দিশারী ডেস্ক।। ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ।।
আসছে ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে জাতীয় পার্টি। ২৬ ডিসেম্বর, শুক্রবার মহাসচিব ব্যারিষ্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী ২৪৩টি আসনে দলের প্রার্থীতা ঘোষণা করেছেন। এতে পার্টির সাবেক মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গার নামও রয়েছে। তিনি লালমনিরহাট-১ থেকে নির্বাচন করবেন।
সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ দলীয় প্রতিকে এ নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করতে না পারার সুযোগে জাতীয় পার্টি নিজ দলের প্রতিকে আওয়ামী লীগেরও জনপ্রিয় কিছু ব্যক্তিকে দলীয় প্রার্থীতার খাতায় নাম রেখেছেন। সেক্ষেত্রে লাঙ্গল প্রতিকে আওয়ামী লীগের সেসব প্রার্থী বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয়া যায়না। এ অবস্থায় একটি স্বৈরশাসকের দলের তকমা নিয়েও জাতীয় পার্টি এ সংসদে বিরোধী দলের আসনে বসার রয়েছে সমূহ সম্ভাবনা।
—————————————————-
ব্যাখ্যা, বিশ্লেষণ
—————————————————-
সূত্র জানায়, দেশের উত্তরাঞ্চলে জাতীয় পার্টি প্রায় নির্বাচনে দু’ ডজনের বেশি আসনে বিজয় অর্জন করেন সর্বদা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এর সাথে আওয়ামী লীগের ভোটসমূহ যোগ হলে তাতে নিশ্চিত বিজয় নিয়ে ঘরে ফেরা জাতীয় পার্টির জন্যে কোন কঠিন বিষয়ই না। একইভাবে, দেশের অন্যান্য আসন সমূহে জাতীয় পার্টির নির্বাচন কার্যক্রম, প্রচার, প্রকাশনা নির্বিঘ্নে ও সমহারে প্রচারিত থাকলে বিগত সময়ে আওয়ামী লীগের মিত্র হিসেবে আওয়ামীদের বিপুল অংশের সমর্থনও পাওয়ার রয়েছে অবশ্যম্ভাবী সম্ভাবনা। এমন ফলাফলে সেসব আসনের মধ্যে ৩০/৪০ টি আসনে বিজয়ী হতে পারলে সংসদের অন্যতম অংশ হিসেবে জাতীয় পার্টি নিজেকে বিকশিত করতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
এ দিকে ৫ আগষ্টের পরই মাঠে সক্রিয় হওয়া জামাতে ইসলামী হঠাৎ মাঠে এসে যেভাবে নিজেদের জনপ্রিয় দল হিসেবে বলে বেড়াচ্ছেন, জাতীয় পার্টির এমন ঘোষণা তাদের জন্যেই হিতে বিপরীত হওয়ার আশঙ্কা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। তারা বলছেন, তারা বিগত জীবনে কখনো এককভাবে সংসদে ২০টি আসনেও জয় লাভ করতে পারেননি। বিগত ১৯৯১ সালে এককভাবে নির্বাচন করে সর্বোচ্চ ১৮ টি আসনে বিজয়ী হয়েছেন তারা। তাছাড়া সে সময়ের বিজ্ঞ প্রার্থীদের মধ্যে মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মুজাহিদ, আবদুল কাদের মোল্লা কিংবা আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাইদীদের মতো কোন প্রাজ্ঞ নেতাই এখন আর বেঁচে নেই। হালে যারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন , তাদের বেশিরভাগই জাসদসহ বিভিন্ন দল হতে আগন্তুক। রয়েছে ইসলামী রাজনৈতিক দলে একজন মূতি পূঁজোরী প্রার্থীও। রয়েছে হিন্দু ধর্মের আচার অনুষ্ঠানে একটি ইসলামী দলের পরিচয়ে মূল্যবোধ হারানোরও অভিযোগ।
সে ক্ষেত্রে জাতীয় পার্টির রয়েছে একটি রিজার্ভ অংকের ভোট। আর সে ভোটগুলোর সাথে আওয়ামী লীগের জনসমর্থনটা যোগ করা গেলে জাতীয় পার্টি হতে পারে সংসদের প্রধানতম বিরোধী দল। ফলে জামাত নিরাপদে, নিশ্চিন্তে যেভাবে নিজেদের সরকার দল, কখনো প্রধান বিরোধী দল হিসেবে প্রকাশ করতে মরিয়া হয়ে রয়েছেন, তা বুমোরাং হওয়ার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছেন রাজনৈতিকমহল।
সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগের একটি বিরাট অংশের সমর্থনের ওপর ভর করে জামাত নিজেদের পৃষ্টপোষকতায় ধন্য করে চলছেন বর্তমানে, ঠিক এ অবস্থায় জামাতের এমন হিসেবে জাতীয় পার্টি হানা দিলে তাতে জামাত আম-ছালা দুটোই হারানোর ফলাফল নিষ্ফল বলা যায়না।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, এমন দশায় বিএনপির জনপ্রিয়তায় আঘাত হানার কোন কারণ থাকার কথা নয়। কেননা বিএনপি বিগত সময়ে, অর্থ্যাৎ ৫ আগষ্টের আগে-পরে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে নিজের আত্মোহুতি দিয়ে চলছে। এখনো অক্ষুন্ন। যা থেকে বিএনপির শীর্ষ নের্তৃত্ব একচুলও নড়েননি বলে জানান রয়েছে। ৫ আগষ্টের পর জামাত আওয়ামী লীগকে ক্ষমা করে দেয়াসহ নানা বুলি আওড়ালেও এ বিষয়ে বিএনপির দলীয় অবস্থান বরাবরই স্পষ্ট ও পরিষ্কার। বলা চলে একাট্র। সর্বোপরি, একটি স্বকীয় ও স্বপ্রতিভ রাজনৈতিক মর্যাদায় বিএনপিই সরকার গঠনের সমূহ সম্ভাবনা।
Leave a Reply