নিজস্ব প্রতিবেদক।। ৫ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ।।
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার দেওটি ইউনিয়নে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)-এর এক কর্মী ইয়াছিন আহমেদের বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ ওঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের ৪ মে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের ১০ থেকে ১২ জন কর্মীর একটি দল পরিকল্পিতভাবে বাড়িটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। ভয়াবহ এ অগ্নিকাণ্ডে পরিবারের দীর্ঘদিনের সঞ্চয়ে নির্মিত বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। আগুনে ঘরের আসবাবপত্র, কাপড়চোপড়, প্রয়োজনীয় নথিপত্র, গৃহস্থালির সামগ্রীসহ প্রায় সবকিছুই ভস্মীভূত হয়।
——————————————————-
পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি
——————————————————-
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় বাড়িতে কেউ উপস্থিত ছিলেন না। সেদিন ইয়াছিন আহমেদের বাবা-মা ইয়াছিন আহমেদের নানার বাড়িতে গিয়েছিলেন। এই সুযোগে অভিযুক্তরা বাড়িতে এসে আগুন লাগিয়ে দেয়। কিছুক্ষণ পর স্থানীয় এক প্রতিবেশী ফোন করে তাদের বাড়িতে আগুন দেয়ার খবর জানালে পরিবারের সদস্যরা হতবাক হয়ে পড়েন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, আগুন লাগার পর স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্তরা ঘটনাস্থলে অবস্থান করে স্থানীয়দের ভয়ভীতি প্রদর্শন করতে থাকে। ফলে কেউ কার্যকরভাবে আগুন নেভানোর সাহস পাননি।
স্থানীয়দের চোখের সামনেই পুরো বসতঘর দাউদাউ করে জ্বলতে থাকে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।পরিবারের দাবি, অগ্নিসংযোগের পর ঘটনাস্থল ত্যাগ করার আগে অভিযুক্তরা আশপাশের লোকজনকে হুমকি দিয়ে বলে, ইয়াছিন আহমেদ এলডিপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এবং আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কাজ করে। তাকে যদি পাওয়া যায়, তাহলে তাকে বাঁচতে দেওয়া হবে না; খুঁজে পেলেই হত্যা করা হবে।
এ হুমকির পর স্থানীয়দের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার জানায়, বাড়িটি তাদের একমাত্র আশ্রয়স্থল ছিল। অগ্নিকাণ্ডে শুধু বসতঘর নয়, তাদের বহু বছরের কষ্টার্জিত সম্পদও ধ্বংস হয়ে গেছে। বর্তমানে পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। তাদের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণেই ধারাবাহিকভাবে তারা বিভিন্ন ধরনের হুমকি, হামলা ও হয়রানির শিকার হয়ে আসছিলেন এবং সর্বশেষ এই অগ্নিসংযোগের ঘটনা সেই ধারাবাহিকতারই অংশ।ঘটনার পর স্থানীয় এলাকা জুড়ে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাদের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।

Leave a Reply