আজাদ সোহেল।। ৭ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ।।
এক সময়ের রাজপথ কাঁপানো, তুঁখোড় ও ত্যাগী ছাত্রনেতা সোহেল রানা ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটিতে সহ-সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন।
নোয়াখালী জেলা ছাত্রদলের সাবেক এই সফল ছাত্রনেতা সংগঠনের নতুন এই দায়িত্ব প্রাপ্তিতে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।
সোহেল রানা নোয়াখালী সদর উপজেলার নেয়াজপুর ইউনিয়নের জাহানাবাদের ভেলানগর গ্রামের পাটোয়ারী বাড়ীতে ১৯৯০ সালে জন্মগ্রহন করেন। ৪ বোন ও ২ ভাইয়ের মধ্যে পরিবারের ৫ম জন তিনি। তার পিতা ছিলেন মরহুম অলিউল্যাহ মিয়া। তিনি পেশায় কৃষক ছিলেন। মাতা মরহুমা আয়েশা খাতুন তিনি পেশায় গৃহিণী ছিলেন।
তিনি নেয়াজপুর ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০০৬ সালে এসএসসি, সোনাপুর কলেজ থেকে ২০০৮ সালে এইচএসসি ও নোয়াখালী সরকারী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে ২০১৩ সালে বিবিএস পাস করেন। এছাড়াও নোয়াখালী সরকারী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে ২০১৬ সালে ব্যবস্থাপনায় এমবিএ সম্পন্ন করেন।
তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়েছিল তৃণমূল পর্যায় থেকে। নিজের ওয়ার্ডে ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর তিনি সদর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহবায়ক এবং পরবর্তীতে নোয়াখালী জেলা ছাত্রদলের সহ-সম্পাদক হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন।
সংগ্রাম ও ত্যাগের এক অনন্য উদাহরণ
———————————————-
সোহেল রানার রাজনৈতিক পথচলা কখনোই কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না। নোয়াখালীতে জেলা ছাত্রদলের রাজনীতি করার সময় তিনি তৎকালীন আওয়ামী সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হন। তাঁর বিরুদ্ধে দুটি হত্যা মামলা ও একটি বিষ্ফোরক মামলাসহ একাধিক মিথ্যে মামলা দায়ের করা হয়েছিল।
রাজনীতি করতে গিয়ে তিনি দুই দফায় কারাবরণ করেন। এমনকি কারাবরণ অবস্থায় তাঁকে শিক্ষা জীবনের গুরুত্বপূর্ণ এমবিএ পরীক্ষা দিতে হয়েছে জেলে থেকেই ।
অসংখ্যবার আওয়ামী সরকারের পেটোয়া বাহিনীর হামলার শিকার হয়েছিলেন। নিরাপদ সড়ক আন্দোলন করতে গিয়ে তাকে ৩ মাস আত্মগোপনে থাকতে হয়েছিল। মোল্লারটেকে হামলার শিকার হন। জানান, নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. শাহজাহান তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন।
২০১৮ সালে নোয়াখালী প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রতিটি সংগ্রামে তিনি অংশগ্রহণ করেন। জেল-জুলুম ও শত প্রতিকূলতা ডিঙিয়ে তিনি ছাত্রদলের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। পরবর্তীতে, তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় হন এবং দীর্ঘ ত্যাগ ও পরিশ্রমের স্বীকৃতিস্বরূপ দলের এই গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হয়েছেন। তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঢাকার রাজপথে সরাসরি আন্দোলন সংগ্রামে যুক্ত ছিলেন।
জুলাইযোদ্ধা সোহেল রানার এই অর্জনে নোয়াখালী জেলাসহ ঢাকা শহরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছার জোয়ার বইছে। সাধারণ কর্মী থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দও তাঁকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। তৃণমূল থেকে ওঠে আসা এই নেতার মূল্যায়নকে তারা ‘গণঅভ্যুত্থানের শক্তির বিজয়’ হিসেবে দেখছেন।
উল্লেখ্য যে, সোহেল রানা বর্তমানে আরাফাত রহমান কোকো যুব ও ক্রীড়া সংসদ ঢাকা মহানগর উত্তর-এর সভাপতি হিসেবেও সফলভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও ফ্রিডম ফাইটার আব্দুস সালাম স্পোর্টিং ক্লাব (বাফুফে) দপ্তর-সম্পাদক হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করতেছেন।
নোয়াখালীর গুণী এই কৃতিসন্তানের নতুন নেতৃত্বে ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদল আরও শক্তিশালী ও বেগবান হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন।
Leave a Reply