রাতে আলোর আভায়ও বাড়তে পারে হৃদরোগের ঝুঁকি

  • আপডেট সময় রবিবার, ১৩ জুলাই, ২০২৫
  • ৭৭ পাঠক

দিশারী ডেস্ক। ১৩ জুলাই, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ।

নতুন গবেষণায় দেখা গেছে যে, রাতে আলোর সংস্পর্শে থাকলে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। এই সংযোগ জৈবিকভাবে অর্থবহ। আমাদের শরীর আলোর সংকেত ব্যবহার করে ঘুমের সময় বলে দেয় এবং সেই রুটিনের যেকোনো ব্যাঘাত আমাদের সার্কাডিয়ান ছন্দে হস্তক্ষেপ করতে পারে। সার্কাডিয়ান ছন্দ আমাদের শরীরে অসংখ্য অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। সময় এসে গেছে বাসায় কালো পর্দা লাগানোর, ঘুমানোর আগে টিভি বন্ধ করে দেয়ার এবং সব আলো নিভিয়ে শুতে যাওয়ার।

বিজ্ঞানীদের আন্তর্জাতিক দল একটি নতুন গবেষণায় লিখেছেন, রাতের আলো সার্কাডিয়ান ব্যাঘাত ঘটায়, যা হৃদরোগের জন্য একটি পরিচিত ঝুঁকির কারণ। তদন্তের জন্য গবেষকরা ৮৮,৯০৫ জন প্রাপ্তবয়স্কের তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন যারা এক সপ্তাহ ধরে রাতের বেলা আলোর সংস্পর্শে এসেছেন। ট্র্যাক করার জন্য তাদের কব্জিতে সেন্সর লাগানো ছিল। পরবর্তী ৯.৫ বছর ধরে তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছিল।

————————————————————————————————————-

পরীক্ষার পর দেখা গেছে, রাতের বেলায় সবচেয়ে বেশি আলোর সংস্পর্শে আসা ১০ শতাংশের হৃদরোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ছিল।যার মধ্যে রয়েছে করোনারি ধমনী রোগ, হার্ট অ্যাটাক, হার্ট ফেইলিওর, অ্যাট্রিয়াল ফাইব্রিলেশন এবং স্ট্রোক।

————————————————————————————————————-

রাতে আলোর সংস্পর্শে আসার প্রভাবকে আরও ভালোভাবে বোঝার জন্য গবেষকরা ধূমপান, অ্যালকোহল সেবন, খাদ্যাভ্যাস, ঘুমের সময়কাল, শাররিক কার্যকলাপ, আর্থ-সামাজিক অবস্থা এবং জেনেটিক ঝুঁকি সহ হৃদরোগের উপর প্রভাব ফেলতে পারে এমন কারণগুলো বিবেচনা করেছেন। এই ধরনের গবেষণার তথ্য সরাসরি কারণ এবং প্রভাব প্রমাণ করে না- কেবল একটি শক্তিশালী সম্পর্ক তুলে ধরে। রাতের আলো হৃদরোগের সমস্যার কথা জানলে এটি হ্রাস করার একটি সহজ এবং কার্যকর উপায় হতে পারে।

গবেষকরা লিখেছেন, নারীদের ক্ষেত্রে রাতের আলোর সাথে হৃদরোগ এবং করোনারি ধমনী রোগের ঝুঁকির সম্পর্ক আরও শক্তিশালী ছিল এবং এই দলের তরুণদের ক্ষেত্রে রাতের আলোর সাথে হৃদরোগ এবং অ্যাট্রিয়াল ফাইব্রিলেশনের ঝুঁকির সম্পর্ক আরও দৃঢ় ছিল।

গবেষকরা আমাদের শরীরের অনেকগুলো ক্রিয়াকলাপের দিকে ইঙ্গিত করেছেন যা নিয়মিত, সুনির্দিষ্ট সার্কাডিয়ান ছন্দের উপর নির্ভর করে। যেমন রক্তচাপ থেকে শুরু করে গ্লুকোজ সহনশীলতা পর্যন্ত সবকিছু। উদাহরণস্বরূপ, রাতের শিফটের মাধ্যমে এই ছন্দগুলোকে ব্যাহত করা আমাদের স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। এর মধ্যে একটি হলো হাইপারকোয়াগুলেবিলিটি- অর্থাৎ রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা বৃদ্ধি, যা পূর্বে সার্কাডিয়ান ছন্দের ব্যাঘাতের সাথে যুক্ত ছিল।

গবেষকরা আশা করছেন যে ভবিষ্যতের গবেষণাগুলোতে রাতের আলোর উৎস সম্পর্কে অতিরিক্ত তথ্য থাকবে, যা এই সম্পর্কে আমাদের শরীরের প্রতিক্রিয়া বুঝতে সহায়তা করবে। একটি জরিপে দেখা গেছে যে, মার্কিন জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি মানুষ আসলে টিভি চালু রেখে ঘুমিয়ে পড়ে।

গবেষকরা বলছেন, রাতের আলো এড়িয়ে চলা হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে কার্যকরী হতে পারে। গবেষণাটি এখনও কোনও পিয়ার-রিভিউড জার্নালে প্রকাশিত হয়নি, তবে MedRxiv-এ এর একটি প্রিপ্রিন্ট পাওয়া যাচ্ছে।

সূত্র : সায়েন্স এলার্ট

সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!