অনলাইন জুয়ায় বিদেশে চলে যাচ্ছে কোটি কোটি টাকা

  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬
  • ০ পাঠক

দিশারী ডেস্ক।। ২১ জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ।।

গাইবান্ধার উজ্জ্বল ঢাকায় একটি প্রতিষ্ঠানে গাড়িচালক হিসেবে চাকরি করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারকাদের বিজ্ঞাপন দেখে অনলাইন জুয়ার সাইটে যুক্ত হয়ে তিনি এখন ভয়াবহ আসক্ত। মাসের বেতনের পাশাপাশি ধারদেনা করে জুয়ায় টাকা বিনিয়োগ করে তিনি এখন প্রায় নিঃস্ব। একই অবস্থা হবিগঞ্জের খাবারের হোটেল ব্যবসায়ী আব্দুলের। শর্টকাটে ধনী হওয়ার প্রলোভনে অনলাইন জুয়ার ফাঁদে পড়ে তিনিও সর্বস্ব হারানোর পথে।

প্রযুক্তির বিস্তারে বিশ্বজুড়ে অনলাইন জুয়ার আসর এখন মোবাইল ফোনে পৌঁছে গেছে। বাংলাদেশেও দেশি-বিদেশি অসাধু চক্র বিভিন্ন বেটিং সাইট ও অ্যাপ পরিচালনা করে মানুষের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার তদন্তে দেখা গেছে, দেশে সক্রিয় আন্তর্জাতিক জুয়ার ওয়েবসাইট ও অ্যাপের মাধ্যমে প্রতিদিন গড়ে ৭০০ থেকে ১ হাজার কোটি টাকার বেশি লেনদেন হচ্ছে। এই অর্থ ডলারে রূপান্তর করে ডিজিটাল হুন্ডি ও ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হচ্ছে।

————————————————————————————————————

গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ভুয়া বা ‘ঘোস্ট’ সিম ব্যবহার করে দেশীয় একটি চক্রের সহযোগিতায় চীনা নাগরিকেরাই অনলাইন সাইট পরিচালনায় সবচেয়ে বেশি সক্রিয়। অন্যদিকে প্রচলিত আইন উপেক্ষা করে ক্রীড়া ও শোবিজের কয়েকজন তারকা মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে এসব অনলাইন জুয়ার সাইটের প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। তাদের বিজ্ঞাপনে প্রভাবিত হয়ে সাধারণ মানুষও এসব প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হচ্ছেন।

————————————————————————————————————

তদন্তে জানা গেছে, জুয়ার কোম্পানিগুলো মানুষের অজান্তে বা অর্থের বিনিময়ে সংগৃহীত জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে হাজার হাজার মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট খোলে। জুয়াড়িরা নির্দিষ্ট এজেন্টের এমএফএস নম্বরে টাকা পাঠান। স্থানীয় এজেন্টরা সেই হিসাব সংরক্ষণ করে পরে সংগৃহীত অর্থ ইউএসডিটি, বিটকয়েনসহ বিভিন্ন ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তর করে ডিজিটাল হুন্ডির মাধ্যমে চীন, মাল্টা, কুরাকাও, রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে পাঠিয়ে দেয়। সাম্প্রতিক এক অভিযানে ডিবি পুলিশ এমন ৬ হাজার ৬০০ সক্রিয় এমএফএস অ্যাকাউন্ট-সংবলিত সিম জব্দ করেছে।

দেশজুড়ে ওয়ানএক্সবেট, মেলবেট, নগদ ৮৮, ক্রিকেক্স, জিতবাজ, বেটউইনার, টোয়েন্টিটুবেট, মোস্টবেট ও বেটজিলির মতো অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্ম বিদেশি সার্ভার ব্যবহার করে কার্যক্রম চালাচ্ছে। গেমিং বা স্পোর্টস অ্যাপের পরিচয়ের আড়ালে পরিচালিত এসব প্ল্যাটফর্ম ভুয়া জয়, পাতানো খেলা ও সহজে টাকা পাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ব্যবহারকারীদের ফাঁদে ফেলছে। ডিজিটাল সাক্ষরতার অভাব এবং অর্থনৈতিক দুরবস্থাকে পুঁজি করে সাধাণ মানুষকে ফাঁদে ফেলে লাভবান হচ্ছে অনলাইন জুয়া চক্র।

————————————————————————————————————

গোয়েন্দা তথ্য অনুসারে, বিশেষ করে বাংলা ইন্টারফেস ও স্থানীয় মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহার করে গ্রামের তরুণদের লক্ষ্যবস্তু বানানো হচ্ছে। শুরুতে অল্প বিনিয়োগেই লাভ দিয়ে তাদের আকৃষ্ট করা হচ্ছে বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগে। যখনই এই ফাঁদে পা দেন ভুক্তভোগী, তখন একপর্যায়ে টাকা উত্তোলনের সুযোগ বন্ধ হয়ে যায় বা ক্ষেত্রবিশেষে আরও অর্থ জমা দিতে চাপ দেওয়া হয়। সোশ্যাল মিডিয়া, পর্নোগ্রাফিক ওয়েবসাইট এবং সিনেমা-টিভি শো ডাউনলোডের বিভিন্ন সাইটের পপ-আপ বিজ্ঞাপনের মাধ্যমেও ব্যবহারকারীরা এসব বেটিং প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করছেন।

————————————————————————————————————

এদিকে কয়েক বছর ধরে ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান, অভিনয়শিল্পী জয়া আহসান, নুসরাত ফারিয়া, মাহিয়া মাহী, পরীমণি, অপু বিশ্বাস ও পিয়া জান্নাতুলসহ কয়েকজন তারকাকে বিভিন্ন বেটিং প্ল্যাটফর্মের প্রচারণায় দেখা গেছে। কয়েক মাস আগে নুসরাত ফারিয়া একটি প্ল্যাটফর্মের প্রচারণামূলক গানে অংশ নেন এবং সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে তাকে ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হিসেবে উল্লেখ করা হয়। সাকিব আল হাসানও একাধিকবার বেটিং বিজ্ঞাপনে অংশ নেন। পাশাপাশি অনেক ইউটিউবারও রেফারেল কোড ব্যবহার করে নতুন ব্যবহারকারী যুক্ত করে কমিশন ও বোনাস পাচ্ছেন বলে গোয়েন্দাসহ বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

পুলিশের সিআইডি ও ডিবির তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে প্রায় ৫০ লাখ মানুষ অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত। এর বড় অংশই তরুণ, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও নিম্ন আয়ের মানুষ। জুয়ার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে অনেকেই চুরি, ছিনতাই ও হত্যার মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক, বিটিআরসি এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো মিরর লিংক ব্লক, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নজরদারি এবং সাইবার সার্ভেইল্যান্স জোরদার করেছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা শাখা-ডিবি)) মো. শফিকুল ইসলাম রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ডিএমপি নিষিদ্ধ জুয়া বন্ধ করতে সর্বোশক্তি দিয়ে কাজ করছে। দেশি-বিদেশি চক্রকে আইনের আওতায় আনা হবে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত অনলাইন জুয়াবিরোধী অভিযানে ৬ হাজার ৫০০ এমএফএস অ্যাকাউন্ট সংবলিত সিম কার্ড জব্দসহ আসামি গ্রেপ্তারসংক্রান্ত এক সংবাদ সম্মেলনে শফিকুল ইসলাম জানান, বাংলাদেশে পরিচালিত জুয়ার ওয়েবসাইটসমূহে এমএফএস অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে দৈনিক ৭০০ থেকে ১০০০ কোটি টাকার ওপর লেনদেন হয়, যা দেশের বাইরে পাচার হচ্ছে।

ডিবি সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম ডিভিশন কর্তৃক সাইবার মনিটরিংয়ের মাধ্যমে অনলাইনে জুয়ার বেশ কিছু ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপলিকেশন শনাক্ত করা হয় জানিয়ে তিনি বলেন, ওয়েবসাইটগুলো পর্যালোচনায় দেখা যায়, অনলাইন জুয়া কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সাইটগুলোতে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের এজেন্ট অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হয়।

ডিবির তথ্য অনুযায়ী, অনলাইন জুয়ার পেমেন্ট-ব্যবস্থায় পে কাশমা, গো পে, লাকি পে, এলকিউ পে, এক্স-ই পে ও কুল পে’র মতো প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। বাংলাদেশকেন্দ্রিক এসব পেমেন্ট কোম্পানির অধিকাংশই চীনা নাগরিকদের নিয়ন্ত্রণে। তারা স্থানীয় এমএফএস ও ব্যাংক হিসাব সংগ্রহ করে এজেন্ট, মার্চেন্ট ও মার্চেন্ট এপিআইয়ের মাধ্যমে লেনদেন পরিচালনা করে থাকে। পরে সেই অর্থ বাইন্যান্স, বাইবিট ও বিটগেটের মতো প্ল্যাটফর্মে ইউএসডিটিতে রূপান্তর করে বিদেশে পাঠানো হয়।

————————————————————————————————————

তথ্য অনুসারে, জনপ্রিয় বেটিং ওয়েবসাইটের আদলে তৈরি অসংখ্য ফিশিং সাইটও (প্রতারক সাইট) সক্রিয় রয়েছে। ডোমেইনের সামান্য পার্থক্যের কারণে সাধারণ ব্যবহারকারী এগুলোকে আসল সাইট মনে করে অর্থ বিনিয়োগ করেন। এতে পুরো অর্থই প্রতারকদের কাছে চলে যায় এবং তা আর ফেরত পাওয়ার সুযোগ থাকে না।

————————————————————————————————————

২০২৪ সালের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, দেশের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ তরুণ পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত। এসব ওয়েবসাইটে নিয়মিত বেটিং সাইটের বিজ্ঞাপন দেখানো হয়। স্মার্টফোনের ব্যাপক বিস্তারের ফলে গ্রামাঞ্চলেও কিশোর-তরুণদের মধ্যে অনলাইন জুয়ার ঝুঁকি বেড়েছে।

গবেষণায় আরও দেখা যায়, গ্রামীণ প্রাক-স্কুলগামী শিশুদের প্রায় অর্ধেকের মধ্যেই স্মার্টফোন আসক্তির লক্ষণ রয়েছে। গবেষকদের মতে, সস্তা স্মার্টফোনের সহজলভ্যতা ও অভিভাবকদের সচেতনতার অভাবে ডিজিটাল আসক্তির পাশাপাশি ভবিষ্যতে অনলাইন জুয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) শাহাদাত হোসেন বলেন, পুলিশের সবকটি ইউনিট অবৈধ জুয়ার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কাজ করছে। নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে, অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিকশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) নিয়াজ মেহেদী বলেন, সাইবার মনিটরিং ইউনিট সক্রিয় রয়েছে এবং এ ধরনের প্ল্যাটফর্মের প্রচারকারী পেজ ও অ্যাকাউন্টগুলোর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। খবর : অন্য দৈনিক

মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে অবৈধ জুয়ার লেনদেন ঠেকাতে বাংলাদেশ ব্যাংক সব এমএফএস প্রতিষ্ঠানে জরুরি নির্দেশনা দিয়েছে। তবে এমএফএস অপারেটরদের দাবি, ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির লেনদেনের প্রকৃত উদ্দেশ্য শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন। ২০২৫ সালে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ১৩টি এমএফএস প্রতিষ্ঠানকে এ বিষয়ে নির্দেশনা দেয়। এদিকে বিটিআরসি দেশে পরিচালিত জুয়ার ওয়েবসাইটগুলো বন্ধ করলেও ভিপিএন ব্যবহার করে অনেকেই এখনো জুয়া খেলছে বলে জানা গেছে।

মূলত ২০১৯ সালে অবৈধ ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর পর অনলাইন জুয়ার বিস্তার বাড়তে থাকে। ২০২০ সালে একাধিক অভিযানে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়। এদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ধারাবাহিকভাবে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে এই চক্রের বিরুদ্ধে। তাদের অভিযানে অনেক অনলাইন জুয়া পরিচালনাকারী চক্রের সদস্য আটকও হচ্ছে। কিন্তু কিছুদিন না যেতেই তারা জামিনে বেরিয়ে এসে আবারও আগের অপকর্মে লিপ্ত হচ্ছে।

————————————————————————————————————

অনলাইন জুয়া এবং তা প্রতিরোধ বিষয়ে গত ২৪ জুন জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, সরকার ১০ এপ্রিল সাইবার সিকিউরিটি আইন, ২০২৬ জারি করেছে। আইনের ২০ ধারায় অনলাইন জুয়া, জুয়ার প্ল্যাটফর্ম তৈরি বা পরিচালনা, এতে অংশগ্রহণ, সহায়তা, প্রচারণা কিংবা বিজ্ঞাপনে অংশ নেওয়াকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করা হয়েছে। এসব অপরাধে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, এক কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। 

————————————————————————————————————

তিনি আরও জানান, বিএফআইইউ অনলাইন জুয়া ও ডিজিটাল হুন্ডির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ৫৫ হাজার এমএফএস অ্যাকাউন্টের লেনদেন স্থগিত করেছে। সাইবার নিরাপত্তা আইন কার্যকর হওয়ার পর অনলাইন জুয়া বিষয়ে একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদন সিআইডির কাছে দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক এমএফএস প্রতিষ্ঠানের মার্চেন্ট ও গ্রাহকদের কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং জুয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

এদিকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ‘পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট, ১৮৬৭’ (সরকারি জুয়া আইন, ১৮৬৭) রহিতক্রমে জুয়া, অনলাইন জুয়া, অনলাইন বেটিংসহ অনুরূপ কার্যক্রম প্রতিরোধ ও এতৎসংক্রান্ত অপরাধের বিষয়ে দণ্ড প্রদানসহ আনুষঙ্গিক বিষয়ে যুগোপযোগী করে নতুনভাবে বিধান প্রণয়নের লক্ষ্যে আনীত বিলটি পাস করার প্রস্তাব জানালে বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়। গত ৩০ জুন বিলটি নিয়ে জনমত যাচাই, বাছাই ও সংশোধনীর প্রস্তাব কণ্ঠভোটে নাকচ হয়।

সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!