দিশারী ডেস্ক।। ২৯ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ।।
নোয়াখালী চাটখিল আদর্শ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা উষা রাণী মজুমদারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বেচ্চাচারিতার অভিযোগ ওঠেছে।
দীর্ঘ ২৬ বছর একই বিদ্যালয়ে চাকুরী, ভর্তি বাণিজ্য, অতিরিক্ত ফিস আদায়, কমিটি গঠনে অনিয়ম, ক্লাসে ফাঁকি দেয়া, কাগজ না কাটা এবং স্কুলের পিয়নদের ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি এবং স্বেচ্চাচারিতার কারণে ধ্বংসের মুখে স্বনামধন্য বিদ্যালয়টি। তাই অভিভাবকরা দ্রুত তাকে অপসারণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।
সূত্র জানায়, চাটখিল আদর্শ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উপজেলার কর্মকর্তাদের সন্তানদের পাশাপাশি উপজেলার বিভিন্ন এলাকার শিক্ষার্থীরা পড়ালেখা করছে। দীর্ঘ কয়েক যুগ থেকে এ বিদ্যালয়ের সুনাম রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা উষা রাণী মজুমদারের স্বেচ্ছাচারিতা, দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে বিদ্যালয়ের সুনাম নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি অনিয়ম ও দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে বিদ্যালয়টি।
অভিযোগ রয়েছে, বিশেষ করে বিগত ১৭ বছর ফ্যাসিস্টদের দোসর হিসেবে উষা রাণী মজুমদার ফ্যাসিস্টের সাথে যোগসাজসে দুর্নীতি ও অনিয়মের স্বর্গরাজ্য তৈরি করে। দীর্ঘ ২৬ বছর একই বিদ্যালয়ে চাকুরী, ভর্তি বাণিজ্য, অতিরিক্ত ফিস আদায়, কমিটি গঠনে অনিয়ম, ক্লাসে ফাঁকি দেয়া, কাগজ না কাটা এবং স্কুলের পিয়নদের নিজের ব্যাক্তিগত কাজে ব্যবহারসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি এবং স্বেচ্চাচারিতা করে আসছে দেদারছে। তার এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিভাবকরা ক্ষুব্ধ হয়ে পূর্বে কয়েকবার চাটখিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ দিলেও সে তাদের ম্যানেজ করে বহাল তবিয়তে থেকে যায়। তার স্বামী সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা হওয়ায় তিনি বেপরোয়াভাবে দুর্নীতি ও অনিয়ম করে যাচ্ছেন।
সূত্র আরো জানায়, ২০২৩ সালে তার যোগসাজসে উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী নেতা মো.বজলুর রহমান ওরফে ভিপি লিটনকে ভুয়া অভিভাবক সাজিয়ে বিদ্যালয়ের কমিটিতে আনা হয়। ওই নেতা বিএ পাশ না করে এবং তার কোন সন্তান এই বিদ্যালয়ে না পড়া সত্ত্বেও প্রধান শিক্ষক উষা রানীর সহযোগিতায় অনিয়মের মাধ্যমে কমিটিতে আসে। এ ঘটনায় অপর এক অভিভাবক মো. শামছুল আলম চাটখিল উপজেলা শিক্ষা কমিটি বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেও কোন লাভ হয়নি।
এছাড়া বিভিন্ন সময় ছাড়পত্রের নামে এবং বিদ্যালয়ের উন্নয়নের নামে স্থানীয় ধর্নাঢ্য অভিভাবকদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা আদায় করে আসছে। প্রতিবছর বরাদ্ধকৃত স্লীপের টাকা যথাযথ ব্যয় না করে হাতিয়ে নেন তিনি। এই ঘটনায় অনেক অভিভাবক ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমের কাছে অভিযোগ প্রদান করে।
এছাড়া স্কুলের পিয়নকে তার ব্যাক্তিগত কাজে ব্যবহার করে এবং কথা না শুনলে তাকে বেতন কাটাসহ নানাভাবে হয়রানি করে। অপরদিকে, চাটখিল উপজেলা আবাসিক কোয়াটারে বরাদ্ধ না থাকা সত্ত্বে ও সে তার ভাগ্নির নামে বরাদ্ধ নিয়ে বসবাস করে আসছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক জানায়, বিদ্যালয়ের সুনামের কারণে তাদের সন্তানদের এই বিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়েছেন। কিন্তু বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষিকা তার ইচ্ছেমতো বিদ্যালয় পরিচালনা করছেন। তিনি বিগত ১৭ বছর ফ্যাসিস্টদের সাথে আতাঁত করে বিভিন্ন অপকর্ম করে বিদ্যালয়কে ধ্বংসের দিকে ধাবিত করছে।
প্রধান শিক্ষিকা উষা রাণী মজুমদার অভিযোগের বিষয়ে তিনি অস্বীকার করে বলেন, এসব অভিযোগ সঠিক নয়।
এ ব্যাপারে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইসরাত নাসিমা হাবীব অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয়ে বলেন, আমার অফিস রিসিভ করে তা ফাইলনোট আকারে দেয়। তাই এই মুহূর্তে স্মরণ করতে পারছি না, দেখে আমাকে বলতে হবে।
Leave a Reply