খ্যাতিহীন সাধারণ মানুষের মর্যাদা ও ফজিলত

  • আপডেট সময় সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬
  • ২ পাঠক

দিশারী ডেস্ক।। ০৭ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ।।

আবু আব্বাস সাহল ইবনে সাদ সায়েদি (রা.) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি মহানবী (সা.)-এর পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিল। তখন মহানবী (সা.) তার পাশে বসা এক লোককে জিজ্ঞেস করলেন, এ লোকের ব্যাপারে তোমার ধারণা কী? সে বলল, সে সম্মানি লোক।

———————————————–

হাদিসের বাণী

————————————————
আল্লাহর কসম! যদি সে কাউকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়, তাহলে তার প্রস্তাব গ্রহণ করা হবে এবং কারও জন্য সুপারিশ করলে তার সুপারিশও কবুল করা হবে। একথা শোনে মহনবী (সা.) চুপ করে থাকলেন ; কিছুই বললেন না। একটু পর আরেক ব্যক্তি সেখান দিয়ে অতিক্রম করছিল। মহানবী (সা.) তার পাশে বসা লোককে এবার জিজ্ঞেস করলেন, এ লোকের ব্যাপারে তোমার ধারণা কী ? সে বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ, এ তো একজন দরিদ্র মুসলমান।

সে এমন ব্যক্তি, কোথাও সে বিয়ের প্রস্তাব দিলে, সেটা কবুল করা হবে না; কারও জন্য সুপারিশ করলে, তা কবুল করা হবে না। সে কোনো কথা বললে, তার কথা কেউ শুনবেও না। তখন মহানবী (সা.) বললেন, ওরকম খ্যাতিমানদের চেয়ে এ-রকম সাধারণ লোক পুরো দুনিয়া ভরে যাওয়া উত্তম। (সহিহ বুখারি, হাদিস নং : ৬৪৪৭)

শিক্ষা ও বিধান

১. আল্লাহর কাছে মর্যাদার মাপকাঠি হলো তাকওয়া মানুষের ধন-সম্পদ, বংশমর্যাদা, পদ-পদবি বা সামাজিক অবস্থান নয় ; বরং আল্লাহর কাছে প্রকৃত মর্যাদা নির্ধারিত হয় ঈমান, তাকওয়া ও নেক আমলের মাধ্যমে।

২. বাহ্যিক চাকচিক্য দেখে মানুষকে বিচার করা উচিত নয়। অনেক সময় ধনী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিকে মানুষ সম্মান দেয়, আর দরিদ্র ও সাধারণ মানুষকে অবহেলা করে। অথচ প্রকৃত অবস্থান আল্লাহই ভালো জানেন।

৩. দরিদ্র মুমিনের মর্যাদা অনেক উচ্চ হতে পারে। যে ব্যক্তি মানুষের চোখে তুচ্ছ, সে-ই আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয় ও মর্যাদাবান হতে পারে। তাই কোনো দরিদ্র বা সাধারণ মুসলমানকে ছোট করে দেখা যাবে না।

৪. সামাজিক মর্যাদা নয়, ঈমান ও চরিত্রই আসল সম্পদ। মানুষের প্রকৃত মূল্য তার ঈমান, আমল, আখলাক ও আল্লাহভীতির মধ্যে নিহিত। ধন-সম্পদ ও খ্যাতি ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু নেক আমল চিরস্থায়ী।

৫. অহংকার থেকে বেঁচে থাকার শিক্ষা। ধন, বংশ, সৌন্দর্য বা প্রভাবের কারণে নিজেকে অন্যের চেয়ে শ্রেষ্ঠ মনে করা ইসলামে নিন্দনীয়। এই হাদিস অহংকার পরিহার করে বিনয়ী হওয়ার শিক্ষা দেয়।

৬. সমাজের দুর্বল ও অসহায় মানুষের সম্মান রক্ষা করা উচিত। ইসলাম দরিদ্র, অসহায় ও সাধারণ মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করেছে। তাদের অবজ্ঞা করা বা তুচ্ছজ্ঞান করা মুমিনের বৈশিষ্ট্য নয়।

৭. মানুষের অন্তরের অবস্থা আল্লাহই জানেন। কোনো ব্যক্তির বাহ্যিক অবস্থা দেখে তার চূড়ান্ত মূল্যায়ন করা যায় না। তার অন্তরের ঈমান, ইখলাস ও তাকওয়ার খবর একমাত্র আল্লাহ তাআলাই জানেন।

৮. দুনিয়ার সম্মান সবসময় প্রকৃত সম্মান নয়। যে ব্যক্তি মানুষের কাছে সম্মানিত, সে আল্লাহর কাছেও সম্মানিত হবে—এমন নয়। আবার যে ব্যক্তি মানুষের কাছে অখ্যাত, সে আল্লাহর কাছে অত্যন্ত মর্যাদাবান হতে পারে।

অতএব, আমাদের উচিত মানুষকে বাহ্যিক অবস্থান দিয়ে নয়, বরং ইসলামী মূল্যবোধের আলোকে মূল্যায়ন করা এবং সকল মুসলমানের প্রতি সম্মান ও সদ্ভাব প্রদর্শন করা।

সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!