপাতালেও দুর্নীতি দমন কমিশনের অভিযানে সরকারি ওষুধসহ চিকিৎসাসামগ্রী ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের তথ্য পাওয়া যায়। হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতাল পরিদর্শনেও ওষুধ গ্রহণ ও বিতরণের রেজিস্টার যথাযথভাবে হালনাগাদ না থাকার অভিযোগ সামনে আসে। অর্থাৎ, সমস্যাটি শুধু একটি হাসপাতাল বা একটি জেলার নয়। দেশের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ওষুধ কেনা, গ্রহণ, সংরক্ষণ, বিতরণ এবং হিসাব সংরক্ষণের পুরো ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে মন্তব্য করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ বলেন, একদিকে রোগীরা হাসপাতালে বিনা মূল্যের কোনো ওষুধ পাচ্ছে না, অন্যদিকে নদীর পানিতে ওষুধ ফেলা হচ্ছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
রোগীর হাতে প্রেসক্রিপশন, বাইরে ফার্মেসিতে ভিড় :
সরকারি হাসপাতালের উদ্দেশ্য হলো সাধারণ ও দরিদ্র মানুষকে স্বল্প খরচে চিকিৎসাসেবা দেয়া। কিন্তু হাসপাতালে গিয়ে যদি রোগীকে অধিকাংশ ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হয়, তাহলে সেই উদ্দেশ্য কতটা পূরণ হচ্ছে, সেটি এখন বড় প্রশ্ন। সাম্প্রতিক সরকার পরিচালিত এক গবেষণায় দেশের বিভিন্ন সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় ওষুধের ঘাটতির চিত্র ওঠে এসেছে।
———————————————————————————————————————————
গবেষণায় দেখা যায়, অনেক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে জরুরি ও প্রয়োজনীয় ওষুধের সরবরাহ যথেষ্ট নয়। একই সঙ্গে প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনাগত জটিলতায় বরাদ্দ অর্থও ব্যবহার করা যাচ্ছে না। ফলে তৈরি হচ্ছে একটি অদ্ভুত পরিস্থিতি। একদিকে সরকারি হাসপাতালের রোগী বলছেন, ‘ওষুধ নেই’। অন্যদিকে হাসপাতালের গুদামে ওষুধ পড়ে থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ হচ্ছে। আবার কোথাও কাগজে ওষুধ কেনা দেখানো হলেও বাস্তবে গুদামে পাওয়া যাচ্ছে না। এই তিন চিত্র মিলিয়ে সরকারি স্বাস্থ্য খাতের ওষুধ ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের অসংগতি স্পষ্ট হয়ে ওঠছে।
———————————————————————————————————————————
কোথায় ভাঙছে সরবরাহের শৃঙ্খল ?
স্বাস্থ্য খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি ওষুধ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কয়েকটি স্তরে দুর্বলতা রয়েছে। প্রথমত, প্রকৃত চাহিদা নির্ধারণে সমস্যা। কোনো হাসপাতালের রোগীর সংখ্যা, রোগের ধরন এবং ওষুধ ব্যবহারের পরিমাণ বিবেচনা না করে অতিরিক্ত ওষুধ কেনা হলে তা গুদামে পড়ে থাকার ঝুঁকি তৈরি হয়। দ্বিতীয়ত, সঠিক স্টক ব্যবস্থাপনার অভাব। কোন ওষুধ কত দিনের মধ্যে মেয়াদ শেষ হবে, কোন ওষুধ আগে বিতরণ করতে হবে— এসব বিষয়ে নিয়মিত নজরদারি না থাকলে বিপুল পরিমাণ ওষুধ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তৃতীয়ত, এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ওষুধ স্থানান্তরের কার্যকর ব্যবস্থা দুর্বল। কোনো হাসপাতালে একটি ওষুধের চাহিদা কম থাকলেও অন্য হাসপাতালে সেই ওষুধের তীব্র সংকট থাকতে পারে।
কিন্তু সময়মতো সমন্বয় না হওয়ায় এক জায়গায় ওষুধ নষ্ট হয়, অন্য জায়গায় রোগী কিনে খায়। চতুর্থত, জবাবদিহির ঘাটতি। একটি হাসপাতালের স্টোরে কোটি টাকার ওষুধ মেয়াদোত্তীর্ণ হলে এর দায় কার— স্টোরকিপার, হাসপাতাল প্রশাসন, ক্রয় কমিটি, নাকি সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ? এই প্রশ্নের স্পষ্ট জবাব প্রায়ই পাওয়া যায় না।
সরকারি ওষুধ ‘অদৃশ্য হওয়ার’ অভিযোগ :
বিশ্বব্যাংকের বিভিন্ন বিশ্লেষণেও বাংলাদেশের সরকারি স্বাস্থ্যসেবায় ওষুধ সরবরাহব্যবস্থার দুর্বলতার কথা উঠে এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে, সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বিনা মূল্যের ওষুধ না পাওয়া, সরবরাহ ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা, অনিয়ম এবং ওষুধ অন্যত্র চলে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ফলে অনেক রোগী বাধ্য হয়ে ব্যক্তিগত খরচে বেসরকারি ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনছেন। এ অবস্থায় সরকারি ওষুধের পুরো যাত্রাপথ নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে। কেন্দ্রীয় গুদাম থেকে ওষুধ বের হওয়ার পর সেটি কোন হাসপাতালে গেল, হাসপাতালে কত ওষুধ গ্রহণ করা হলো, কত ওষুধ রোগীদের মধ্যে বিতরণ করা হলো, কত ওষুধ মেয়াদোত্তীর্ণ হলো, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ কীভাবে ধ্বংস করা হলো, এই পুরো প্রক্রিয়া ডিজিটালভাবে নজরদারির আওতায় না থাকলে মাঝপথে ওষুধের হিসাব হারিয়ে যাওয়ার সুযোগ থেকেই যায় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ওষুধ নষ্ট মানে শুধু অর্থের অপচয় নয় :
সরকারি ওষুধ নষ্ট হওয়ার বিষয়টিকে শুধু আর্থিক ক্ষতি হিসেবে দেখলে পুরো চিত্র বোঝা যাবে না। একটি সরকারি হাসপাতালে মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়া প্রতিটি ওষুধের পেছনে রয়েছে একজন সম্ভাব্য রোগী, যিনি হয়তো সেই ওষুধ পেলে চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারতেন। একজন দিনমজুর, যিনি হাসপাতাল থেকে ওষুধ না পেয়ে বাইরে থেকে কয়েকশ টাকা দিয়ে ওষুধ কিনেছেন, তার জন্য গুদামে নষ্ট হওয়া ওষুধ কেবল রাষ্ট্রীয় অপচয় নয়, এটি সরাসরি বঞ্চনা। একজন বৃদ্ধ রোগী হয়তো উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ কিনতে পারেননি। একজন মা হয়তো সন্তানের জন্য প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক কিনতে হিমশিম খেয়েছেন। অথচ সেই একই সময়ে সরকারি গুদামে ওষুধ পড়ে থেকে মেয়াদ শেষ হয়েছে। এই বৈপরীত্যই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। খবর : অন্য দৈনিক।
তবে এসব বিষয় নিয়ে কাজ চলছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দীর্ঘ একটা সময় স্বাস্থ্য খাত একটা বিশেষ সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি ছিল, যার থেকে এখনো খাতটিকে আমরা বের করে আনতে পারিনি। তবে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। নিয়মিত বিভিন্ন হাসপাতালে অভিযান চালাচ্ছি। যাদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ওঠছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি। শিগগিরই খাতটিতে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে বলে আমরা আশাবাদী।
Leave a Reply