কবিরহাটে জমি কিনে প্রতারকচক্রের খপ্পরে হতদরিদ্র্য পরিবার

  • আপডেট সময় রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬
  • ৯ পাঠক

দিশারী ডেস্ক।। ১৯ জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ।।

নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার পশ্চিম অশ্বদিয়ার অসহায় ও হতদরিদ্র তাজনাহারের পরিবার নগদ টাকায় জমি কিনে চরম প্রতারণা ও হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ ওঠেছে।

কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বরাবরে দায়ের করা অভিযোগে তাজনাহার অভিযোগ করেন, সুন্দলপুরের গঙ্গা এলাকার মেজবাহ উদ্দিন, পশ্চিম রাজুরগাঁর ইব্রাহিম সোহেল, ছবিরপাইকের সিরাজ, জোসনা, আলমগীর হোসেন, আবুল খায়েরসহ সংঘবদ্ধদের প্রতারনার শিকার হয়েছেন তিনি।

তিনি জানান, সংঘবদ্ধরা অসামাজিক ও দুষ্ট প্রকৃতির লোক হয়। মানুষের সাথে প্রতারনা করাটাই তাদের পেশা ও নেশা বলে দাবি করছেন তিনি। তাজনাহার জানান, তার স্বামী মো. সেলিম রিক্সা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। তাদের মাথাগোঁজার বিকল্প কোন ঠাঁই নেই।

বিষন্ন বদনে তাজনাহার অভিযোগ করেন, বেশ কিছুদিদন আগে তার পরিবারের লোকজনের বসবাসের সুবিধার্থে সুন্দলপুরের আবদুল্যাহ মিয়ার হাট বাজারের মালেক সারেং বাড়ির পাশে দলিল লিখক মেজবাহ উদ্দিনের কাছ থেকে জমি কেনার শর্তে একটি চুক্তিপত্রে সম্মত হন তিনি।

মেজবাহ তার মালিকীয় ও দখলীয় ১২ শতাংশ ভূমি পাঁচ লাখ টাকায় তাজনাহারের কাছে বিক্রয় করেন।
তিনি বলেন, মেজবাহ উদ্দিন দলিল লেখক হওয়ায় তিনি ও তার পরিবারের লোকজন তাকে সরল মনে বিশ্বাস করেন। একপর্যায়ে, তাজনাহার ও তার স্বামী মো. সেলিম অশিক্ষিত হওয়ার সুযোগে মেজবাহ অত্যন্ত কুটকৌশলে তার সাথে চুক্তিকৃত জমিতে তাদের সাব-রেজিস্ট্রি না দিয়ে গত ১০ এপ্রিল, ২০২৫ তারিখে ১৪০৭ নম্বর সাফ কবলা দলিলমূলে ভিন্ন দাগে, ভিন্ন খতিয়ানের জমি সাব-রেজিস্ট্রি করে দেয়। সরল মনে বিশ^াস করে ওই জমিতে নামজারি, খাজনা ও রেজিস্ট্রি খরচ বাবত মেজবাহকে নগদে আরো ১ লাখ টাকা প্রদান করেন তাজনাহার।

পরবর্তীতে, স্থানীয় আমিন দ্বারা ওই জমির দলিলাদী পর্যালোচনা করে দেখতে পান, মেজবাহ তাদেরকে ভিন্ন দাগ ও ভিন্ন খতিয়ানের জমি সাব-রেজিস্ট্রি দিয়ে সমুদয় টাকা আত্মসাত ও প্রতারনা করছেন।

এ বিষয়ে তারা তাকে জানতে চাইলে, মেজবাহ ভুক্তভোগী পরিবারের লোকজনকে ভয়-ভীতি ও হুমকি প্রদান করেন। একপর্যায়ে, মেজবাহ ভুক্তভোগী পরিবারের সমুদয় টাকা ফেরত দেয়াসহ জমি ফেরত নিবেন বলেও আশ্বাস প্রদান করেন।

মেজবাহর কথামতো গত ১৪ জুলাই, ২০২৬ তারিখে তাজনাহার ও তার মেয়ে এবং স্বামীকে নিয়ে সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে গেলে, মেজবাহ পূর্ব পরিকল্পিতভাবে তাজনাহার ও তার পরিবারের সদস্যদের আটক করে ক্ষিপ্ত হয়ে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করাসহ মারধর করে শরীরের বিভিন্ন অংশে বেদনাদায়ক জখম করেন। এ সময় তাজনাহারের সাথে থাকা এনআইডি কার্ডসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে যায় তারা।

পরবর্তীতে, মেজবাহ ও তার সঙ্গীয়রা তাজনাহার ও তার পরিবারের অন্য সদস্যদের জিম্মি করে উদ্দেশ্যে প্রণোদিতভাবে অনুমান ২৫ টি অলিখিত স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয়।

এদিকে, মেজবাহসহ অন্যরা তাজনাহারকে ছবির পাইক সাকিনের একটি বসত বাড়ীতে নিয়ে বেঁধে রাখাকালে স্থানীয় স্বাক্ষীগণসহ আশে-পাশের লোকজন জানতে পেরে মেজবাহদের কবল হতে তাকে উদ্ধার করে।
মেজবাহ এ পর্যন্ত অসহায় তাজনাহারের টাকা ও সঠিক সম্পত্তি ফেরত প্রদান না করে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এবিষয়ে কোথাও কোন অভিযোগ কিংবা নালিশ দায়ের করলে তার বড় ধরনের ক্ষতি সাধন করবে মর্মে ভয়-ভীতি ও হুমকি প্রদান করায় বর্তমানে ভয়ে তাজনাহার ও তার পরিবারের লোকজন চরম নিরাপত্তাহীনতায় আতঙ্কিত।

এ ঘটনার বিষয়ে অশ্বদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সুমন মিয়া বলেন, সুন্দলপুরে একটি প্রতারকচক্র রয়েছে। জমি-জমা বিক্রয়ের নামে মানুষের সাথে অহরহ প্রতারনা করে। তারা এক জায়গা দেখিয়ে, অন্য জায়গা বিক্রয় করে মানুষকে হয়রানি করে। তবে মেজবাহ জানান, বিষয়টি নিয়ে মিমাংসার কথাবার্তা চলছে।

কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!