মুফতি উমর ফারুক আশিকী। ১৩ জুন, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ।
আল্লাহর আদেশ অমান্য করে ইবলিস অভিশপ্ত ও বিতাড়িত হওয়ার পর দম্ভভরে আল্লাহর প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়। সে বলে, ‘আমাকে কিয়ামত পর্যন্ত অবকাশ দিন।’ আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তুমি অবকাশপ্রাপ্তদের একজন।’ (সুরা আরাফ: ১৪-১৫)
ইবলিস শুধু অবকাশ চায়নি, বরং ঘোষণা করেছে আদম সন্তানের পথভ্রষ্টতার পরিকল্পনা। সে বলেছে, ‘ আমি তাদের জন্য আপনার সরল পথে বসে থাকব, সামনে-পেছনে, ডানে-বামে থেকে আক্রমণ করব, আপনি তাদের অধিকাংশকেই কৃতজ্ঞ পাবেন না।’ (সুরা আরাফ: ১৬-১৭)
এই মিশন বাস্তবায়নের জন্য ইবলিস বিস্তার করেছে তার সাম্রাজ্য। হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘ ইবলিস তার সিংহাসন সমুদ্রে স্থাপন করেছে এবং সেখান থেকে সে তার বাহিনী পাঠায়। যারা বেশি ফিতনা সৃষ্টি করে, ইবলিস তাদের কাছে সবচেয়ে প্রিয়।’(সহিহ মুসলিম: ৮২১৩)
একজন অনুসারী যখন এসে বলে, ‘ আমি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে এমন বিবাদ লাগিয়েছি যে, তারা আলাদা হয়ে গেছে,’ তখন ইবলিস তাকে উৎসাহ দেয় এবং নিজের নিকটবর্তী করে নেয়।
ইসলামিক স্কলাররা বলেন, আল্লাহর আরশ যেমন পানির ওপর (সুরা হুদ: ৭), তেমনি ইবলিসের সিংহাসনও পানির ওপর। তবে পার্থক্য হলো—আল্লাহর আরশ সমগ্র সৃষ্টির ঊর্ধ্বে, আর ইবলিসের সাম্রাজ্য সীমিত পৃথিবীর জলে। নবিজির হাদিস থেকেও বোঝা যায়, ইবলিসের সিংহাসন পানির ওপর। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘ সে পানির ওপর ইবলিসের সিংহাসন দেখে।’(সহিহ মুসলিম: ২৯২৫)
তাফসিরবিদরা বলেন, পৃথিবীর জলভাগে ইবলিস তার সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছে, আর স্থলভাগে সে কার্যক্রম চালায়। আল্লাহর আরশ পানির ওপর থাকলেও তা পৃথিবীর নয়—সকল সৃষ্টি জগতের ওপর।
আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রা.) বলেন, ‘ পানি ছিল বাতাসের ওপর।’ (মুস্তাদরাকুল হাকিম: ৩২৯৩) যেমন মেঘ ভেসে বেড়ায়, তেমনই পানিও মহাশূন্যে ভাসমান ছিল।
লেখক : আলেম ও সাংবাদিক
Leave a Reply