নোয়াখালীতে সরকারী বিজ্ঞাপণ প্রকাশে অনিয়ম, কারা হচ্ছেন সম্পাদক, প্রকাশক ?

  • আপডেট সময় বুধবার, ২৮ মে, ২০২৫
  • ৮২ পাঠক

দিশারী ডেস্ক। ২৮ মে, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ।

নোয়াখালীর সড়ক ও জনপথ বিভাগসহ বেশ কিছু সরকারী দপ্তরে বিজ্ঞাপন প্রকাশে চরম অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।

জানা গেছে, সড়ক বিভাগে কতেক সংবাদকর্মী এখানকার দায়িত্বশীল করনিককে প্রতিটি বিজ্ঞাপণ বাবত নগদ এক হাজার টাকার ঘুষ প্রদান করছেন। অবশ্য এ টাকা সেখানকার দুই কর্মচারীর মধ্যে ভাগাভাগি করে গিলছেন বলে জানা গেছে। ফলে এখানে একই ব্যক্তি বারবার বিজ্ঞাপণ হাতিয়ে নিচ্ছেন।

এছাড়া, নোয়াখালী পৌরসভায় এক করনিকও বিশেষ সখ্যতায় বারবার একই ব্যক্তিকে বিজ্ঞাপণ দিচ্ছেন। ফলে নোয়াখালীর বেশ কিছু সরকারী প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপণ প্রকাশ ও প্রচার ব্যবস্থা দিনদিন একটি নিয়ম নীতিহীন কর্মক্রিয়ায় পরিণত হয়েছে।

————————————————————————————————————-

তবে এক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক বলেছেন, এখানে স্থানীয় পত্রিকায় সবচেয়ে বেশি অনিয়ম হচ্ছে। সেসব প্রায় পত্রিকা শুধুমাত্র বিজ্ঞাপণ পেলেই প্রকাশিত হচ্ছে। তাও সংখ্যায় সর্বোচ্চ ১০/১২ কপির বেশি নয়।

————————————————————————————————————-

তিনি বলেন, এখানে হাতেগোনা মাত্র ক’জন সম্পাদক ভাল মানের সাংবাদিকতা করতে জানেন। অন্যরা নামখাওয়াস্তে। তারা এসেছেন শুধুমাত্র বিজ্ঞাপণ হাতিয়ে নিতে। যারা ভাল মানের সাংবাদিকতায় নেই, মূলত এ শ্রেণীর ক’জনই পত্রিকার প্রকাশক, সম্পাদক বনে গেছেন। আর আজব সরকারকালে সম্পাদক, প্রকাশকের সংখ্যাও বেড়ে গেছে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, এ কারণে নোয়াখালীকে রয়েল ডিস্ট্রিক্টও বলা হয় !

————————————————————————————————————-

এছাড়া এসব সম্পাদকের সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা মাধ্যমিক কিংবা নেই বললেই চলে বলে জানান ক’জন সম্পাদক। তারা বলেন, সাংবাদিকতার ভুয়া অভিজ্ঞতা দিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ না থাকার পরেও ইতোমধ্যে নোয়াখালী প্রশাসন হতে ক’জন ব্যক্তি রাতারাতি সম্পাদক বনে গেছেন। 

এছাড়া এসব করতে থানা, পুলিশসহ প্রশাসনের বিভিন্ন টেবিলে তারা আর্থিক লেনদেনও করছেন বলে জানান তিনি।

————————————————————————————————————-

সূত্র জানায়, কোন সংবাদপত্র প্রকাশনায় একজনের সম্পাদকের শিক্ষাগত যোগ্যতা কমপক্ষে স্মাতক হওয়া যথোপযুক্ত ওচিত্য হলেও এ জেলায় এমন ধরনের রীতি-রেওয়াজ নেই বললেই চলে। ফলে, সম্পাদনা হয়ে গেছে একটি হরহামেশার কাজ-কারবার।

জানা গেছে, বিগত আওয়ামী লীগের সময়ে দলীয়ভাবে এসব দেখা হয়েছে। জনৈক শিপন একদিনের জন্যেও কোন গণমাধ্যমে সাংবাদিকতা না করার পরেও রাতারাতি আওয়ামী লীগের সে সময়ের প্রভাবশালী নেতা জাহাঙ্গীর আলমের তদবিরে হয়ে গেছেন দৈনিক নোয়াখালীর পাতার সম্পাদক ও প্রকাশক। বর্তমান অন্তর্বতী সরকারকালেও কতেক জন জামাত কিংবা বিএনপি কিংবা বৈষম্য দলের নেতা পরিচয়ে হয়ে গেছেন তাই।

সাংবাদিক নামের এসব কঙ্কাল ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের করনিকদের যোগসাজসে সংঘটিত কলঙ্কজনক পরিস্থিতিতে প্রায় সরকারী বিভাগের বিজ্ঞাপনগুলোও প্রচারিত হচ্ছে অত্যন্ত নিম্মমানের প্রচারসংখ্যার পত্রিকাসমূহে। এতে বিজ্ঞাপণ প্রকাশ ও প্রচারের আসল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হচ্ছে।

সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!