দিশারী ডেস্ক।। ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ।।
একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা এবং তাদের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা ধর্মীয় অনুভূতির অপব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন। সোমবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।
মাহদী আমিন বলেন, আমরা লক্ষ্য করছি যে, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা এবং তাদের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা ধর্মীয় অনুভূতির অপব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এ ধরনের কিছু পোস্ট ও ভিডিও আমাদের নজরে এসেছে, যেখানে বলা হচ্ছে—‘ তাদের প্রতীককে জয় লাভ করানো মানে নিজের ঈমানকে জয় লাভ করানো ’ এবং ‘ জান ও মাল দিয়ে সেই প্রতীককে জয় লাভ করানো ঈমানি দায়িত্ব’। বলা হচ্ছে যে, ‘কবরে গিয়ে বলা যাবে দ্বীন কায়েমের জন্য ওই প্রতীকে ভোট দেয়া হয়েছে। ’ ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে ভোট চাওয়ার এই অপপ্রয়াস অনাকাঙ্ক্ষিত। ’’
————————————————————————————————————
তিনি বলেন, এটি দৃশ্যমান যে, ধর্মীয় বিশ্বাস ও আবেগকে ব্যবহার করে দেশের ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা নির্বাচনের স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা, অবাধ ও সুষ্ঠু পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করছে। আপনারা জানেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ৭৭ (১) (ঘ) অনুচ্ছেদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং আইন অনুযায়ী ‘ অসৎ প্রভাব বিস্তার ’ হিসেবে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে পরিগণিত হয়। তাই আমরা দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।
————————————————————————————————————
মাহদী বলেন, নির্দিষ্ট দলটির কর্মী-সমর্থকেরা বাড়ি-বাড়ি গিয়ে মহিলা ভোটারদের এনআইডি কার্ডের কপি, মোবাইল নম্বর ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছেন। এই বিষয়ে আমরা নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করেছিলাম এবং বিষয়টি আমলে নেয়ায় আমরা নির্বাচন কমিশনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। তবে একই সঙ্গে আমরা আশঙ্কা করছি যে, ইতোমধ্যে সংগৃহীত এসব ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে ভুয়া বা জাল ভোট প্রদান, প্রতারণামূলক ভোট, মৃত ব্যক্তিদের নামে ভোট প্রদান এবং মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে ভোটারদের আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হতে পারে।
————————————————————————————————————
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড ভোটার তালিকা আইন, ২০০৯-এর ধারা ১৪, দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ধারা ৪১৭ ও ৪২০ এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮-এর ধারা ২ অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। তাই আমরা নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ জানাই, দ্রুতই যেন এসব বেআইনি কর্মকাণ্ড বন্ধ করা হয় এবং এনআইডি তথ্যের অপব্যবহার রোধে প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নেয়া হয়।
————————————————————————————————————
মাহদী আমিন বলেন, আমরা জানতে পেরেছি, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ভলান্টিয়ার ক্যাটাগরির ১৩ থেকে ১৫ জন আনসার ও ভিডিপি সদস্য নিয়োগ দেয়া হবে, যাদের একটি বড় অংশ সাধারণত স্থানীয় বাসিন্দা। স্থানীয়ভাবে বসবাসকারী অনেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় তাদেরকে নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োগ করা নিরপেক্ষতার প্রশ্ন তোলে বলে আমরা মনে করি। তাই আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের নিরপেক্ষ ভূমিকা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তাদেরকে নিজ থানার বাইরে নির্বাচনী দায়িত্ব প্রদানের দাবি জানাচ্ছি।
তিনি বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম, ফেনি, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জের অসংখ্য নেতাকর্মী, সমর্থক, ভোটার এবং সর্বস্তরের জনগণের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাই। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দ্বিতীয় নির্বাচনী সফর উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে ধানের শীষের পক্ষে গণমানুষ এক অভূতপূর্ব গণজোয়ার সৃষ্টি করেছেন। আপনারা নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছেন যে, বিপুল জনসমাগমের কারণে তারেক রহমানের কর্মসূচি বিলম্বিত হয়েছিল। তবুও সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত, সরব ও উৎসবমুখর উপস্থিতি তার প্রতি জনগণের অগাধ আস্থা ও ভালোবাসারই প্রতিফলন।
মাহদী বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯২টি আসনে বিএনপির প্রার্থীরা ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের মধ্যে ৮৫ জনেরই ইতিপূর্বে সংসদ সদস্য হিসেবে জনগণের জন্য কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। এছাড়াও বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে ১৯ জন ইতিপূর্বে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রার্থীদের রাষ্ট্র পরিচালনার এই অতীত অভিজ্ঞতা ও জনসম্পৃক্ততা গণমানুষের দল বিএনপিকে একটি ভিন্ন উচ্চতায় রেখেছে।
তিনি বলেন, শিক্ষাগত যোগ্যতার দিক থেকেও বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের স্বকীয়তা রয়েছে এবং ২৩৭ জন ন্যূনতম স্নাতক সম্পন্ন করেছেন।
বিএনপি আসন্ন নির্বাচনে সর্বোচ্চ সংখ্যক তথা ১০ জন নারী প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে, যা নারীর ক্ষমতায়নে আমাদের প্রতিশ্রুতির বহিঃপ্রকাশ। ইনশাআল্লাহ, এ সংখ্যা আগামী দিনে আরও বৃদ্ধি করতে আমরা অঙ্গীকারাবদ্ধ। আপনারা অবগত আছেন যে, দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী হওয়া সত্ত্বেও, একজন নারীকেও মনোনয়ন দেয়নি এমন রাজনৈতিক দলও রয়েছে, যা হতাশাজনক ও দুঃখজনক।
মাহদী আমিন বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে সবচেয়ে বেশি গুম, খুন, নিপীড়ন, নির্যাতন, হামলা ও মামলার শিকার হয়েছে বিএনপি। স্বাভাবিকভাবেই বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে ফ্যাসিস্ট কর্তৃক নির্যাতিতদের আধিক্য রয়েছে। বিগত স্বৈরাচারী শাসনামলে গুম হওয়াদের মধ্যে রয়েছেন তিনজন প্রার্থী- তথা সালাহউদ্দিন আহেমদ, আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন ও হুম্মাম কাদের চৌধুরী।
এছাড়াও গুমের শিকার হওয়া পরিবারের মধ্য থেকে দুইজন প্রার্থী রয়েছেন। তারা হলেন সাবেক এমপি ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিন রুশদির লুনা এবং সাজেদুল ইসলাম সুমনের বোন ও ‘ মায়ের ডাক ’-এর সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলি। উল্লেখ্য যে, বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে প্রায় সকলের নামেই বহু মামলা রয়েছে, অনেকের বিরুদ্ধে তা সংখ্যায় শতাধিক ছাড়িয়ে গিয়েছে।
Leave a Reply