সাম্প্রদায়িক রাজনীতির শিকার প্রিয় দেশ

  • আপডেট সময় শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬
  • ১৬ পাঠক

আকাশ মো. জসিম।। ২০ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ।।

বিশ্বের মধ্যে ভারতীয় বিজিপির সরকার ব্যবস্থা সবচেয়ে বেশি সাম্প্রদায়িক বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বলা হয়েছে, ভারতীয় বিজিপি দুনিয়ার রাজনীতিতে কোন মুসলমানের ধর্ম-কর্ম সহ্য করেন না।
বাংলাদেশ সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর আমাদের সার্বভৌমত্ব ক্রমাগত ভারতীয় দখলদার ও আধিপত্যবাদীদের হুমকির মুখে পড়ছে বারবার।

যদিও বাংলাদেশ সৃষ্টির আগ থেকেই এ ভূখন্ডটা বারবারই নানা প্রতিকূলতা মোকাবেলা করে টিকতে হয়েছে। অবশ্য বলা চলে, এর পেছনে আমাদের ধর্মীয় আচার, অনুষ্ঠানও কম দায়ী নয়। আমরা মুসলমান জাতি হিসেবে পরিগণিত হলেও আমাদের ঈমান, আকিদা, আমল কোনটার সাথে কোনটার মিল নেই। নেই একতা,শৃঙ্খলা ও বিশ্বাসের অটুট মেলবন্ধন।

নবাব শাসনামলের শেষ পর্যায়ে ইংরেজ জাতিও আমাদের ওপর দুশো বছরের শাসন চালিয়েছিল শুধু আমাদেরই মুনাফেকি চরিত্রের ভাস্কর্যতায়।

————————————————————————————————————

ভারতীয় সাম্প্রদায়িকগোষ্ঠী কিংবা দুনিয়ার অন্য কোথাও ইসরায়েলের মতো কট্টর ইয়াহুদী নাসারাদের পিণ্ডির গন্ডিতে নির্যাতন, নিষ্পেষনের প্রতিবাদে আমরা শুধু শুক্রবারে কিছু মানুষ বায়তুল মোকাররমে জুমার নামাজের পরবতী সুন্নত আদায়ের আগেই উত্তর গেটে জড়ো হয়ে মিছিল করে নিজেকে প্রদর্শন করি। যাতে থাকে রহস্যময় এক উন্মাদনা ও গলাবাজির কবিরাজি। হুমকি, ধমকি। বস্তুত, যাতে নেই কোন পরিকল্পনা কিংবা ইসলামী শক্তির আদর্শিক প্রেরণা। বরং , যেন আমরা উগ্রবাদী হিসেবে বিষিয়ে ওঠি। দাঁতের ওপর দাঁত কামড়ায় ।

————————————————————————————————————

আবার সেখানে দাঁড়িয়ে আমরা রাজনীতির এক মুসলমান আরেকটা রাজনীতির লেজুড়বৃত্তিয়ানাকে অমুসলিম বলে জাহির করি। যেটা একটি মুসলিম সম্প্রদায়কেও বহুধারায় বিভক্তির অনন্য শক্তি বলে মনে করি। অধিকিন্তু, আমাদের অতিব জরুরি ছিল মুসলিম সম্প্রদায়িক রাজনীতির প্রীতি, একতা আর ঐক্যতার গতিশীলতা।
ভারতের সাম্প্রদায়িক রাজনীতিতে বাংলাদেশের মতো ধর্মের কর্ম নামে এতো রাজনৈতিক দল আছে বলে জানা নেই। তবে থাকলে জনসংখ্যা ও ভৌগলিক সীমা রেখায় বাংলাদেশের মতো নয়। এ দেশে নির্বাচন কমিশনের তালিকায় রয়েছে ৩৬ টি সাম্প্রদায়িক রাজনীতির দল।

একপর্যায়ে, আল্লাহর অপার কৃপায় হযরত শাহজালাল, হযরত শাহ পরান, হযরত মোহছেন আউলিয়ার বদান্যতায় এ দেশের মাটিতে রাজা গৌরগোবিন্দের রাজত্বের দাসত্ব থেকে আমাদের মুক্তি মেলে।

তবে ইংরেজ জাতিও এ দেশ ছেড়ে যাওয়ার সময় আমাদের ভৌগলিক সীমারেখায় মানচিত্র কেটে টুকরো-টুকরো করে  সার্বভৌমত্বকে হুমকির মুখে রেখে যায়। যাতে তাতেও ছিল আমরা যেন ধর্মীয় জাতি হিসেবে এক প্রীতিতে মোহিত হতে না পারি। ধারণা করছি, দুনিয়াতে ইসলাম ধর্মের কর্মই একমাত্র দুনিয়ার হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, ইয়াহুদী কেহই সহজে হজম করে নিতে চায় না।

আমাদের সিলেট সীমান্তের করিমগঞ্জকে আসামের দখলে রেখে দেশ বিভাজনের রাজনীতিতে বঙ্গভঙ্গের প্রকৃত ন্যায়পরায়নতার মৃত্যু ঘটায়। তথাপি, আজ করিমগঞ্জের সংখ্যাগরিষ্ঠ আদিবাসী মুসলিম হওয়ার কারণে তাদের জীবন, জীবিকা সর্বোপরি ধর্মীয় বিশ্বাসের দায়ে প্রতিনিয়তই ভারতীয় সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বলিতে গালি আর গুলি নিয়ে বেঁচে থাকতে হয়।

আবার আমাদের পার্বত্য চট্টগ্রামের মাটি নিয়েও রয়েছে তাদের দীর্ঘদিনের যাতনা। এ মাটিকেও ভারতীয় সাম্প্রদায়িক ও আধিপত্যবাদীতার দখলে নিতে রয়েছে নানা ফন্দি, ফিকিরের জিকির। যে কারণে, ভারতীয় সাম্প্রদায়িক রাজনীতি পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত ভিন্ন সম্প্রদায়ের একেকবার একেক গোষ্ঠীর হাতে অস্ত্র তুলে দিয়ে সেসব মানুষকে দেশের বিরুদ্ধে রাজাকার সাজায়।

আমাদের ধর্ম আর মানচিত্রের বিরুদ্ধে রয়েছে পাশের দেশ বার্মারও ধর্মীয় উন্মাদনা। সেখানকার লাখ লাখ মুসলিম আজ দেশ ছেড়ে পালিয়ে এসেছেন বাংলাদেশের মাটিতে। সবই ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতার খেলা। কেননা এ পর্যন্ত কোন হিন্দু কিংবা অন্যসম্প্রদায়ের মানুষকে তারা পুশইন করেনি।

এটাই তাদের সাম্প্রদায়িক রাজনীতিরও খেলা ! যদিও এমন সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী ও দেশগুলোর গর্হিত ও ঘৃণিত রাষ্ট্র নীতি নিয়ে জাতিসংঘেও আলোচনা হয়না।

তবে এ কথা সত্য যে, একটি সম্প্রীতি আর সৌহার্দ্যের বাংলাদেশে কোন সাম্প্রদায়িক সহিংসতা নেই। এটাও সত্য যে, মাঝে মধ্যে দেশীয় ও আর্ন্তজাতিক পরিমন্ডলে দেশের বিরুদ্ধে উস্কে দিতে কোন কোন রাজনৈতিক দল নিজের স্বার্থ চরিতার্থে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনার নায়ক হয়।

লেখক : সম্পাদক ও প্রকাশক।

সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!