নোয়াখালীতে শিক্ষা উপকরণের দাম বেড়েছে ৩০-৫০ শতাংশ

  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১২, ২০২৩
  • 93 পাঠক

——————————————————————————————

দুশ্চিন্তায় অভিভাবক মহল

——————————————————————————————

নিজস্ব প্রতিনিধি । ১২ অক্টোবর, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ।

ছেলে মেয়ের লেখাপড়ার উপকরণাদি কিনতেই বড় হিমশিম খাচ্ছেন আবু নাছের। বললেন, ছেলে মেয়ে তিনজনই লেখাপড়া করছে। কেহ স্কুলে, কেহ কলেজে।স্বল্প আয়ে সংসার এবং ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া যে কিভাবে চলবে সে ভাবনায় চরম দুশ্চিন্তায় তিনি।

বর্তমানে অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে সব ধরনের শিক্ষা উপকরণের দামও। গত এক বছরের ব্যবধানে কাগজ, কলম, খাতা, সহায়ক বইসহ বিভিন্ন ধরনের শিক্ষা উপকরণের দাম বেড়েছে ৩০ হতে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত। মূল্যবৃদ্ধির কারণে ওই সব শিক্ষা উপকরণ খুচরা বিক্রি কমেছে, একইসঙ্গে বিক্রি কমেছে খুচরা দোকানেও। যে কারণে ক্রমশই ব্যয় বেড়ে চলেছে অভিভাবক-শিক্ষার্থীদের। তাই বর্তমান সময়ে যেন ওই সব শিক্ষা উপকরণ সমূহের বাড়তি খরচ জোগাতে অনেকটাই হিমশিম খাচ্ছেন মধ্য ও নিম্নআয়ের সাধারণ মানুষ।

সবচেয়ে বড় সংকট কাগজের। নোয়াখালীর বিভিন্ন এলাকা সরজমিনে ঘুরে ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে এমনই তথ্য। নোয়াখালী শহরে বই-খাতা বিক্রির একাধিক দোকান রয়েছে। প্রতিদিনই ওই সব স্থান হতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী-অভিভাবকগণ শিক্ষা উপকরণ কিনে থাকেন। এ ছাড়া নোয়াখালীর বাইরের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলো হতেও ক্রেতা আসেন তাদের প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ ক্রয় করতে।

নোয়াখালী বুক ডিপোর এক কর্মচারী জানান, কাগজের তৈরি সব পণ্যের দাম হু হু করে বাড়ছে। বছরের শেষে অনেকে নতুন ক্লাসের জন্য বই-খাতা ও অন্যান্য শিক্ষা উপকরণ কিনতে আসছেন। এই প্রতিষ্ঠান অনেক পুরাতন হওয়ার কারণে নির্ধারিত ক্রেতা এখান থেকে সব উপকরণ ক্রয় করে থাকেন। বর্তমানে শিক্ষা উপকরণের দাম বাড়তির কারণে অনেক ক্রেতারা ফিরে যান, দামও কষাকষি হচ্ছে। গত ক’মাস মাস আগে ৮০ পৃষ্ঠার অপসেট কাগজের একটি বাইন্ডিং খাতা ২৫ টাকায় বিক্রি করতাম, বর্তমানে সেটি ৩৫ টাকা। প্রতিটি উপকরণের দাম বেড়েছে ৩০/৫০ শতাংশ।

শুধু খাতা নয়, চায়না থেকে আমদানি করা জ্যামিতি বক্স, স্কেল, পেন্সিল, কলমসহ সব কিছুর দাম ৪০/৫০ শতাংশ বেড়েছে। সৃজনশীল ও সহায়ক বইও ২৫/৩০ শতাংশ বেড়েছে। নাছির বুক সেন্টারের স্বত্বাধিকারী জানান, কাগজের দাম বাড়তির কারণে তেমন কেনাবেচা নেই। হোয়াইট পেজের খোলা ২৪ পৃষ্ঠা আগে ১৫ টাকায় বিক্রি করা হতো, গত এক মাসে সেটির দাম বেড়েছে ১০ টাকা। যা বর্তমানে ২৫ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। প্রায় সব ধরনের খাতাও কাগজের দাম বেড়েছে। উপন্যাস-গল্পের সৃজনশীল বই আগে যেটি ৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে বর্তমানে সেটি ১শ’ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে।

চাকরির প্রস্তুতিমলূক বইয়ের দামও বেড়েছে ৩০/৪০ শতাংশ। প্রায় সব ধরনের স্টেশনারি ও খাতাপত্রের দামও। ক্রেতা রায়হান আহমেদ জানান, মেয়ের এসএসসির মডেল টেস্ট পেপার কেনার জন্য এসেছি। দাম শুনে অবাক হলাম। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে ২৫শ’ টাকার বই এখন সাড়ে ৪ হাজার টাকা। এ ছাড়া খাতা, জ্যামিতি বক্স ও অন্যান্য জিনিসের দামও বেড়েছে। আগের তুলনায় বর্তমানে বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণের দাম ২০/৫০ শতাংশ বেড়েছে।

প্রগতি বুক সেন্টারের স্বত্বাধিকারী জানান, প্রতি বছরের ডিসেম্বর মাস হতে অর্থাৎ বার্ষিক পরীক্ষা শেষে আর নতুন বছরের ভর্তির শুরুতে বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ বিশেষ করে খাতা, কাগজ, সহায়ক বইসহ বিক্রির মৌসুম।

এ ছাড়া সামনে এসএসসির মডেল টেস্টও শুরু হবে। এমন সময়ও আমাদের খাতা-নোট বিক্রি কমে গেছে। প্রতিটি খাতা আগের চেয়ে ২০ হতে ৪০ টাকা বেশিতে বিক্রি করতে হচ্ছে। সে কারণে অনেকে যা প্রয়োজন তাই কিনছেন, বাড়তি কিনছেন না। দাম বাড়তির কারণে কেনাবেচা অনেক কমে গেছে। বুক বিতানের বিক্রেতা হাবিব জানান, খাতার দাম বেড়ে যাওয়ায় নতুন করে তারা দোকানে মালামাল কিনছেন না। বর্তমানে শুধু বই বিক্রি করছেন।

সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!