সুবর্ণচরে উপজেলা ভূমি কার্যালয়ের অস্থায়ী কর্মচারীও এখন কোটিপতি

  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ২৪ পাঠক

দিশারী ডেস্ক।। ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ।।

সরেজমিনে গেলে তার বাড়ির পাশের লোকজন বলেন, সাহাব উদ্দিন আহমেদ একজন ধূর্ত ও দুর্নীতিবাজ না হলে জিরো থেকে হিরো হতে পারতেননা। জানান লেখাপড়ার বালাই নেই তার। আপনারা লিখেও কাজ হবেনা। কারণ তার জায়গায়-জায়গায় লোক রয়েছে। রাস্তার পাশের আলিসান ভবন দেখিয়ে বলেন, ক’জনের ভাগ্য আছে, ভূমি কার্যালয়ে নামখাওয়াস্ত চাকুরি করে এমন ভবন করার !

মাত্র এক যুগ আগেও ছিলেন বেকার। ছিল সীমাহীন অভাবের সংসার। সামান্য বৃষ্টিতে ছাল বেয়ে পড়তো পানি। এখনো অস্থায়ী কর্মচারী পদবী তার। তবে এতোই ধূর্ত যে, অনেক সময় উপজেলার সহকারী কমিশনারের নাম বিক্রয় করেও খায়। অবশ্য সহজে ধরার উপায় নেই।

সোমবার বেলা সাড়ে দশটায় ওই কার্যালয়ে দেখা মেলে তার। এ সময় ছবি ওঠানোর ঘটনার টের পেয়ে নিজেকে আড়াল করে রাখেন।
সুবর্ণচর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের একজন অস্থায়ী কর্মচারী সাহাব উদ্দিন আহমেদ। চরম সুবিধাবাদী। ক্ষমতার পালাবদলে চরিত্র পাল্টে নেয়ার স্বভাব রয়েছে তার। দপ্তরের ফাইলপত্র সবই এদিক-সেদিক করতে পারার রয়েছে একতরফা অধিকার। কোথাও কোন ধরনের বিপর্যয় পোহাতে হয় না তাকে।

এমন সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজেকে ভূমিহীন সাজিয়ে স্বামী, স্ত্রীর নামে সৃজন করেছেন একাধিক বন্দোবস্ত নথি। চরের হতদরিদ্র মানুষের মাথা গোঁজার ঠাঁই নিয়ে রীতিমতো চলে তার ছিনিমিনি। চর মহিউদ্দিন মৌজায় নব্বই বছর বয়স্ক বৃদ্ধ সিদ্দিক মিয়ার একমাত্র বসত ঘর ও বাড়ির জমিতে লোলুপদৃষ্টি পড়ে তার। সৃজন করেছেন কথিত বন্দোবস্তীয় নথি।

বৃদ্ধ সিদ্দিক মিয়া জানান, নিজের বসত বাড়ির মালিকানা স্বত্ব সংরক্ষিত করতে উপজেলা সহকারী কমিশনার ( ভূমি ) কার্যালয়ে গেলে জানতে পারেন, সাহাব উদ্দিন আহমেদ ওই জায়গায় নথি সৃজন করেন। এ ঘটনা জানার পর বৃদ্ধ চরম হতাশ হয়ে বিচার দাবি করছেন সমাজের এধারে-ওধারে।

বিগত আওয়ামী যুগে নিজেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির অনুসারী দাবি করে ওই সরকারি কার্যালয়ে আস্তানা গেড়েছেন সাহাব উদ্দিন আহমেদ। বর্তমানে খোলস পাল্টে বিএনপির নাম বিক্রয় করেন। কথায় কথায় বলেন, সবুজ মিয়া তার মুরব্বি। ইতোপূর্বে, এক তহসিলের অস্থায়ী কর্মচারী পদে দালালি করেও কয়েক লাখ টাকার মালিক হয়েছেন তিনি।

সমাজের লোকজন জানান, ওই কর্মচারী বড়ই ধূর্ত। স্বনামে, বেনামে নথি সৃজন করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে ওই জায়গা বিক্রয় করাটাই দারুন নেশা ও পেশা তার। এভাবে বর্তমানে সাহাব উদ্দিন আহমেদের আর্থিক অবস্থা কোটিপতির পর্যায়। উপজেলা ভূমি কার্যালয়ের কর্মচারী হিসেবে যেন অন্যের বাড়ি, ঘরের জায়গাও নিজের প্যান্ডেলের গন্ডিতে আবদ্ধ করা নিত্যনৈমত্তিক ব্যাপার সাহাবুদ্দিনের নিত্যনৈমত্তিক ব্যাপার।

নোয়াখালী সুবর্ণচর উপজেলার উত্তর কচ্ছপিয়া এলাকায় বাড়ি তার। এক সময় নুন আনতে পান্তা ফুরালেও হালে যেন বিরাট জমিদার। বাবার বাড়ি ছেড়ে সুবর্ণচর উপজেলা পরিষদ-চরবাটা রাস্তার পাশে আলিসান ভবন করেছেন মায়ের নামে। জমিসহ ওই বাড়িতে খরচ হয়েছে কমপক্ষে কোটি টাকা। এমন ধারণা স্থানীয়দের।

স্থানীয়রা জানান, এ উপজেলার বিভিন্ন ভুক্তভোগী মানুষকে নানা ধরনের হুংকার ও ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ উপার্জনের নেশা একটি জঘনন্য পেশায় পরিণত হয়েছে সাহাবুদ্দিনের দুর্নীতির কীর্তনখোলায়।

অবশ্য সাহাব উদ্দিন আহমেদ জানান, তিনি পৈত্রিক সূত্রে অনেক জায়গার মালিক। তবুও ভূমিহীন পরিচয়ে বন্দোবস্ত নথি হয় কিভাবে-এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, এসব তার সরকারী অফিসে চাকুরি করার আগের ঘটনা। এটা প্রতারণা কিনা-এমন প্রশ্নে বলেন, সবুজ ভাই আপনাদের সাথে কথা বলবে। অথচ, ওই বন্দোবস্তীয় নথির আলোকে তিািন হাল রেকর্ড করেছেন। যা ইতোমধ্যেকার ঘটনা।

তবে এ বিষয়ে সুবর্ণচর উপজেলা সহকারী কমিশনার বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা নেই। লিখিত অভিযোগ পেলে বিহিত ব্যবস্থা নেবেন। তাছাড়া এসব যা হয়েছে, সে সময়ে তিনি এ উপজেলার দায়িত্বে ছিলেননা।

সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!