ঘুষ-দুর্নীতির টাকা দিয়ে কোরবানি করা প্রসঙ্গে ইসলাম কী বলে ?

  • আপডেট সময় শনিবার, ২৪ মে, ২০২৫
  • ৫৪ পাঠক

দিশারী ডেস্ক। ২৪ মে, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ।

কোরবানি একটি মহিমান্বিত ইবাদত। একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তা করা হয়। মহান আল্লাহ যেন তা কবুল করেন, এ জন্য নিজের নিয়ত পরিশুদ্ধ করতে হবে এবং হালাল উপার্জন দিয়ে তা করতে হবে।

তা ছাড়া অংশীদারের ভিত্তিতে কোরবানি দিলে তাদেরও নিয়ত পরিশুদ্ধ ও হালাল উপার্জন হওয়া আবশ্যক। নতুবা কারো কোরবানি কবুল হবে না। এ ক্ষেত্রে কোরবানির মতো মহিমান্বিত ইবাদতের প্রতিটি ধাপে নিজেকে যুক্ত রেখে পুরো পক্রিয়াটি গুরুত্ব দিয়ে তদারকি করা ঈমানের দাবি।

মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন, ‘ কোরবানির মাংস ও রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছে না ; বরং কোরবানির মধ্য দিয়ে তোমাদের তাকওয়া বা আল্লাহভীতি তাঁর কাছে পৌঁছে। এমনিভাবে তিনি এগুলোকে তোমাদের অনুগত করেছেন যাতে তোমরা আল্লাহর মহত্ত্ব ঘোষণা কর।এ কারণে যে, তিনি তোমাদের পথ প্রদর্শন করেছেন। সুতরাং সৎকর্মশীলদের সুসংবাদ শুনিয়ে দাও।’ (সুরা হজ, আয়াত, ৩৯)

অংশীদার ভিত্তিতে কোরবানি দিলে করণীয়

অংশীদারভিত্তিতে কোরবানি দেওয়ার ক্ষেত্রে আয়-উপার্জনসহ কিছু বিষয় যাচাই-বাছাই করা জরুরি। নিম্নে তা আলোচনা করা হলো :

১. অংশীদারের টাকা হালাল কি না

কোরবানি আদায় করতে হবে শতভাগ হালাল টাকায়, হারাম টাকায় কিংবা হালাল-হারাম মিশ্রিত টাকায় কোরবানি করলে আদায় হবে না। (হিন্দিয়া : ৫/৪২০, ফাতাওয়ায়ে ফকিহুল মিল্লাত : ১১/২১৯)

অংশীদারদের কারো টাকা যদি হারাম উপার্জন কিংবা সুদের হয়, তাহলে কারো কোরবানি আদায় হবে না। (আদ্দুররুল মুখতার : ৬/৩২৬, বাদায়েউস সানায়ে : ৫/৬৫, ফাতাওয়ায়ে ফকিহুল মিল্লাত : ১১/২১৭)

ঘুষখোর, চাঁদাবাজ যদি তার অবৈধ উপার্জনের টাকায় কারো সঙ্গে কোরবানিতে শরিক হয়, তাহলে শরিকদের কারো কোরবানি আদায় হবে না। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা ব্যয় কর তোমাদের অর্জিত হালাল সম্পদ থেকে।’ (সুরা বাকারা: ২৬৭)

২. অংশীদারের নিয়ত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা

বিষয়টি জিজ্ঞাসা করা কঠিন হলেও, ইবাদতের স্বচ্ছতার স্বার্থে কৌশলে এ বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া জরুরি। অংশীদারদের মধ্যে কারো মাংস খাওয়া উদ্দেশ্য হলে কারো কোরবানি আদায় হবে না। (আদ্দুররুল মুখতার : ৬/৩২৬)

৩. অংশীদারের লোক দেখানো উদ্দেশ্য কি না ?

এটাও অংশীদার নির্বাচনের আগে বোঝার চেষ্টা করা জরুরি। কেননা একজন শরিকের কোরবানি করার উদ্দেশ্য লোক দেখানো হলে কারো কোরবানি আদায় হবে না। (ফাতাওয়ায়ে ফকীহুল মিল্লাত : ১১/২৪২)

 

সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!