এবং আমি আছি আমার মতো

  • আপডেট সময় রবিবার, ৫ মার্চ, ২০২৩
  • ৮৫১ পাঠক

তাওহিদ চৌধুরী, বার্তা বিভাগ।।

——————————

পত্রিকায় পাতায় আকাশ মো. জসিম নামেই সমধিক পরিচিত। পুরো নাম মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন। নোয়াখালী জেলা সদর হতে প্রকাশিত ও সম্পাদিত দৈনিক দিশারী’র সম্পাদক ও প্রকাশক। এক সুদীর্ঘকাল নোয়াখালীর সাংবাদিকতায় নিজেকে জড়িয়ে রেখেছেন। বললেন, এখনো পরিচয় দেয়ার মতো সাংবাদিক হয়ে ওঠতে পারিনি।

জানালেন, ছাত্রজীবনের কথা স্মরণ করে অনেক বন্ধু তাঁকে নিয়ে আফসোস করেন। বলেন, আকাশ তুই আরো বেশি কিছু হওয়ার কথা ছিল। শুনে , স্মৃতির বেদনায় কিছুটা বিমর্ষ ও বিষন্ন হন তিনি। তবুও শেষে নিরাশার দোলাচলে সবই নিয়তির ওপরই ছেড়ে দেন সব কিছু। বলেন, সবই তো নিয়তির ফল।

আকাশ মো. জসিম ২৫ নভেম্বর ১৯৭৭ সালে ধর্মপুরে মুসলিম সম্ভ্রান্ত হাফেজ পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পরিবারে তিন দাদাই ছিলেন কোরানে হাফেজ। যাদের পিতা ছেলামত উল্যাহও ছিলেন কোরানে হাফেজ।

পৈত্রিক বসতি হাতিয়া থাকলেও আকাশের জন্ম নোয়াখালী সদর উপজেলার ধর্মপুরে। যে জায়গাটি দাদার নামেই হাফেজিয়া নগর নামেই পরিচিত, খোদিত ও রক্ষিত।

————————————————————————————————————

সত্তর দশকে হাতিয়ার চানন্দি ইউনিয়ন মেঘনার ভাঙ্গনে বিলীন হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিলে সে সময়েই তাঁর পৈত্রিক পরিবার সদরের ধর্মপুরের বসতি স্থাপন করেন। এ সময় তাঁর দাদা হাফেজ ছায়েদল হকের একান্ত বিনিয়োগ, শ্রম ও ঘামে ২৮২ একর সম্পত্তির মালিক ও দখলকার হয়েছেন পুরো পরিবার।

————————————————————————————————————

পরপর পরিবারের সবার মধ্যে তিনি নিজের অর্জিত সেসব সম্পত্তিও ভাগ বাটোয়ারা করে নিজেকে মানবিকতার খাতায় নাম লিখান। জীবদ্দশায় বাড়ির সামনে হাফেজিয়া জামে মসজিদ, নূরানী মাদরাসাও গড়ে তোলেন হাফেজ ছায়েদল হক।

পিতা মোহাম্মদ সেলিম ও মা জাহানারা বেগমের ঘরের দ্বিতীয় সন্তান আকাশ। ছোটবেলায় ভর্ত্তি হন পাশের সমাজের চরসল্যাহ ধর্মপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। ওই বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের মধ্যে রোল নম্বর এক ছিল তাঁর। এরপর ষষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্ত্তি হয়েছিলেন বাংলাবাজার উচ্চ বিদ্যালয়ে। সেখানেই শ্রেণী পরীক্ষায় রোল নম্বর তাঁর এক হয় ।

আকাশ ১৯৯১ সালে জেলা শহরের হরিনারায়ণপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে মানবিক বিভাগে নবম শ্রেণীতে ভর্ত্তি হন। এখানেও শ্রেণী পরীক্ষায় প্রথম স্থান লাভ করেন তিনি। এ সময় তিনি নোয়াখালী পৌরসভার আয়োজনে অনুষ্ঠিত নবম শ্রেণীর বৃত্তি পরীক্ষায়ও মেধাবৃত্তির পুরষ্কার হিসেবে সনদপত্র ও নগদ ৭৫০ টাকা হাতে পেয়েছেন।

১৯৯৩ সালে এ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক স্কুল সাটিফিকেট পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ নিয়ে মানবিক বিভাগে ষ্টার মার্কস পান। সে সময়েফলাফলের এমন কৃর্তিত্বে ‘ মৃত্যূঞ্জয়ী ফাউন্ডেশন’ কর্তৃক সনদপত্র ও এক হাজার টাকা পুরষ্কার পেয়েছেন।

১৯৯৩ সালে আকাশ তাঁর মামাতো ভাই মিজানুর রহমান চৌধুরী ও মামা আবদুর রহিমের অনেক ভালবাসা, আন্তরিকতা, বন্ধুত্ব ও প্র্রেরণায় চট্রগ্রাম হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজে ভর্ত্তি হন। সেখান থেকে ১৯৯৫ সালে উচ্চ মাধ্যমিক ও ১৯৯৭ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় হতে স্মাতক পাশ করেন।

এরপর, ১৯৯৯ সালে নোয়াখালী আইন কলেজে ভর্ত্তি হয়েছেন আকাশ মো. জসিম। কিন্তু, সাংবাদিকতার নেশায় সে পথে আর পাড়ি দেয়া হয়নি তাঁর।

আকাশ মো. জসিম বলেন, মহসিন কলেজে পড়াকালে কলেজের পাশেই ছিল চট্রগ্রাম প্রেসক্লাবসহ সেখানকার বহুল প্রচারিত ও স্থানীয় নামীদামি পত্রিকাগুলোর কার্যালয়। সে সময়ে মহসিন কলেজের দক্ষিণ পাশের জামাল খান থেকে দৈনিক কর্ণফুলি বের হতো। একদিন কর্ণফুলিতে কলেজের ছাত্রাবাস  “ মুসলিম হলের সংস্কার চাই ” শিরোনামে একটি লেখা প্রকাশিত হয়।

আকাশ বলেন, এরপর মনের আনন্দে পত্রিকার কার্যালয়ে যাই। সে সময়ে এর সম্পাদক ছিলেন শ্রদ্ধেয় কবি আল মাহমুদ। তিনি পরিচয় দেয়ার পর বললেন, তুমি কি সাংবাদিক হতে চাও ? বললাম, জি¦। বললেন, তোমার নামে আরো অনেক কবি, লেখক ও সাংবাদিক আছে। এক কাজ করো, তুমি নাম লিখবে আকাশ মো. জসিম। প্রসঙ্গত, মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন আকাশ নামে ওই পত্রিকায় একজন সংবাদদাতা ছিলেন। এরপরই নিজের নামটি পত্রিকায় পাতায় হয়ে গেছে আকাশ মো. জসিম।

এরপর নোয়াখালীতে আসার পর একদিন দৈনিক জাতীয় নিশান পত্রিকায় হাজির হই। কথা, ব্যক্তিত্বভাব আর পান্ডিত্যে সম্পাদক জনাব কাজী রফিক উল্যাহকে সম্মানিতই মনে হয়েছিল।

কিছুদিনের মধ্যে তাঁর থেকে প্রতিবেদকের পরিচয়পত্র নিই। এরই মধ্যে নোয়াখালী আইন কলেজে আসা যাওয়ার সুবাদে সে সময়ে ওই কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল এডভোকেট জামাল উদ্দিন ভূঁঞার সাথে পরিচয় হয়।

তাঁর প্রকাশনায় মাইজদী সমবায় ব্যাংক সুপার মার্কেট হতে সাপ্তাহিক দিশারী ও দৈনিক নতুন দিশারী বের হতো। সে সময়ের দৈনিক নতুন দিশারী’র ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আর সাপ্তাহিক দিশারী’র নির্বাহী সম্পাদক দু’জনই এখন প্রবাসের উন্নত জীবনের মানুষ। সে থেকে দিনের পর দিন পত্রিকা দু’টোর সাথে নিজেকে ভালবাসার পেশা ও নেশা হিসেবে সম্পৃক্ত হয়ে পড়ি।

 

 

 

একপর্যায়ে, ২০০০ সালে জায়েদুল করিম চৌধুরী পলাশের সম্পাদনায় আজকের উপমার বার্তা সম্পাদক পদে কাজ করি। পরবর্তীতে, এডভোকেট জামাল উদ্দিন ভূঁঞার অকৃত্রিম স্নেহ ও আর্শীবাদে আবারো দিশারী’র নির্বাহী সম্পাদক পদে দায়িত্ব নিই। সে থেকে ধীরে-ধীরে পত্রিকাটি দৈনিকে রুপান্তরণ করণে আমার অবদানও কম ছিলনা।

————————————————————————————————————

আকাশ মো. জসিম বলেন, ২০০৬ সালে ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে সম্মানিত হই। যাতে ২০১১ সাল হতে পরিপূর্ণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করি। যে পত্রিকাটি ২০১৯ সালে এডভোকেট জামাল উদ্দিন ভূঁঞার অকৃপণ অনুগ্রহে প্রকাশক হিসেবেও নিজেকে পুরোদমেই স্বত্ববানের খাতায় অনুমোদন লাভ করি।

————————————————————————————————————

বললেন, ২০০৬ সালে বাজারে জাতীয় দৈনিক নয়াদিগন্ত পত্রিকাটির সুন্দর নাম, লগো ও অবয়ব দেখে এ নামে নোয়াখালী হতে সাপ্তাহিক “ নয়াপৃথিবী ” প্রকাশনা ও সম্পাদনায় উদ্যোগী হই। যাতে আমি সম্পাদক ও এডভোকেট জামাল উদ্দিন ভূঁঞা প্রকাশক হিসেবে স্বত্ববান ছিলাম।

আকাশ মো. জসিম ২০০৭ সালে ডেসটিনি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল আমীনের সম্পাদনায় প্রকাশিত জাতীয় দৈনিক ডেসটিনির বৃহত্তর নোয়াখালী প্রতিনিধি পদে কাজ করেছিলেন ২০১০ সাল পর্যন্ত।

 

 

 

 

 

২০১১ সালে ষ্ট্যাম্পফোর্ড ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান ড. হান্নান ফিরোজের সম্পাদনায় প্রকাশিত দৈনিক বাংলাদেশ সময়ের নোয়াখালীর নিজস্ব প্রতিনিধি পদে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

২০১৭ সালে ড. হান্নান ফিরোজের মৃত্যূর পর কিছুদিন দৈনিক আলোকিত সময় ও একইবছর দৈনিক শেয়ার বিজের নোয়াখালী প্রতিনিধি পদে যোগদান করেন । প্রখ্যাত সাংবাদিক আবেদ খানের সম্পাদনায় দৈনিক জাগরণেও নোয়াখালী প্রতিনিধি পদে কাজ করেছেন তিনি।

এছাড়া, ইংরেজি দৈনিকে কাজ করার শখ হিসেবে ২০১৪ সালে বহুল প্রচারিত ডেইলী সানের নোয়াখালী প্রতিনিধি পদে কাজ করছেন তিনি।

দৈনিক দিশারী’র সম্পাদক ও প্রকাশক আকাশ মো. জসিম বললেন, জীবনের এ প্রান্তে এসে মনে হয়েছে, আসলে পেছনের দিনগুলোর পাতায় পাতায় সবগুলো অতীতই ছিল বড় ভুল। যে দেশে সাংবাদিক হওয়ার জন্যে কোন শিক্ষা-দীক্ষার বালাই নেই, বাধ্যবাধকতার কথা বললে কিছু মানুষ ক্ষেপে যান ; সে দেশে এ পেশায় না এসে জীবন জীবিকার সৌহার্দ্যে জীবনটাকে পরিবারে, সমাজে, দেশে কিংবা বিদেশে হলেও ধনে-মানে-সম্মানে, সম্ভ্রান্তের অটুট বন্ধনে সাজিয়ে নিতে পারতাম।

আকাশ মো. জসিম বললেন, ছাত্রজীবনে বিখ্যাত আইনজীবিদের গল্প শুনতাম। একপর্যায়ে, জজ হওয়ার বাসনাও পোষন করতেন মনে। কিন্ত, তা আর না হয়ে আজ হয়ে গেলাম গাঁও গেরামের ছোট খাটো সাংবাদিক।

আকাশ মো. জসিম স্বপ্রণোদিতভাবে বলেন, 

ছাত্রজীবনের কোন এক ফাঁকে খবরের জগতের নেশা পেয়ে বসেছিল। অনেকটা উদাসিন মনে জানাটাও ছিলনা। হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজের ছাত্রাবস্থায় দৈনিক কর্ণফুলিতে পাঠক কলামে ‍” মুসলিম ছাত্রাবাসের দুরাবস্থা ” শিরোনামে লেখাটা প্রকাশিত হওয়ার পরই খবরের সমাজের নেশায় ব্যতিব্যস্ত হই। যা ঠিক হয়নি আমার জন্যে।

এরপর এ সমাজে এসেও রন্ধ্রে-রন্ধ্রে পরষ্পরিক ঘাত-প্রতিঘাত মোকাবেলা করে চলাটা অনেক বেশি বেদনাদায়ক। কণ্টকাকীর্ণ পথ। এখানে মেধাস্বত্বের প্রতিযোগিতার চেয়ে হিংসা, আত্মকলোহ, গীবতের স্বভাবটা প্রায়জনের চরিত্রের অঙ্গ যেন ! মাঝে-মধ্যে বিব্রত হই । ভাবি পেশাটা ছেড়ে দেবো। আবার ভাবি এ বয়সে, কি কবরো ! জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়টা তো এখানে খুইয়েছি।

————————————————————————————————-

বাল্যকাল থেকেই কোন ধরনের পরাধীনতা ভাল লাগতোনা। সে অবস্থা এখনও যেন ধরে রেখেছি। প্রাথমিক থেকে দশম পর্যন্ত শ্রেণীকক্ষে ফাস্টবয় ছিলাম। ১৯৯৩ সালে নোয়াখালী শহরের হরিনারায়ণপুর উচ্চ বিদ্যালয় হতে স্টার মার্কস নিয়ে মাধ্যমিক শ্রেণী পাশ করি। সে সময়ে স্বপ্ন ছিল একজন বিজ্ঞ আইনজীবি হওয়ার। 

————————————————————————————————–

কিছুদিন ঢাকার কতেক গণমাধ্যমে প্রতিনিধি পদে কাজ করেছি। একপর্যায়ে মনে হলো, তাঁদের নানানসব খবরদারির দায়িত্ব পালন আমাকে দিয়ে হবেনা। সে কারণে সেসব রীতি-রেওয়াজ থেকে নিজেকে প্রায় গুটিয়ে নিয়েছি। এ সময়ে মনে-প্রাণে বিশ্বাস করি, আল্লাহর রহমতে অনেক সুস্থ্য, সবল ও সবাক আছি।

হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণীর ছাত্রত্বকালেই চট্রগ্রামের দৈনিক কর্ণফুলির মধ্য দিয়ে সংবাদপত্রের নেশায় জড়িয়ে পড়ি। একটা সময় মাঝে-মধ্যে মনে হয়, এমন নেশাকে পেশা হিসেবে সঙ্গ করাটাই ছিল যেন আমার বড় ভুল।

১৯৯৭ সালে স্মাতক শেষে নোয়াখালীর দৈনিক জাতীয় নিশানের নিজস্ব প্রতিনিধি পরে সাপ্তাহিক ফয়সালা ও সাপ্তাহিক আজকের উপমার বার্তা সম্পাদক হিসেবে যোগদানের মধ্যে দিয়ে নিজেকে ছাত্রজীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হতে পুরোপুরিই বিচ্ছিন্ন করে নিই। ১৯৯৯ সালে নোয়াখালী আইন কলেজে ভর্ত্তি হয়েও আর পড়া হয়নি আইন।

একপর্যায়ে আমার ইচ্ছা ছিল, একজন আপাদমস্তক সংবাদকর্মী হওয়ার। একজন সম্পাদক হওয়ার। কিন্তু আজকের দিনে এসে আমি কিছু হতে পেরেছি কিনা জানি না। মাঝে-মধ্যে মনে হয় আমি কিছুই করতে পারিনি, হতে পারিনি। এই হিংস্রদানা বাধা, রুদ্রপীড়িত শহরে মাঝে-মধ্যে আমার মনে হয়, আমার চেয়ে স্বল্প যোগ্যতার সাংবাদিক খুব কমই আছে।

তবে আমার কাছে একটা জিনিস আছে, সেটা হচ্ছে দৃঢ়তা। আমি দৃঢ়তার পরাকাষ্টা একদিনের জন্যও ভাঙিনি। কোন স্বার্থের মোহে আমার ভালবাসার রঙ বদলায়না একক্ষণেও। আমার একটা কঠিন নিয়তিও আছে। আমি যার উপকার করি, সেই সর্বপ্রথম পরম ক্ষতিসাধনের গল্পে জড়িয়ে থাকে আমার জীবনে।

জানা স্বত্বে, আমার শরীরে আমি কোন হারাম পয়সা ঢুকানোর চেষ্টা করিনি। আমি পরিশ্রম করেছি। কারো কোন স্বত্বের বিনিময়ে নিজের ক্ষুদ্র গন্ডির পরিধিতে সভ্যতার পরিচয় রাখতে চেষ্টা করছি। পরিশ্রম আর সভ্যতার জায়গা থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ২০ ঘণ্টাও পত্রিকা প্রকাশনার কাজ করেছি এমন দিনও গেছে। যে কারণে হয়তো আমার প্রিয় দৈনিক দিশারী কিছুটা হলেও পরিচয়ের জায়গায় এসেছে।

—————————————————————————————————–

এটা একটা ট্র্যাজিক গল্প হতে পারে। পত্রিকার জন্য মানুষ এত ত্যাগ স্বীকার করে কিনা আমার জানা নেই। হয়তো করে, কিন্তু তাদের বৈষয়িক ফিডব্যাক, আউটপুট বেশি আছে। আমি কষ্ট করেছি প্রচুর। কারণ, আমি বাঁকা পথ চিনতাম না। এখনওনা। এখনো অনেক সংবাদকর্মী আমাকে দিয়ে নিজের রুটি-রুজি যোগান দেয়ার অসংখ্য সত্যতা রয়েছে আমার কাছে। আমার ভাবনা আমাকে দিয়ে কেহ সামান্যটুকুও উপকৃত হলে আমার সমস্যা কোথায় ! আমি কোনকালেই বৈষয়িক ছিলাম না। যে কারণে আমার অর্থনৈতিক আউটপুট তেমন আসেনি।

—————————————————————————————————-

তবুও আজকের দিনে এসে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া। পত্রিকা ছাড়া আমি কোনো ব্যবসা-বাণিজ্য তৈরি করতে পারিনি। আমার কাছে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান নেই। শুধু পত্রিকার ওপর নির্ভর করে আমি চলি। একটা পত্রিকা তৈরি করা, উদ্যোক্তা হওয়া, সেই পত্রিকায় কিছু মানুষ কাজ করবে, সেই পত্রিকার নামডাক হবে, এটাই এখন আমার লক্ষ্য।

পথচলার ১৯ বছরে আমার প্রিয় দৈনিক দিশারী। ১৯৯৩ সালে সাপ্তাহিক হিসেবে অনুমোদন নেয়া পত্রিকাটি সময় ও পাঠক-ইচ্ছের অংশ হিসেবে ২০০৪ সালে আমার সম্পাদনায় ও শ্রদ্ধেয় এডভোকেট জামাল উদ্দিন ভূঁঞার প্রকাশনায় দৈনিক হিসেবে যাত্রারম্ভ করে।

২০০৬ সালে আমার পরিকল্পনা ও সম্পাদনায় এবং এডভোকেট জামাল উদ্দিন ভূঁঞার প্রকাশনায় সাপ্তাহিক নয়াপৃথিবী’ আত্মপ্রকাশ হয়। পরে ২০০৯ সালে এডভোকেট জামাল উদ্দিন ভূঁঞাকে অনুরোধ করে এ পত্রিকাটি অন্যত্র হস্তান্তর করি।

দীর্ঘ পথপরিক্রমায় অব্যাহত পাঠকচাহিদা পূরণ আর যুগের সাথে পাল্লা দিয়ে ২০২১ সালে অনলাইন সংস্করণ চালু করে দৈনিক দিশারী। ২০২২ সালে কতেক সুহৃদজনের বিশুদ্ধ পরামর্শ ও আন্তরিক সহযোগিতায় নোয়াখালী জেলা প্রশাসনের নতুন নিবন্ধনে প্রকাশক হিসেবে আমার মর্যাদা অর্ন্তভুক্ত হয়।

পূর্ণাঙ্গ পেশাদার ওয়েবের পাশাপাশি নিয়মিত মূদ্রণাকারে চেষ্টার মাধ্যমে পাঠকের ভালোবাসাকে সঙ্গী করে দৈনিক দিশারী এখন কিছুটা হলেও পরিণত, পরিব্যাপ্ত। নিরন্তর পাঠক-চাহিদা মাথায় রেখে অচিরেই দৈনিক দিশারীর নিয়মিত মুদ্রণ ও অনলাইন সংস্করণের চিন্তাও করছি আমরা।

————————————————————————————————————-

দৈনিক দিশারীর এই দীর্ঘ সময়ের পথচলা মসৃণ ছিল না ; নানা সংকটের খানাখন্দ, বিপর্যয়ের ভাঙা সেতু অতিক্রম করতে হয়েছে। এখনো। আর্থিক চরম সংকটকাপন্ন অবস্থায়ও আমি দৈনিকটির সম্পাদনার কাজ অব্যাহত রাখার চেষ্টায় নিজেকে প্রাণবন্ত রেখেছি। নিজেই প্রতিবেদন লিখছি। কম্পিউটারের পর্দায় চোখ রাখতে রাখতে এখন চোখেও চশমা ছাড়া দেখা সহজ হয়না।

—————————————————————————————————————

শাররিক ক্লেশ দম্যতায় আমার এখন অনেক কষ্ট হয়। তবুও দৈনিক দিশারীকে ভালোবাসি বলেই আল্লাহর অশেষ রহমতে কাজ করতে পারছি। কাজ না করে আর কী করবো ? দৈনিক দিশারী ছাড়া তো আমার আর কিছুই নেই। এটাই আমার ধ্যান-জ্ঞান। দৈনিক দিশারী ঘিরেই আমার যত স্বপ্ন। দৈনিক দিশারীই আমার একমাত্র আত্মবিশ্বাস, প্রাণশক্তি আর উদ্যম।

একাধারে সংবাদ সংগ্রহ, সংবাদ নির্মাণ, বিদগ্ধজনদের লেখা সংগ্রহ, নিজেই টাইপ করা, প্রুফ দেখা, সংবাদ সম্পাদনা, নিজেই আবার পেইজ মেকিং (পৃষ্ঠা সজ্জা), প্লেট মেকারের কাছে নিয়ে যাওয়া, প্লেটের পর কাগজসহ প্রেসে পৌঁছে দেয়া। এক সময় ছাপার পর ছদ্মবেশে সেই পত্রিকা আবার পাঠকের দরবারে পৌঁছে দেয়ার কাজটিও করতাম আমি। কলুর বলদের মতো এত খাটাখাটুনি একাই করতাম। হালে এ থেকেও কিছুটা নিষ্কৃতি নিতে পারছি।

———————————————————————————————————-

পত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশনার নেশায় হয়তো এমন পাগল ছিলাম। বিজ্ঞাপনের চাইতে দৈনিক দিশারীর জন্য ভালো একটা লেখা সংগ্রহে গুরুত্ব বেশি দিতাম। শিক্ষক, লেখক, সাহিত্যিক ও প্রবীণ সাংবাদিকদের লেখা সংগ্রহের আগ্রহ রাখতাম। বিজ্ঞাপনের জন্য এতটা ঘুরতাম না। এখনও না। কোনমতে খরচটা ওঠলেই হলো। খেয়ে না খেয়ে নিজেই সব দায়িত্ব পালন করেছি।

———————————————————————————————————

দৈনিক দিশারী নিয়ে আমার স্বপ্ন ছিল, এজন্য এসব কাজকে পীড়ন হিসেবে নিইনি, আনন্দ হিসেবে নিয়েছি। শুধু নোয়াখালী নয়, বাংলাদেশে এমন কোনো উদাহরণ আছে কিনা আমার জানা নেই, একজন ব্যক্তিই একাই একটি পত্রিকা বের করে ফেলছেন।

একবার চৌমুহনীর কল্পনা অফসেট প্রেসে পেস্টিং করতে গিয়ে ধারালো ব্লেডের সাথে ডান হাতের আঙ্গুল কেটে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছিল। সে রক্ত টেসিংয়ে লেগে পত্রিকার কাগজেও মূদ্রিত হয়েছিল। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পত্রিকা বের হবে না এ কারণে অনেক বিনিদ্র রাতও গেছে।

————————————————————————————————————

জাতীয় দৈনিক ডেসটিনি, দৈনিক বাংলাদেশ সময়, দৈনিক আলোকিত সময়, দৈনিক শেয়ার বিজ, দৈনিক জাগরণ, প্রাইম খবরসহ কতেক গণমাধ্যমে কাজ করেছি। ডেইলী সানে কাজ করছি। কিন্তু দৈনিক দিশারীকে আমি ছাড়িনি, সন্তানের মতো আগলে রেখেছি।

————————————————————————————————————–

সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কর্মস্থলের কাজ শেষ করে, অন্যান্য সংবাদকর্মীরা, বন্ধু-স্বজনরা যখন আড্ডায় মেতে ওঠতো, তখন সে সময়টাও আমি পত্রিকার পাতা ভরাটের জন্য কম্পিউটারে নিমগ্ন রয়েছি। পত্রিকাটা একটা জায়গায় টেনে আনার চেষ্টায় অবিরত রয়েছি ; চেষ্টার কমতি থাকবেনা আমৃত্যূ আমার।

আমার বিশ্বাস, পরম করুনাময় থাকছেন নিশ্চয় সহায়।

 

সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *