• আপডেট সময় শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬
  • ০ পাঠক

গুডহিল কমপ্লেক্স শুধুই চাকচিক্যময় ভবন, চিকিৎসা সেবায় অন্তসারশূণ্য
দিশারী ডেস্ক।। ১৫ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ।।

নোয়াখালীতে ব্যাঙের ছাতা এখন আর খুঁজে পাওয়া না গেলে ব্যাঙের ছাতার ন্যায় বেসরকারী হাসপাতালের অভাব নেই। রয়েছে রঙ-বেরঙের নাম। তবে এসবের ভেতরে ডুকলে বাস্তবতায় দেখা যায়, কোন সেবাই নেই। উপযুক্ত চিকিৎসক নেই। সেবক-সেবিকা নেই। আয়াদের সেবিকার পোষাক পরিয়ে দায়সারা নার্সের ভূমিকায় দেখা যায়। রোগীর ব্যবহৃত বিছানা ও বালিশের কোন ধরনের পরিচর্যা করা হয়না।

খোদ নোয়াখালী শহরের গুডহিল কমপ্লেক্স্রের ভেতরের এমন দশার বিপর্যস্ততায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন পর্যায়ের রোগী ও তাদের স্বজনেরা।

ভুক্তভোগীরা জানান, কোন ধরনের রোগ নির্নয় সংক্রান্ত রিপোর্ট করতে গেলেই পরীক্ষা-নিরীক্ষার আগেই নগদ টাকা দিতে হয়। এ হসপিটালে রোগীদের প্রতি কোন ধরনের তদারকি নেই। শুধুমাত্র বিশালায়তকার ভবনকে পুঁজি করে এবং ক’জন চিকিৎসকের নাম ও পদবীকে ব্যবহার করে এখানে চলে সেবা প্রদানের নামে শুধু বাণিজ্যপ্রথা।

চিকিৎসকেরা বিভিন্ন পর্যায়ের টেস্টের জন্যে উদ্বুদ্ধ করলেও বাস্তবে সেসব টেস্টের জন্যে নেই চাহিদানুপাতিক কর্মকর্তা কিংবা কর্মচারী। আবার এসব টেস্টেও রিপোর্ট প্রদানের দায়িত্বে নিয়মিত কোন চিকিৎসক নেই। একজন কর্মচারীর মনগড়া মন্তব্যই হয়ে যায় রিপোটের একমাত্র গন্তব্য!

এছাড়া এখানকার রোগীদের জন্যে পানি সরবরাহ ব্যবস্থাও স্বাস্থ্যসম্মত নয় বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক রোগী ও তাদের স¦জনেরা। এ বিষয়ে হাসপাতালের এক কর্মকর্তা বলেন, আমাদের কিছুই করার নেই। ভাল না লাগলে বাইর থেকে কিনে খান।

জেলার সদর এলাকার ধর্মপুরের মো. সেলিম মিয়া নিজেদেও বাড়ির মসজিদের ফ্লোরে পড়ে কোমরে গুরুতর ব্যথা পান। পরবর্তীতে তাঁর স্বজনেরা এ হাসপাতালে চেম্বার থাকা হাঁড় ভাঙ্গা নিরাময়ের চিকিৎসক তাজুল ইসলাম রবিকে দেখান। তিনি সার্বিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে কোমরে অপারেশনের কথা জানান।

রোগীর স্বজনেরা জানান, তারা ওই চিকিৎসকের ওপর আস্থা রেখে ওই হাসপাতালে ভর্ত্তি হন। এরপর অপারেশন পরবর্তী নিবিড় পর্যবেক্ষণ কক্ষে থাকা রোগী শাররিক যন্ত্রনায় অস্থিরতা বোধ করলেও, তাকে তাৎক্ষণিক সেবা প্রদানের জন্যে কোন সেবক বা সেবিকা খুঁজে পাওয়া যায়নি। যাতে সেলিম মিয়ার রক্তে হাসপাতালের ফ্লোর রক্তাক্ত হয়।

জানা যায়, ওই কক্ষের দায়িত্বরত সেবক, সেবিকারাও রাতে ঘুমিয়ে ছিলেন। যাতে এমন সংকটাপন্ন রোগীদের সঠিক তদারকি করার কেহ ছিলেন না। তবে চিকিৎসক রবির দায়িত্বশীল আচরণে রোগীর স্বজনেরা মুগ্ধ বলে জানান।
সরেজমিনে দেখা গেছে, এখানে রয়েছে সেবক-সেবিকারও পর্যাপ্ত স্বল্পতা। একজন আয়াকেও দেখা যায়, নার্স বা সেবিকার ভূমিকায়। একইভাবে, ওয়ার্ড বয়েরাই হয়ে যান চিকিৎসা সহকারী।

তাছাড়া দায়িত্বরত অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর এমনকি দায়িত্বশীল আবাসিক চিকিৎসকের আচার-আচরণও খিটখিটে। কথায়-কথায় রোগীর আগেই মেজাজ হারায় তারা। তবে এ বিষয়ে হাসপাতালের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মচারী বলেন, প্রয়োজনীয় লোকবল না থাকায় এখানে এক ব্যক্তিকেই অনেকগুলো কাজ করতে হয়। ফলে ক্লান্তময় অবস্থায় কেহ হয়তোবা মেজাজ ঠিক রাখতে পারেননা।

অভিযোগ রয়েছে, অর্থ আদায়ে কঠিন ও কঠোর হিসেবেী হলেও সেবার ক্ষেত্রে চরম হেয়ালিপনা। এসব বিষয়ে জানতে গুডহিল কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. আবদুল হাইকে ফোন দিলেও না ধরায় তার বক্তব্য জানা যায়নি।

সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!