সুবর্ণচরে জমি বিক্রয় করেও রাজনীতি ! নাকি প্রতারনা ?

  • আপডেট সময় বুধবার, ১৮ জুন, ২০২৫
  • ৬৭ পাঠক

দিশারী ডেস্ক।। ১৮ জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ।

জমি বিক্রয় করে একের পর এক প্রতারণা, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজির কর্মকান্ডে লিপ্ত হওয়ার অভিযোগ ওঠেছে সুবর্ণচরের পশ্চিম চর জুবলির রহমত উল্যাহ, আমিনিত উল্যাহ, এনায়েত উল্যাহ, আমেনা, সেতারা, শেফালি, জহুরা, পারভিন ও মরিয়মদের বিরুদ্ধে।

জমির খরিদদার সদর উপজেলার ধর্মপুরের উত্তর ওয়াপদার ভুক্তভোগী মোহাম্মদ উল্যাহ জানান, সংঘবদ্ধ পরিবারের লোকজন জরুরী ও নগদ টাকার প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করে ওই সম্পত্তি বিক্রয়ের প্রস্তাব করলে তিনি রাজি হন। এ সময় স্থানীয় একজনের মধ্যস্থতায় তিনি সমুদয় সম্পত্তি খরিদ করার লক্ষ্যে গত ৩১ আগষ্ট, ২০২৩ তারিখে এক বায়না চুক্তি সম্পাদন করেন।

ওই সময় পুরো পরিবার মোহাম্মদ উল্যাহ হতে নগদ বার লাখ টাকা গ্রহণ করে বাকী টাকা পরবর্তী আট মাসের মধ্যে পরিশোধক্রমে দলিল সম্পাদনের নিমিত্তে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন।

মোহাম্মদ উল্যাহ কথামতো ও বায়নাচুক্তির শর্তানুযায়ী ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ তারিখে সমুদয় টাকা অর্থ্যাৎ সর্বমোট সাতাত্তর লাখ বাইশ হাজার টাকা পরিশোধ করে দলিল সম্পাদন করেন।

মোহাম্মদ উল্যাহ জানান, এ সময় বায়না চুক্তিতে এক একর তেতাল্লিশ শতক সম্পত্তির নিমিত্তে চুক্তিবদ্ধ হলেও বিক্রয়কালে দলিলে এক একর চৌদ্দ শতক জমির দলিল সম্পাদন করে দেয়া হয়। তবে বিক্রেতারা দলিল সম্পাদনের পর সমুদয় সম্পত্তি অর্থ্যাৎ বায়নাকৃত এক একর তেতাল্লিশ শতক সম্পত্তির পুরোটারই দখল বুঝিয়ে দিয়েছেন।

—————————————————————————————————————–

এ বিষয়ে মোহাম্মদ উল্যাহ জানতে চাইলে তারা বাদবাকী সম্পত্তি পরবর্তীতে দলিল সম্পাদন করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন।
স্থানীয়রা জানান, মূলত ৫ আগষ্টের পর আওয়ামী সরকারের পতনের পর জমির বিক্রেতারা নিজেদের বিএনপির-জামাত দাবি করে মোহাম্মদ উল্যাহর টাকা মেরে খেতে ওঠেপড়ে লেগেছিল। জমি বিক্রেতারা অস্বীকার করলেও স্থানীয়রা আরো বলেছেন, জমি বেচাকেনা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। অথচ এরা ইতোমধ্যে নিজেদের প্রতারনা জয়েজ করতে জমি বিক্রয় করেও রাজনীতি দেখাতে চায় ! এরা নিকৃষ্ট প্রতারক ও চাঁদাবাজ বলে মনে করছেন তারা।

—————————————————————————————————————–

এদিকে, মোহাম্মদ উল্যাহ খরিদীয় ও ভোগদখলীয় সম্পত্তির কতেকাংশ ইতোমধ্যে বিক্রয় করলে ওই সম্পত্তির মূল বিক্রেতাদের মাথাব্যথা শুরু হয়। তারা ধান্ধাবাজি ও চাঁদাবাজির চরিত্রে ফের মোহাম্মদ উল্যাহর সাথে প্রতারনার আশ্রয় নেন।
তারা মোহাম্মদ উল্যাহকে বায়নাকৃত সম্পত্তি না দিয়ে মাত্র ১ একর ১৪ শতক জমির দালিলিক মালিকানা দিয়ে বাদবাকী সম্পত্তির দলিল না দিতে নানা ধরনের কুটকৌশল ও ফন্দি ফিকিরে লিপ্ত হয়।

মোহাম্মদ উল্যাহ জানান, তিনি ব্যংক থেকে ঋণ নিয়ে এ সম্পত্তি খরিদ করেছেন।

এদিকে, বিক্রেতারা মোহাম্মদ উল্যাহর সাথে প্রতারনা জায়েজ করতে তাকে নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদান করছেন। তিনি আরো বলেন, ওই সম্পত্তির বায়নার পর একপর্যায়ে, সম্পূর্ণভাবে প্রতারণামূলকভাবে দলিল রেজিষ্ট্রেশন দেয়ার তারিখ দিয়ে তাকে সুবর্ণচরে নিয়ে প্রাণেহত্যারও পরিকরল্পনা করেছিলেন এই বিক্রেতারা।

এ বিষয়ে মোহাম্মদ নোয়াখালীর পুলিশ সুপার বরাবের অভিযোগ দিয়েছেন। তিনি জানান, নোয়াখালীর পুলিশ সুপার বরাবরে জমি বিক্রেতাদের সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি ও প্রতারনার বিষয়ে প্রতিকার চাওয়ায় তাকে মুঠোফোনসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রতিনিয়ত হুমকি-ধমকি প্রদান করছেন তারা।

অবশ্য, চরজব্বর থানার পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হয়ে ১০৭ ও ১১৭ ফৌজদারী কার্যবিধিতে সংঘবদ্ধদের বিরুদ্ধে জেলার সংশ্লিষ্ট আমলী আদালতে প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন।

 

সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!