দিশারী ডেস্ক।। ২৩ জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ।।
বিশ্বজুড়ে প্রতিনিয়ত হাহাকার ও সংকটের খবরের মাঝেও আশার আলো দেখাচ্ছে জাতিসংঘের একটি নতুন প্রতিবেদন। বিশ্বব্যাপী ধীরে ধীরে কমে আসছে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা। করোনার পর টানা তিন বছর ধরে অব্যাহত রয়েছে হ্রাসের এই ধারাবাহিকতা।
জাতিসংঘের সর্বশেষ দ্য স্টেট অব ফুড সিকিউরিটি অ্যান্ড নিউট্রিশন ইন দ্য ওয়ার্ল্ড রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ক্ষুধার মুখোমুখি হয়েছেন বিশ্বে প্রায় ৬৪ কোটি ৫০ লাখ মানুষ। এই সংখ্যাটি ২০২৪ সালের তুলনায় ১ কোটি ৪০ লাখ কম এবং ২০২২ সালের তুলনায় ৪ কোটি ৩০ লাখ কম।
তবে ইতিবাচক এই পরিসংখ্যানের পাশাপাশি আরেকটি কঠিন বাস্তবতা হলো যুদ্ধ, অর্থনৈতিক ধাক্কা ও জলবায়ুর চরম বিপর্যয়ের কারণে এখনো কোটি কোটি মানুষকে দিন কাটাতে হচ্ছে তীব্র খাদ্য সংকটে।
পুষ্টিকর বা স্বাস্থ্যকর খাবার কিনতে না পারা মানুষের সংখ্যা ২০২১ সালের ২৯৭ কোটি থেকে কমে ২০২৫ সালে নেমেছে ২৬৯ কোটিতে। অর্থাৎ খাদ্যের দাম বাড়লেও মানুষের আয় তার চেয়ে কিছুটা দ্রুত বেড়েছে।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৫ সালে ক্ষুধার সম্মুখীন হয়েছেন বিশ্বের প্রায় ৭.৮ শতাংশ মানুষ। যা ২০২৪ সালে ছিল ৮.১ শতাংশ এবং ২০২২ সালে ছিল ৮.৬ শতাংশ।
করোনা মহামারীর পর এটি টানা তৃতীয় বছরের মতো ক্ষুধা হ্রাসের ধারাবাহিক অগ্রগতি। তবে এই উন্নতি সত্ত্বেও ক্ষুধা এখনো ২০১৯ সালের করোনা মহামারীর আগের চেয়ে রয়ে গেছে বেশি।
ভৌগোলিক বিচারে আফ্রিকা অঞ্চল এখনো ক্ষুধার সবচেয়ে বড় হটস্পট। ২০২৫ সালে আফ্রিকার পুষ্টিহীনতায় ভুগেছেন প্রায় ৩০ কোটি ৯ লাখ মানুষ। যা মহাদেশটির প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজন এবং বিশ্বজুড়ে থাকা মোট ক্ষুধার্ত মানুষের প্রায় অর্ধেক।
অন্যদিকে এশিয়ায় অপুষ্টিকর পরিস্থিতিতে দিন কাটাচ্ছেন ২৯ কোটি ২ লাখ (মোট জনসংখ্যার ৬ শতাংশ) এবং লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে ৩ কোটি ২ লাখ মানুষ (৪.৮ শতাংশ)।
প্রতিবেদন বলছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এশিয়া এবং লাতিন আমেরিকায় কমেছে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা ও অনুপাত উভয়ই। আফ্রিকাতেও কিছুটা থমকেছে দীর্ঘদিনের ক্ষুধা বৃদ্ধির প্রবণতা। তবে জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে সেখানে ক্ষুধার্ত মানুষের মোট সংখ্যা এখনো ঊর্ধ্বমুখী।
————————————————————————————————-
জাতিসংঘ পূর্বাভাস দিয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে অপুষ্টিতে ভোগা মানুষের সংখ্যা বর্তমান অনুমানের চেয়ে কমবে প্রায় ২০ শতাংশ। তা সত্ত্বেও এই দশকের শেষে ক্ষুধার শিকার থেকে যাবেন ৫০ থেকে ৫২ কোটি মানুষ। যার ৫৬ শতাংশই বাস করবেন আফ্রিকায়।
————————————————————————————————–
করোনা মহামারীর পর এটি টানা তৃতীয় বছরের মতো ক্ষুধা হ্রাসের ধারাবাহিক অগ্রগতি। তবে এই উন্নতি সত্ত্বেও ক্ষুধা এখনো ২০১৯ সালের করোনা মহামারীর আগের চেয়ে রয়ে গেছে বেশি।
এছাড়া ২০২৬ সালে ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধের মতো সাম্প্রতিক সংকটগুলো এই অগ্রগতিকে বিঘ্নিত করতে পারে বলে করা হয়েছে সতর্ক।
অন্য এক হিসাবে দেখা গেছে, পুষ্টিকর বা স্বাস্থ্যকর খাবার কিনতে না পারা মানুষের সংখ্যা ২০২১ সালের ২৯৭ কোটি থেকে কমে ২০২৫ সালে নেমেছে ২৬৯ কোটিতে। অর্থাৎ খাদ্যের দাম বাড়লেও মানুষের আয় তার চেয়ে কিছুটা দ্রুত বেড়েছে।
তবে বিশ্বব্যাপী বেড়েছে সুষম খাবারের খরচও। ২০২৫ সালে এক দিনে একজন মানুষের পুষ্টিকর খাবারের গড় খরচ দাঁড়িয়েছে ৪.২৮ ডলারে। এশিয়ায় সর্বাধিক ১৪০ কোটি মানুষ স্বাস্থ্যকর খাবার কিনতে অক্ষম হলেও শতকরা হিসাবে এই হার সবচেয়ে বেশি আফ্রিকায়।
সূত্র : আলজাজিরা।।
Leave a Reply