দিশারী ডেস্ক।। ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ।।
বিশ্বজুড়ে চাকরিদাতারা কর্মী নিয়োগে গ্র্যাজুয়েটদের মধ্যে যে ধরনের দক্ষতা প্রত্যাশা করেন সে রকম মানবসম্পদ তৈরিতে বেশ পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ। কিউএস ওয়ার্ল্ড ফিউচার স্কিলস ইনডেক্স ২০২৫-এ এমন তথ্য ওঠে এসেছে।
বিশ্বজুড়ে চাকরিদাতারা কর্মী নিয়োগে গ্র্যাজুয়েটদের মধ্যে যে ধরনের দক্ষতা প্রত্যাশা করেন সে রকম মানবসম্পদ তৈরিতে বেশ পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ। কিউএস ওয়ার্ল্ড ফিউচার স্কিলস ইনডেক্স ২০২৫-এ এমন তথ্য ওঠে এসেছে। ইনডেক্সটি তৈরিতে প্রায় ৫০ লাখ চাকরিদাতার মতামত, বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাংকিং, গবেষণা পরিস্থিতিসহ আরো কিছু বিষয়কে বিবেচনায় নেয়া হয়েছে। এ ইনডেক্সে ১০০ স্কোর মানের বিপরীতে চাকরিদাতাদের চাহিদানুযায়ী গ্র্যাজুয়েটদের দক্ষতা, একাডেমিক প্রস্তুতি, অর্থনৈতিক রূপান্তর, ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান—এ চার সূচকে স্কোর প্রদান করা হয়েছে।
———————————————————————————–
কিউএস ওয়ার্ল্ড ফিউচার স্কিলস ইনডেক্স ২০২৫
———————————————————————————–
ইনডেক্সের তথ্য অনুযায়ী, চাকরিদাতাদের চাহিদানুযায়ী দক্ষতাসম্পন্ন গ্র্যাজুয়েট তৈরিতে বাংলাদেশের স্কোর ৩৯ দশমিক ১। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান ইনডেক্সের ৮১টি দেশের মধ্যে ৬৭তম।
এছাড়া ভবিষ্যৎ উপযোগী একাডেমিক প্রস্তুতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্কোর ৬৫ দশমিক ৭ এবং ভবিষ্যৎ শ্রমবাজারের প্রস্তুতির ক্ষেত্রে স্কোর ৪২ দশমিক ৬। এ ইনডেক্সে অর্থনৈতিক রূপান্তরে বাংলাদেশকে কোনো স্কোর প্রদান করা হয়নি (এক্ষেত্রে পর্যাপ্ত তথ্যের অভাবকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে)। ইনডেক্সে বাংলাদেশের চূড়ান্ত স্কোর ৪৯ দশমিক ১।
যেসব দেশের স্কোর ১০০-এর কাছাকাছি তাদের গ্র্যাজুয়েটরা বৈশ্বিক চাকরির বাজারে জায়গা করে নিতে প্রস্তুত। তাদের দক্ষতা নিয়োগদাতাদের চাহিদার সঙ্গে সামাঞ্জস্যপূর্ণ। আর স্কোর যত কম সে দেশের গ্র্যাজুয়েটরা বাজারের চাহিদার তুলনায় অনেক কম দক্ষ এবং তাদের চাকরি হারানোর ঝুঁকিও বেশি।
সামগ্রিক স্কোর বিবেচনায় ইনডেক্সে প্রথম অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, দ্বিতীয় যুক্তরাজ্য ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে জার্মানি। এ তিন দেশের স্কোর যথাক্রমে ৯৭ দশমিক ৬, ৯৭ দশমিক ১ ও ৯৪ দশমিক ৬। তবে ইনডেক্সে কর্মক্ষেত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দক্ষতায় এগিয়ে আছে যুক্তরাজ্য। তাদের গ্র্যাজুয়েটদের স্কোর ১০০। এরপর দ্বিতীয় অবস্থানে আছে যুক্তরাষ্ট্র, দেশটির স্কোর ৯৪ দশমিক ৪ আর ৯০ দশমিক ৯ স্কোর নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে কানাডা।
এর আগে দেশের গ্র্যাজুয়েটদের দক্ষতার ঘাটতির তথ্য ওঠে এসেছিল বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রতিবেদনেও। বিবিএসের শ্রমশক্তি জরিপ ২০২৩ অনুযায়ী, দেশে উচ্চশিক্ষিত বেকারের সংখ্যা ৯ লাখ ৬ হাজার। এর আগে শ্রমশক্তি জরিপ ২০২২ অনুযায়ী, উচ্চশিক্ষিত বেকারের সংখ্যা ছিল ৭ লাখ ৯৯ হাজার। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে উচ্চশিক্ষিত বেকার বেড়েছে এক লাখের বেশি। আর বিগত ১০ বছরের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এ সময়ে উচ্চশিক্ষিত বেকার বেড়েছে আট গুণ।
বৈষম্যহীন টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে অর্থনৈতিক কৌশল প্রণয়ন ও পুনর্নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় সম্পদ আহরণবিষয়ক টাস্কফোর্সের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে প্রতি ১০০ জন বেকারের মধ্যে ২৮ জনই উচ্চশিক্ষিত। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১০-২২ সময়ে উচ্চশিক্ষিত তরুণের সংখ্যা দ্রুতগতিতে বেড়েছে। ২০১০ সালে টারশিয়ারি পর্যায়ে বেকারত্ব ছিল ৪ দশমিক ৯ শতাংশ, যা ২০২২ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ১২ শতাংশে।
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল বলেন, বিগত দেড় দশকে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান বৃদ্ধি করা হয়েছে, গ্র্যাজুয়েট সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে, কিন্তু মানের দিকে গুরুত্ব দেয়া হয়নি। যথাযথ দক্ষতাসম্পন্ন গ্র্যাজুয়েট তৈরির জন্য হাতে-কলমে শিক্ষা অনেক জরুরি। বিশেষত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত বিষয়গুলোয় হাতে-কলমে শিক্ষা ছাড়া দক্ষতাসম্পন্ন হওয়া অসম্ভব।
আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এক্ষেত্রে বেশ পিছিয়ে আছে। আমাদের অনেক প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয়েও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন গবেষণাগার, অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি নেই। আর গত এক দশকে যেসব বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সেগুলোর বেশির ভাগ চলছে নামমাত্র সুযোগ-সুবিধা দিয়ে। আমাদের পঠন পদ্ধতি এখনো তাত্ত্বিক ও মুখস্থনির্ভর। ফলে আন্তর্জাতিক মান বিবেচনায় দক্ষতার হিসাব করা হলে আমরা পিছিয়ে থাকছি।’
গ্র্যাজুয়েটদের দক্ষতা উন্নয়নে গবেষণায় বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সম্পর্ককে জোরদার করতে হবে বলে মনে করেন তিনি।
ওয়ার্ল্ড ফিউচার স্কিলস ইনডেক্স ২০২৫-এ বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী ৮৭ শতাংশ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বর্তমানে দক্ষতার ঘাটতি রয়েছে, অথবা কয়েক বছরের মধ্যে ঘাটতি দেখা দেবে। এছাড়া ৫৬ শতাংশ নিয়োগ ব্যবস্থাপক মনে করেন যে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন প্রয়োজনীয় দক্ষতার পরিবর্তন ঘটাবে।
বিশ্বব্যাপী কর্মীদের ১৪ শতাংশকে অটোমেশন, ডিজিটালাইজেশন ও শিল্প পরিবর্তনের কারণে পেশা পরিবর্তন করতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রের স্থিতিশীল অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য শ্রমবাজারের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনে গুরুত্ব প্রদান এবং ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সম্পর্কে গুরুত্ব প্রদানের পরামর্শ দেয়া হয়েছে প্রতিবেদনে।
————————————————————————————————————
দেশের শিক্ষাসংশ্লিষ্টরাও বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে কর্মক্ষেত্রে আরো বেশি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে বাংলাদেশী গ্র্যাজুয়েটদের। বিডি জবস ডটকম লিমিটেডের সিইও একেএম ফাহিম মাশরুর বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরেই গ্র্যাজুয়েটদের দক্ষতার ঘাটতির বিষয়টি বলে এসেছি। দেশে বর্তমানে যে গ্র্যাজুয়েটরা রয়েছেন তাদের বড় অংশ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন নতুন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে স্নাতক-স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা, মানসম্মত শিক্ষকের সংকট রয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই গ্র্যাজুয়েটদের দক্ষতার ঘাটতি থাকছে। যদি আমরা এ অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে চাই তবে উচ্চশিক্ষা খাতে পরিবর্তন আনতে হবে। উচ্চশিক্ষার সুযোগ নির্ধারণ করতে হবে কর্মক্ষেত্রে চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে। পর্যাপ্ত বিনিয়োগ করতে হবে, যাতে প্রতিষ্ঠানগুলো প্রকৃতপক্ষেই দক্ষতাসম্পন্ন গ্র্যাজুয়েট তৈরি করতে পারে।
————————————————————————————————————
বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মোট বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ১৬৩। ৫৩টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ২২টি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে গত দেড় দশকে আর এ সময়ে নতুন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ৫৬। এর মধ্যে ৩৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-ছাত্র অনুপাত ১:২০-এর বেশি আর পাঁচজনের কম অধ্যাপক রয়েছেন ৫১ বিশ্ববিদ্যালয়ে।
এছাড়া উচ্চশিক্ষা পর্যায়ে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোতে। ইউজিসির বার্ষিক প্রতিবেদন ২০২৩ অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪৮ লাখ ২১ হাজার ১৬৫।
দেশে শিক্ষার্থী সংখ্যায় শীর্ষে আছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় ৩৩ লাখ ৮৪ হাজার ৫৪৫। শিক্ষার্থী সংখ্যায় দ্বিতীয় অবস্থানে আছে ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা ৫ লাখ ৩ হাজার ৫৮০। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে অধ্যয়নরতদের প্রায় ৮১ শতাংশই পড়ছেন এ দুই বিশ্ববিদ্যালয়ে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের চাকরিদাতাদের মতে, ভবিষ্যতে কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিগত ও পরিবেশবিজ্ঞান সম্পর্কিত দক্ষতার চাহিদা বাড়বে। কিন্তু বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষায় অধ্যয়নরতদের অর্ধেকের বেশিই পড়ছেন মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত বিভিন্ন বিষয়ে। বিশেষত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই-তৃতীয়াংশ শিক্ষার্থী পড়ছেন এসব বিষয়ে, যা তাদের ভবিষ্যতে চাকরি পাওয়াকে আরো চ্যালেঞ্জিং করে তুলতে পারে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এএসএম আমানুল্লাহ বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীরা যথেষ্ট মেধাবী, কিন্তু শিক্ষার মান বৃদ্ধিতে যে ধরনের সুযোগ-সুবিধা দরকার সেসব নিশ্চিতে আমাদের প্রয়োজনীয় আর্থিক বরাদ্দ নেই। এর পরও আমরা বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছি। এরই মধ্যে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে অর্ধেক শিক্ষার্থীকে কারিগরি প্রশিক্ষণও প্রদান করা হবে, যা তাদের ভবিষ্যৎ কর্মক্ষেত্রে সফল হতে সহযোগিতা করবে।
খবর : অন্য দৈনিক
এদিকে ওয়ার্ল্ড ফিউচার স্কিলস ইনডেক্স পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, যেসব দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো গবেষণা ও উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিয়েছে তারা ইনডেক্সে সামনের সারিতে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর গবেষণা ও উন্নয়ন খাতে ২০২০ সালে মোট ব্যয় ছিল ৮১ বিলিয়ন ডলার। এটি যুক্তরাষ্ট্রের মোট গবেষণা ও উন্নয়ন ব্যয়ের ১১ শতাংশ।
যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ২০২০ সালে গবেষণা ও উন্নয়নে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। এ বিনিয়োগ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছে। সেই সঙ্গে তাদের গ্র্যাজুয়েটরা আন্তর্জাতিক চাকরির বাজারে কাঙ্ক্ষিত হয়ে ওঠছেন।
অন্যদিকে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মোট ব্যয়ের অতি সামান্য অংশ বরাদ্দ দেয়া হয় গবেষণায়। ইউজিসির বার্ষিক প্রতিবেদন ২০২১-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে দেশের উচ্চশিক্ষা খাতে মোট গবেষণা ব্যয় ছিল ২১০ কোটি টাকা, যা এ খাতে মোট ব্যয়ের ১ শতাংশের কিছু বেশি। ওই বছর সরকারি-বেসরকারিসহ দেশের মোট ১৫৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ছয়টি সরকারি ও ২৭টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণায় কোনো অর্থ বরাদ্দ দেয়নি এবং ১০ লাখ টাকার নিচে ব্যয় করেছে সাতটি সরকারি ও ৪২টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়।
সাম্প্রতিক বছরগুলোয় গবেষণা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধিতে গুরুত্ব দেয়া হলেও আশানুরূপ পরিবর্তন আসেনি। সরকারের পক্ষ থেকে শুধু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার জন্য বরাদ্দ ছিল ১৮৮ কোটি ৮৫ লাখ টাকা, যা মোট বাজেটের ১ দশমিক ৫৪ শতাংশ। এ অর্থবছরে ৫৩টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য মোট বরাদ্দ ছিল ১২ হাজার ১৮৫ কোটি ৩৩ লাখ টাকা।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্রকল্যাণ পরিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক একেএম মাসুদ বলেন, ‘সামগ্রিকভাবে এটি সত্য যে আমাদের দেশের গ্র্যাজুয়েটদের একটি অংশ যথাযথ দক্ষতাসম্পন্ন হচ্ছে না। আবার কিছু প্রতিষ্ঠান কিন্তু খুবই ভালো মানের গ্র্যাজুয়েট তৈরি করছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে প্রয়োজন শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন। এরই মধ্যে আমরা ওবিই কারিকুলাম চালু করেছি। এ কারিকুলামের মূল ইতিবাচক দিক হলো এখানে শিক্ষার্থীরা কতটা দক্ষতা অর্জন করছে সেটি পর্যালোচনা করা যায়।
এছাড়া ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিষয়গুলোর জন্য বিএইটিইর অ্যাক্রেডিটেশন নেয়া হয়। এ অ্যাক্রেডিটেশন কয়েক বছর পরপর নবায়ন করতে হয় এবং এর জন্য শর্ত হিসেবে শ্রমবাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কারিকুলাম, ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সম্পর্ক, গবেষণার সুযোগসহ অনেকগুলো শর্ত পূরণ করতে হয় ; যা আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা নিশ্চিত করে। দেশের সব উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে যদি এ ধরনের ব্যবস্থার আওতায় আনা যায় তাহলে আমি মনে করি প্রতিষ্ঠানগুলো যথাযথ দক্ষতাসম্পন্ন গ্র্যাজুয়েট তৈরি করতে পারবে।
সার্বিক বিষয়ে ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এসএমএ ফায়েজ বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত মেধাবী। পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা পেলে তারা বিশ্বের অন্যান্য দেশের গ্র্যাজুয়েটদের সঙ্গে সমান তালে সামনে এগিয়ে যেতে পারবে। কিন্তু আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় শিক্ষক সংকট, প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার সংকটসহ নানা ধরনের সংকট রয়েছে, যা শিক্ষার মানে প্রভাব ফেলছে। আমরা শিক্ষার সামগ্রিক মান উন্নয়নের যথাসম্ভব চেষ্টা করছি।
Leave a Reply