পরিবহণে চাঁদাবাজি : মন্ত্রীদের কথায় চাঁদাবাজরা উসকানি পায় ?

  • আপডেট সময় শনিবার, মার্চ ১৬, ২০২৪
  • 22 পাঠক

দিশারী ডেস্ক। ১৬ মার্চ ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।

দেশের পরিবহণ খাতে যে চরম নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে, তাকে এক কথায় ভয়াবহ বললেও বুঝি কম বলা হয়। মালিক-শ্রমিক সংগঠন, পুলিশ, স্থানীয় মাস্তান ও কতিপয় অসৎ রাজনৈতিক নেতার কারণে দেশে পরিবহণ চাঁদাবাজি বেপরোয়া রূপ নিয়েছে। যাত্রী কিংবা পণ্য পরিবহণ-সব ক্ষেত্রেই চাঁদা ছাড়া গাড়ির চাকা ঘোরে না।

——————————————————————————————————————-

” একটি জাতীয় দৈনিকে এমন খবর প্রকাশিত হয়েছে। সারা দেশে এ খাতে নানা কৌশলে চাঁদাবাজি চলছে। শনিবার সরকারের মন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়েদুল কাদের বলেছেন, চাঁদাবাজি পুরোপুরি বন্ধ করা যাবেনা। তবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। আমরা মনে করি, মন্ত্রীরা এভাবে বললে চাঁদাবাজরা উসকানি পায়। বরং, তিনি বলতে পারতেন চাঁদাবাজ সে যেই হোক, তাকে শক্তহাতে দমন করা হবে। “

——————————————————————————————————————–

গণপরিবহণে যেমন রুট মালিক ও মালিক-শ্রমিক সমিতির নামে সরাসরি চাঁদাবাজি চলে, তেমনি আন্তঃজেলা ট্রাকের ক্ষেত্রে মাসোহারা হিসেবে টোকেন দিয়ে নীরব চাঁদাবাজি করে ট্রাফিক পুলিশ। আর ঢাকায় ঢোকার মুখে চাঁদা তুলতে সরব স্থানীয় মাস্তানদের লাঠিয়াল বাহিনী। পণ্যবাহী ট্রাকচালকরা চাঁদা না দিলে তারা হামলে পড়ে।

রাজধানীতে আবার যাত্রীবাহী পরিবহণ ও ট্রাকের চাঁদাবাজির ধরন আলাদা। বাসগুলোর ক্ষেত্রে মূলত কেন্দ্রীয়ভাবে মালিক সমিতিগুলো এটি নিয়ন্ত্রণ করে। পণ্যবাহী ট্রাকে এমন কেন্দ্রীয় কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। ঢাকার বাইরে ট্রাকে পণ্য ওঠানো থেকে শুরু হয় চাঁদাবাজি। এভাবে সারা দেশ থেকে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার চাঁদা তোলা হয়। চাঁদার এ টাকা বিভিন্ন স্তরে তারা ভাগবাঁটোয়ারা করে নেয়।

দিনদিন  বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য বেশি। রাত যত গভীর হয়, তাদের তৎপরতা ততই বাড়তে থাকে। অভিযোগ আছে, চাঁদাবাজদের সিগন্যাল উপেক্ষা করে গাড়ি চালালে নানা রকম ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। চাঁদাবাজরা গাড়ি ভাঙচুর, এমনকি চালক ও সহযোগীকে মারধর পর্যন্ত করে। এ কারণে চাঁদাবাজদের এক ইশারাতেই এখন থেমে যায় গাড়ি।

চাঁদা তোলার জন্য রীতিমতো বেতনভুক্ত লাঠিয়াল বাহিনীও রাখা হচ্ছে। তারা রোস্টার করে ডিউটি বণ্টন করে চাঁদা তোলে। এ টাকার বড় একটি অংশ যায় পুলিশ ও স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের হাতে। মাঝেমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে চুনোপুঁটিরা ধরা পড়লেও গডফাদাররা থাকেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

এমন অবস্থায় এ খাতে সরকার অবিলম্বে দৃষ্টি না দিলে সংকট আরও বাড়বে। ভুলে গেলে চলবে না, চাঁদার কারণে পরিবহণ মালিক-শ্রমিক তো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেনই, খরচ সমন্বয় করতে গিয়ে নিত্যপণ্যের দামও বাড়ছে। এর প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের ওপর। চাঁদাবাজদের হাতে জিম্মি হওয়া সাধারণ মানুষদের উদ্ধারে তাই সরকারকে কঠোর হতে হবে।

গণপরিবহণে সুষ্ঠু যাত্রীসেবা যেমন নিশ্চিত করতে হবে, তেমনি পণ্য পরিবহণের কাজে নিয়োজিত ট্রাক-কাভার্ডভ্যানসহ সব ধরনের যানে অবৈধ চাঁদাবাজি রুখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোয় থাকা চাঁদাবাজদের সহযোগী অসাধু কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে তাদেরও শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

পরিতাপের বিষয়, পরিবহণ খাতটি সবসময় রাজনৈতিক প্রভাব দ্বারা নিয়ন্ত্রিত থাকে। এর নিয়ন্ত্রণভার পুরোপুরি কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর অর্পণ করতে হবে। অন্যথায় নৈরাজ্যজনক পরিস্থিতির অবসান ঘটবে না। নিরাপদ ও জনবান্ধব পরিবহণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, এটাই প্রত্যাশা।

সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!