সোনাইমুড়ীতে হেযবুত তওহীদের দুই সদস্যকে হত্যার আজো বিচার পায়নি পরিবার

  • আপডেট সময় শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬
  • ৩৩ পাঠক

দিশারী ডেস্ক।। ১৪ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ।।

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে হেযবুত তওহীদের দুই সদস্যকে চোখ উপড়ে, হাত-পায়ের রগ কেটে প্রকাশ্যে জবাই করে হত্যার ঘটনার ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও বিচার পায়নি ভুক্তভোগী পরিবার।

অন্যদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এই ঘটনায় হওয়া মামলাকে রাজনৈতিক উল্লেখ করে তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। এবিষয়ে মামলা সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। শনিবার (১৪ মার্চ) সকাল ১১টায় উপজেলার শহীদি জামে মসজিদ কমপ্লেক্সের হলরুমে এই আয়োজন করা হয়।

আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন হেযবুত তওহীদের সর্বোচ্চ নেতা ইমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম। এসময় তিনি ২০১৬ সালের ১৪ই মার্চ সোনাইমুড়ীর পোরকরা গ্রামের হেযবুত তওহীদের সদস্যদের বাড়িঘরে হামলা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও দুই সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ঘটনার দিন একটি উগ্রবাদী গোষ্ঠী মব সৃষ্টি করে, মিথ্যে, বানোয়াট তথ্য দিয়ে অপপ্রচার, গুজব রটনা করে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষকে উস্কানি দিয়ে আমাদের বাড়িতে হামলা চালায়। আক্রমণ করে তারা বাড়ির আঙ্গিনায় নির্মাণাধীন মসজিদকে গির্জা বলে অপপ্রচার চালিয়ে ধ্বংস করে দেয়। সংগঠনের কয়েকটি সদস্যের বাড়ির মালামাল লুটপাট করে। পরে একে একে সেসব বাড়িতে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়। এসময় তারা ১৮টি মোটরসাইকেল, গোলার ধান, গবাদি পশুসহ সব কিছু বাড়ির সবকিছু লুটপাট করে নিয়ে যায়।

মব সৃষ্টি করে দিনে-দুপুরে তার দুই সদস্যকে কিভাবে হত্যা করেছে সেই বর্ণনা তুলে ধরে বলেন, মসজিদ নির্মাণ করতে আসা হেযবুত তওহীদের দুইজন সদস্য রুবেল ও খোকনকে প্রকাশ্যে নির্মমভাবে জবাই করে হত্যা করা হয়। এসময় তাদের চোখ তুলে নেয়া হয়। তাদের হাত ও পায়ের রগ কেটে দেয়া হয়। মৃত্যু নিশ্চিত করে লাশ পেট্রোল দিয়ে জ্বালিয়ে আলামত নষ্ট করার চেষ্টা করা হয়।

নৃশংস এই হত্যার ঘটনায় গত ১০ বছরেও কোন বিচার হয়নি বলে দাবি করেন মোহাম্মদ সেলিম। তিনি বলেন, হত্যাকান্ডের ঘটনার ২ বছর পর বিগত সরকারের আমলে একটি মামলা হয়। সেই মামলায় যাদেরকে আসামী করা হয় তাদের অধিকাংশই আইনের আওতায় আসেনি।

আমাদের বক্তব্য হলো, একটা ঘটনা ঘটেছে প্রকাশ্যে। কারা জবাই করেছে, কারা অর্থ দিয়েছে, কারা মিছিল করে এসে হামলা চালিয়েছে তার প্রমাণ আমাদের কাছে রয়েছে। সেসব ছবি, ভিডিও, অডিও তাদের নাম ঠিকানাসহ আমরা আদালতে জমা দিয়েছি। এই ধরনের আসামীদেরকে কোনভাবেই ছাড় দেয়ার কোন সুযোগ নেই, তাদেরকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। তা না হলে ন্যায় বিচার, মানবাধিকার, আইনের শাসন ভূলুণ্ঠিত হবে।

————————————————————————————————————

হেযবুত তওহীদের এই নেতা বলেন, হত্যা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগের পরেও এই এলাকায় নানা উন্নয়ন প্রকল্প গড়ে তোলা হয়েছে। মসজিদ, গার্মেন্টস ফ্যাক্টরী, স্কুল, হাসপাতাল, খামারসহ অন্তত ৪২ টি উন্নয়ন প্রকল্পে এখানে হাজার হাজার মানুষ কাজ করছেন। তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে।

————————————————————————————————————

পুনরায় হামলার ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, এখনো সেই উগ্রবাদী ধর্মব্যবসায়ী গোষ্ঠীটি বিভিন্ন সময় এই এলাকার আশেপাশে, বেআইনি সমাবেশ করে হামলার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উস্কানি দিয়ে যাচ্ছে। যারা এগুলো করছে সংবাদ সম্মেলন থেকে তাদেরকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে জানমালের নিরাপত্তা দাবি জানানে হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার গণমাধ্যমকর্মীসহ হেযবুত তওহীদের নিহত দুই সদস্য রুবেল, সোলায়মান খোকনের পরিবারের সদস্য ও ঘটনার দিনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!