দিশারী ডেস্ক। ৫ জুলাই, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ।
অপরিকল্পিত, টেকসইহীন ও অস্থিতিশীল উন্নয়নের কারণে কিছুদিন পরই কোটি-কোটি টাকা মূল্যমানের রাস্তা- ঘাট ব্যবহারে অকেজো হয়ে পড়ছে। সচেতন নাগরিকেরা এ ধরনের উন্নয়নকে বরাবরই দুর্নীতি হিসেবে সনাক্ত করছেন।
জানা গেছে, চারলেন সড়কে দফায় দফায় উন্নয়নের নামেও বিভিন্ন প্রকল্প হতে অর্থ লুটে ব্যস্ত রয়েছেন তিনি। সূত্র জানায়, এখানে নির্বাহী প্রকৌশলী পদে সৌম্য তালুকদার যোগদানের পরই মূলত, এমন অনিয়ম একটি নিয়মে পরিণত হয়েছে।
চারলেন সড়কের সর্বস্তরে প্রশ্বস্ততা নিশ্চিত না করে ঠিকাদাররা কোটি-কোটি টাকা ভাগিয়ে নিয়েছেন তার হাতের ওপর। বিনিময়ে তিনিও পাচ্ছেন মোট অংকের কমিশন। এ সড়কের কোথাও কোথাও মাত্র ৫০/৬০ ফুটের প্রশ্বস্ততাও দেখা গেছে।
এছাড়া ডিভাইডারেও রয়েছে চরম অনিয়ম। কোথাও ৫ ফুট, আবার কোথাও ২ ফুটের প্রশ্বস্ততা মেলানো বড়ই কঠিন হিসেবে দেখা গেছে।
জেলার একজন বিশিষ্ট নাগরিক বলেন, তিনি যোগদানের পর নোয়াখালীর সড়ক ও জনপথ বিভাগের সার্বিক রাস্তা-ঘাটের উন্নয়ন কাজও প্রায় থেমে রয়েছে। তথাপি যাই হচ্ছে তাতেও অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির মাত্রা সীমাহীন। তার কর্মময় সময়ে নোয়াখালীর সোনাপুর-আক্তার মিয়ার হাট, সোনাপুর-চরবাটা সড়কটি গত বছরের শেষের দিকে সংস্কার করতে না করতে বর্তমানে চলাচলের প্রায় অযোগ্য হয়ে ওঠছে।
—————————————————————————
পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রচারে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি !
—————————————————————————-
নোয়াখালী সড়ক ও জনপথ বিভাগে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রচারে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগ ওঠেছে। এক সাংবাদিক জানান, এ দপ্তরে আ’ নামের আদ্যক্ষরের এক করণিক ও খা’ নামের আদ্যক্ষরের আরেক অফিস কর্মচারীকে আর্থিক সুবিধা ধরিয়ে দিলে, তারাই একই ব্যক্তি ও একই পত্রিকায় বারবারই বিজ্ঞপ্তি প্রদান করেন। আ’ আদ্যক্ষরের আরেক অফিস কর্মচারীকে অর্থের বিনিময়ে কতেক গণমাধ্যমকর্মীর কর্মশালায়ও বিজ্ঞাপণ পৌঁছে দিতে দেখা গেছে।
এ বিষয়ে দৈনিক দিশারীর সম্পাদক ও প্রকাশক আকাশ মো. জসিম বলেন, সৌম্য তালুকদারকে পত্রিকায় ধারাবাহিকতা রক্ষা করে বিজ্ঞাপণ প্রচার করতে বললে, তিনি তার অধীনস্থ করনিকদের সাথে যোগাযোগ করতে বলেন। আর এতে করণিকরাও ওই সাংবাদিকদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার সুযোগ পান।
অভিযোগ রয়েছে, নামের কতেক লোভাতুর ব্যক্তি দিনের পর দিন সরকারী দপ্তরসমূহের করণিকদের সাথে সখ্যতা গড়ে শুধুমাত্র বিজ্ঞপ্তি ভাগিয়ে নেন। এরাই মূলত এসব করণিকেদের অর্থ ধরিয়ে দিয়ে সেসব দপ্তরের বিজ্ঞাপণ প্রচারের ধারাবাহিকতাকে বিনষ্ট করছেন।
সূত্র জানায়, এ জাতীয় অখ্যাতরা যখন যে সরকার ক্ষমতায় আসে সে সরকারের সমর্থক বনে যান। এসব বিষয়ে এ দপ্তরের বিগত এক বছরে দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ধারাবাহিকতা পর্যালোচনা করলে এমন অভিযোগের সত্যতা মিলবে বলে জানান জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের সাংবাদিকেরা।
তাছাড়া এ বিভাগের ক’জন কর্মকর্তা, কর্মচারীও বলেছেন, সৌম্য তালুকদার নোয়াখালীতে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে যোগদানের আগে কোথাও এ পদে দায়িত্ব পালন করেনি। নোয়াখালীর মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলায় একজন নব্য মানুষকে এমন চেয়ারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে দেয়াই তিনি সব সামলে নেয়ার সক্ষমতা নেই বলে মনে করছেন তারা।
এছাড়া ইতোপূর্বের নির্বাহী প্রকৌশলী বিনয় কুমার পাল প্রতিটি সড়কে গোয়েন্দাগিরির ন্যায় পরিদর্শন করার ইতিহাস সৃষ্টি করলেও, সৌম্য তালুরদার এ দপ্তরের এসি কক্ষ থেকে কখনো বের হতে কেহ দেখেননি। ফলে ঠিকাদাররা তাকে কমিশন দিয়ে অত্যন্ত নিম্মমানের ও দায়রাসা এবং যেনতেন ধরনের কাজ করলেও, যেন তাতে তার কিছুই যায় আসেনা।
Leave a Reply