দেশে সেমিপাকা ঘর বেশি

  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, মার্চ ২৮, ২০২৪
  • 13 পাঠক

———————————————————

বিবিএসের প্রতিবেদন  

——————————————————–

দিশারী ডেস্ক। ২৮ মার্চ, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।

গত ২৪ মার্চ প্রকাশিত বিবিএসের তথ্য অনুসারে, দেশে সর্বশেষ হিসেবে ( ২০২৩ সাল) টিনের ছাদওয়ালা বসতঘরের হার ছিল ৭৮ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ, যা আগের বছর ২০২২ সালে কিছুটা বেশি ছিল (৭৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ) এবং ২০২১ সালে ছিল আরও বেশি ৭৯ দশমিক ৩৫ শতাংশ। উল্টোদিকে সর্বশেষ হিসাব মতে, ২০২৩ সালে সিমেন্ট-কংক্রিটের ছাদওয়ালা ঘরের হার ছিল ২০ দশমিক ৯১ শতাংশ, ২০২২ সালে ছিল ২০ দশমিক ১০ শতাংশ ও ২০২১ সালে ছিল ১৮ দশমিক ৯৬ শতাংশ।

বসতঘরের দেয়ালের ক্ষেত্রে অবশ্য সিমেন্টের হারই বেশি। ২০২৩ সালে যা ছিল ৪৬ দশমিক ৩০ শতাংশ, আগের বছর ২০২২ সালে ছিল ৪৫ দশমিক ৪১ এবং ২০২১ সালে ছিল ৪৩ দশমিক ৬৩ শতাংশ, যা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। এ ক্ষেত্রে টিনের দেয়াল ছিল ২০২৩ সালে ৪২ দশমিক ৪৪ শতাংশ এবং ২০২২ সালে ছিল ৪২ দশমিক ৬১ শতাংশ ও ২০২১ সালে ছিল ৪২ দশমিক ৮৬ শতাংশ, যা ধারাবাহিকভাবে কমেছে।

এদিকে মেঝের হিসাবে ২০২৩ সালে দেশের ৪৯ দশমিক ২২ শতাংশ বসতঘরের মেঝে ছিল কাদামাটির তৈরি। ২০২২ সালে ছিল ৫০ দশমিক ৭৫ শতাংশ ও ২০২১ সালে ছিল ৫২ দশমিক ৩০ শতাংশ। এই হার ৩ বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে কমে এসেছে। এর বিপরীতে ২০২৩ সালে ৪৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ ঘরের মেঝে পাকা বা সিমেন্টের ছিল। ২০২২ সালে যা ছিল ৪২ দশমিক ৪১ শতাংশ ও ২০২১ সালে ছিল ৪১ দশমিক ৪২ শতাংশ।

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের নগর ও শহরগুলোতে অত্যাধুনিক ও ব্যয়বহুল অট্টালিকার ঘনবসতি থাকলেও এর বাইরে উল্টো চিত্র রয়েছে। দেশে বসতঘর হিসেবে ভবন নির্মাণের হার আগের তুলনায় বেড়েছে। তবে দেশে এখনো টিনের তৈরি ঘর সবচেয়ে বেশি। একইভাবে কাদামাটির মেঝের ঘরও রয়েছে সর্বোচ্চ। ঘরের দেয়াল বেশি রয়েছে ইট-সিমেন্টের।

এককথায়, পায়ের নিচে কাদামাটি আর মাথার ওপরে টিনের ছাদের বসতঘরই সর্বোচ্চসংখ্যক। যদিও তুলনামূলক হার কিছুটা কমে এসেছে। আবার মোট তুলনামূলক চিত্রে তিন সূচকেই ইট-সিমেন্টের দেয়াল, মেঝে ও ছাদওয়ালা (পাকা) ভবন নির্মাণের হার অল্প করে বেড়েছে। কোনো সূচকে কম, কোনো সূচকে বেশি ধরেই দেখা যায়, মোটের ওপর প্রচলিত ভাষায় সেমিপাকা ঘরেরই প্রাধান্য রয়েছে দেশজুড়ে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ‘বাংলাদেশ স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিক্স-২০২৩’ শীর্ষক সর্বশেষ গবেষণার ফলাফল বিশ্লেষণে এমন চিত্র ওঠে এসেছে।

জানতে চাইলে পল্লী-সহায়ক কর্মসূচির (পিকেএসএফ) সাবেক চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, দেশের মানুষের আয় বেড়েছে, ব্যয়ও বেড়েছে। শহরে ধনী লোকের সংখ্যা যে হারে বেড়েছে গ্রামে সে হারে বাড়েনি। গ্রামে আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নতির দৃশ্যমান চিত্র দেখা যায় সহজেই তাদের জীবনমানের পরিবর্তনে। যেমন এখন গ্রামে কেউ খালি পায়ে, খালি গায়ে হাঁটে না। একদম না খেয়ে থাকা কোনো মানুষ পাওয়া যায় না।

তিনি বলেন, পোশাক-আশাক, চালচলন দেখে কাউকে বোঝার উপায় নেই যে কারও আর্থিক সচ্ছলতা নেই। খাওয়া-দাওয়াও খারাপ না বলেই দুর্গম অঞ্চলে হাটবাজারে খাবারের দোকানের অভাব নেই। আধুনিক পণ্যের পসরা আছে। মানুষের খাওয়া-পরা চলছে কিন্তু এসবের পেছনে যে খরচ যায় তার তুলনায় ঘর সংস্কার বা নতুন ঘর তৈরি করা কিংবা ভবন তৈরি করার খরচ অনেক বেশি। সে পরিমাণ টাকা মানুষের হাতে জমা থাকে না। ফলে তারা টিনের ঘর কিংবা মাটির মেঝেতেই আটকে আছে। দেয়াল সিমেন্টের করলেও বেশির ভাগই মেঝে ও ছাদ সিমেন্টের করতে পারে না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ১৯৯০ সালের পরে দেশে একটা পরিবর্তনের ধারা সৃষ্টি হয়। যেখানে গ্রামের বেকার তরুণ-যুবক সমাজের একটি বড় অংশ ঢাকায় এসে পোশাকশিল্পে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেতে শুরু করে। আরেকটি অংশ বিদেশে পাড়ি দেওয়ার পথ ধরে। এর প্রভাব গ্রামে থাকা তাদের স্বজনদের মধ্যে পড়তে শুরু করে। অন্যদিকে দেশে আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে যে অগ্রগতি সাধিত হয়েছে বা জিডিপিতে অগ্রগতি এসেছে, সেখানে একটা গ্যাপ আছে। বিশেষ করে মানুষের তাৎক্ষণিক ভোগের জন্য আয় উপার্জন বেড়েছে। কিন্তু টেকসই উপার্জন বা বিনিয়োগের জায়গা এখনো মজবুত হয়নি।

ওই বিশেষজ্ঞ বলেন, মানুষের তাৎক্ষণিক খরচ চলছে কিন্তু বাড়ি তৈরির সংগতি এখনো এই দেশের বেশির ভাগ মানুষের নেই। তার ওপর কোভিড মহামারির ধকল এখনো কাটেনি। ওই সময় অনেকেই আগের জমানো টাকা খরচ করে খেয়েছে। এর মধ্যে আবার মূল্যস্ফীতির টানাপোড়েন চলছে। এসবের প্রভাব পড়ে মানুষের বসতি নির্মাণের ওপর।

বিবিএসের তথ্যসূত্র অনুসারে, টিন-সিমেন্ট ছাড়াও অন্যান্য উপকরণে তৈরি বসতঘরও রয়েছে দেশে। এর মধ্যে মেঝের ক্ষেত্রে টাইলস বা পাথরের মেঝের ঘর ২০২৩ সালে পাওয়া যায় ৬ শতাংশ, যা ২০২২ সালে ছিল ৫ দশমিক ৩৫ শতাংশ এবং ২০২১ সালে ছিল ৪ দশমিক ৩৪ শতাংশ। কাঠ-বাঁশের মেঝের ঘর ২০২৩ সালে ছিল ১ দশমিক ২৩ শতাংশ, ২০২২ সালে ছিল ১ দশমিক ৪২ শতাংশ ও ২০২১ সালে ছিল ১ দশমিক ৭৪ শতাংশ। ২০২৩ সালে অন্যান্য উপকরণের মেঝে ছিল শূন্য দশমিক ১৮ শতাংশ, ২০২২ সালে ছিল শূন্য দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ এবং ২০২১ সালে ছিল ১ দশমিক ১৯ শতাংশ। দেয়ালের ক্ষেত্রে সিরামিক টাইলসের দেয়াল ছিল শূন্য দশমিক ৭০ শতাংশ ঘরে, ২০২২ সালে যা ছিল শূন্য দশমিক ৫৪ শতাংশ এবং ২০২১ সালে ছিল শূন্য দশমিক ৪৭ শতাংশ ভবনে। কাঠ-বাঁশের দেয়াল ২০২৩ সালে ছিল ৩ দশমিক ২৪ শতাংশ, ২০২২ সালে ৩ দশমিক ৭৬ ও ২০২১ সালে ৪ দশমিক ৭৬ শতাংশ। মাটির দেয়াল ২০২৩ সালে ছিল ৭ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ, ২০২২ সালে ছিল ৭ দশমিক ৫৪ শতাংশ ও ২০২১ সালে ৮ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ।

সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!