উদ্বেগ ও হতাশা : একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ

  • আপডেট সময় রবিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫
  • ২২ পাঠক

দিশারী ডেস্ক।। ২৯ নভেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ।।

ভবিষ্যৎ সম্পর্কে গভীর নিরাশা, নিজের প্রতি মূল্যহীনতার অনুভূতি কিংবা জীবনের আনন্দদায়ক দিকগুলোর প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলা হতাশার লক্ষণ। অনেকের তখন মনে হয়, কিছুই ভালো হবে না, চেষ্টা করেও লাভ নেই। তীব্র হতাশার ক্ষেত্রে মৃত্যুচিন্তা বা জীবনকে অর্থহীন মনে হওয়াও অস্বাভাবিক নয়।

বর্তমান সময়ে ‘ উদ্বেগ ’ ও ‘ হতাশা ’ বহুল প্রচলিত শব্দ। উচ্চঝুঁকিপূর্ণ বা আতঙ্কজনক পরিস্থিতিতে উদ্বেগ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক, আবার হতাশার জন্ম হয় দুঃখজনক বা মন খারাপ করা কোনো অভিজ্ঞতায়। তবে অনুভূতি দুটির মধ্যকার সম্পর্কের জটিলতা কেবল শব্দ ব্যবহারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এদের মধ্যে গভীর জৈবিক, মানসিক ও আচরণগত সম্পর্ক রয়েছে, যা ব্যক্তি অনুযায়ী ভিন্নভাবে প্রকাশ পায়।

অনেকের ক্ষেত্রে উদ্বেগ থেকে শুরু হয় বিচ্ছিন্নতা। মানুষ বা পরিস্থিতি এড়িয়ে চলার প্রবণতা বাড়ে, ফলে আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতার পরিমাণ কমে গিয়ে মন খারাপ ও হতাশা তৈরি হয়। আবার কারও ক্ষেত্রে ঘটনাপ্রবাহ একেবারে উল্টো। দীর্ঘদিনের হতাশা শক্তি ও উৎসাহ কমিয়ে দেয়। এতে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম হতে পারে। অর্থাৎ উদ্বেগ ও হতাশা একে অপরের কারণও হতে পারে, আবার একইসঙ্গে উপস্থিতও থাকতে পারে। এ পরিস্থিতিকে মনোবিজ্ঞানীরা বলেন ‘কমর্বিড অবস্থা’।

এ দুই অবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, মস্তিষ্কে সেরোটোনিনসহ কয়েক ধরনের নিউরোট্রান্সমিটারের ভারসাম্য নষ্ট হয়। উদ্বেগে মানুষ ভবিষ্যৎ সম্পর্কে অতিরিক্ত শঙ্কা অনুভব করেন; চিন্তা দ্রুতগতিতে ছুটতে থাকে, নানা পরিস্থিতি এড়িয়ে চলার প্রবণতা বাড়ে। কখনও কখনও শারীরিক অসুস্থতাকে অনেক বেশি বিপজ্জনক বলে মনে হয়। যা মৃত্যুভয়ের মতো অনুভূতির জন্ম দিতে পারে।

অন্যদিকে, ভবিষ্যৎ সম্পর্কে গভীর নিরাশা, নিজের প্রতি মূল্যহীনতার অনুভূতি কিংবা জীবনের আনন্দদায়ক দিকগুলোর প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলা হতাশার লক্ষণ। অনেকের তখন মনে হয়, কিছুই ভালো হবে না, চেষ্টা করেও লাভ নেই। তীব্র হতাশার ক্ষেত্রে মৃত্যুচিন্তা বা জীবনকে অর্থহীন মনে হওয়াও অস্বাভাবিক নয়। বড় ধরনের হতাশা বা মেজর ডিপ্রেশন হলে এমন অনুভূতি দিনের অধিকাংশ সময়ে টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে থাকে।

মানসিক প্রকাশের পাশাপাশি শারীরিক দিক থেকেও উদ্বেগ ও হতাশার প্রকাশ ভিন্ন। উদ্বেগ শরীরকে একধরনের অতিরিক্ত উত্তেজনা বা সতর্কতার অবস্থায় নিয়ে যায়। এ সময় হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়, ঘাম হয়, শ্বাসকষ্ট বা মাথা ঘোরা দেখা দিতে পারে। অন্যদিকে হতাশা শরীরের স্বাভাবিক কার্যপ্রক্রিয়ায় ঘাটতি তৈরি করে, শক্তি কমে যায়, ক্ষুধা ও ঘুমের ধরন বদলে যায়, চলাফেরা বা কথা বলা ধীর হয়ে আসে, অযৌক্তিক ব্যথা-বেদনা অনুভব করা শুরু হয়।

যদিও জীবনে সময়ে সময়ে উদ্বেগ বা মন খারাপ হওয়া স্বাভাবিক, তবে যখন এ উপসর্গগুলো দীর্ঘস্থায়ী হয়ে দৈনন্দিন জীবনকে ব্যাহত করে তখন বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা প্রয়োজন। উদ্বেগের ক্ষেত্রে সাধারণত কয়েক মাস ধরে উপসর্গ স্থায়ী থাকলে, আর হতাশার ক্ষেত্রে অন্তত দুই সপ্তাহ ধরে লক্ষণগুলো দেখা দিলে রোগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সমস্যায় পড়লে প্রথমে নিজের পারিবারিক বা প্রাথমিক চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলাই ভালো। প্রয়োজন হলে তারা উপযুক্ত মনোপরামর্শদাতা, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা থেরাপিস্টের কাছে পাঠাতে পারেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—নিজেকে একা না ভাবা।

সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!