নোয়াখালীতে ভূমি উপ-সহকারীর কোটি টাকার সম্পদের নেপথ্য কাহিনী

  • আপডেট সময় রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬
  • ১১ পাঠক

দিশারী ডেস্ক।। ১৯ জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ।।

নোয়াখালীর সদরে উপজেলার লোহাগড়া তহশিলে কর্মরত ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা জাহানারা আক্তারের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি, অনিয়ম ও সরকারী চাকুরি বিধির বরখেলাপ করে কোটি-কোটি টাকার সম্পত্তি অর্জনের অভিযোগ ওঠেছে।

নোয়াখালী জেলা প্রশাসক বরাবরে দায়ের করা অভিযোগে নোয়াখালী পৌরএলাকার ফকিরপুরের শাহাদাত হোসেন মুন্নার পক্ষে সিরাজ উদ্দিন হেলাল স্বাক্ষরিত এক অভিযোগে এমন তথ্য জানা গেছে। তাতে উল্লেখ রয়েছে, জাহানারা আক্তার একজন সরকারী চাকুরিজীবি। কিন্তু অত্যন্ত ধূর্ততার সাথে তিনি সরকারী চাকুরির তথ্য গোপণ রেখে, নিজেকে গৃহিণী সাজিয়ে নোয়াখালী শহর ও সদর উপজেলার ধর্মপুরের চরসল্যায় বেশ কিছু সম্পত্তির খরিদ করেন। এ সময় তিনি সেসব সম্পত্তির সঠিক, উপযুক্ত ও যথাযথ মূল্য গোপণ করে সরকারী রাজস্ব ও যাবতীয় করাদী ফাঁকি দেয়ার হীনলক্ষ্যে বাজার অনেক কম মূল্য হিসেবে প্রদর্শন করেছেন।

অভিযোগ রয়েছে, ওই নারী সরকারী চাকুরিবিধি অনুযায়ী কোন ধরনের অনুমতি ব্যতিরেখে ফকিরপুরস্থ এলাকায় মদিনা টাওয়ার নামীয় ভবনের একটি ফ্ল্যাট খরিদ করেন। যার মূল্য ধরা হয়েছে ৫৫ লাখ টাকা। অবশ্য এসব তার স্বামীর টাকায় কেনা হয়েছে বলেও দাবি তার।

—————————————————————————————————————-

গত ১৭ আগষ্ট, ২০২২ সালে নোয়াখালী সদর ভূমি রেজিষ্ট্রি কার্যালয়ে একইদিনে ৮৭৩৪ ও ৮৭৩৭ নম্বরে আরো দুটি দলিল সম্পাদন হয়েছে তার নামে। যার মূল্য ৩৭ লাখ ৬৫ হাজার টাকা ধরা হলেও, প্রকৃতপক্ষে এর বাজার মূল্য কোটি টাকারও ওপরে বলে জানান সিরাজ উদ্দিন হেলালসহ সংশ্লিষ্টরা।

—————————————————————————————————————-

এছাড়া বিভিন্ন ব্যাংকে জাহানারা আক্তারের নামে স্বনামে, বেনামে লাখ-লাখ টাকা সঞ্চিত রয়েছে বলে জানান সিরাজউদ্দিন হেলাল।

জানা গেছে, আক্তার মিয়ার হাট, চরজব্বর তহশিলে কর্মরত থাকাকালেই ভূমি মালিকদের জমাখারিজ খতিয়ান সৃজন, খাজনা ও বন্দোবস্তসহ নানাকাজে সাধারণ মানুষকে কখনো জিম্মি করে আবার কখনো প্রতারনা করেই এসব টাকার মালিক হয়েছেন জাহানারা।

এদিকে, নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক বরাবরে দায়ের করা অভিযোগের প্রেক্ষিতে সুবর্ণচর উপজেলার ভূমি সহকারী কর্মকর্তা এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে সিরাজ উদ্দিন হেলাল ও জাহানারা আক্তারকে নোটিশ প্রদান করেন। এ সময় শুনানিকালে জাহানারা মৌখিকভাবে নিজেকে পরিশুদ্ধ মানুষ বলেও দাবি করেন। একপর্যায়ে, ওই কর্মকর্তা এ বিষয়ে তাকে বিস্তারিত লিখিত জবাব দেয়ার নির্দেশনা প্রদান করেছেন।

কিন্তু লিখিত জবাবদানকালেও জাহানারা নিজের নামে থাকা সদর উপজেলার চরসল্যাহ মৌজায় থাকা ২২২২ খতিয়ানের ১ একর ৬০ শতক জমির কেনার তথ্য গোপণ করেছেন। যার খরিদীয় বাজার মূল্য অর্ধ কোটি হিসেবে দলিলে উল্লেখ রয়েছে। যার বর্তমান বাজার মূল্য কোটি টাকারও ওপরে।

তাছাড়া তিনি দলিল সম্পাদনকালে নানা অভিযোগ থাকার অজুহাত দিয়ে পার পাওয়ার চেষ্টা করলেও, প্রকৃতপক্ষে তার দেয়া জাতীয় পরিচয়পত্রতেই এসব দলিল সম্পাদন করা হয়েছে বলে রেজিষ্ট্রি কার্যালয় সূত্র জানায়।

সূত্র জানায়, অগ্রণী ব্যাংক থেকে মাত্র ১০ লাখ টাকার ঋণ দেখানো হলেও, তাও একটি শুভকংকরের ফাঁকি বলে দাবি করছেন হেলাল।

অভিযুক্ত জাহানারা আক্তার মিয়ার হাট ও চরজব্বরে থাকাকালেই এ অঢেল সম্পত্তির মালিক হয়েছেন বলে জানান তার সহকর্মীরাও। এ বিষয়ে সদর উপজেলার ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শাহনেওয়াজ তানভীর বলেন, বিষয়টি যেহেতু তদান্তাধীন তাই এ বিষয়ে এখন কিছু না বলায় উত্তম বলে মনে করছি।

সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!