শিরোনাম:
সড়ক দুর্ঘটনার শিকার মানুষ ক্ষতিপূরণ পাচ্ছেন না নোয়াখালীর পৌরতে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিতে বারণ করায় গৃহিণীকে ছুরিকাঘাত হত্যা আড়াল করতেও লাশ ফেলা হয় রেললাইনে বছরে ৩০ হাজার মানুষ ডায়রিয়ায় মারা যায় খাল খনন : খাদ্যনিরাপত্তা, পুষ্টি ও জলবায়ু-সহনশীলতার পথে বাংলাদেশের নতুন সম্ভাবনা পেটকাটার পুনঃখনন উদ্বোধনে উপদেষ্টা জবিউল্লাহ ও সংসদ সদস্য শাহজাহান আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায়ে ” তত্ত্বাবধায়ক সরকার ” বহাল সোনাইমুড়ীতে হেযবুত তওহীদের দুই সদস্যকে হত্যার আজো বিচার পায়নি পরিবার পরিচ্ছন্নতায় সমৃদ্ধ থাকলে নিজেকেও সুরক্ষিত রাখা যায় কাশিরামপুরে পুকুর থেকে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার

হত্যা আড়াল করতেও লাশ ফেলা হয় রেললাইনে

  • আপডেট সময় সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬
  • ১৭ পাঠক

——————————————————————————–

৫ বছরের তথ্য বিশ্লেষণ

——————————————————————————–

দিশারী ডেস্ক।। ৩০ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ।।
দেশের রেললাইনগুলো থেকে প্রতিদিন কারো না কারো লাশ উদ্ধার করছে রেলওয়ে পুলিশ। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই আত্মহত্যার ঘটনায় এসব লাশ মিলছে। এ ছাড়া রয়েছে অসচেতনতা বা মানসিক সমস্যাসহ নানা অসুস্থতাজনিত কারণে মৃত্যু। আবার অপরাধীরাও হত্যাকান্ড আড়াল করতে রেললাইনে লাশ ফেলে যায়। গত পাঁচ বছরে (২০২১-২৫) রেলওয়ে পুলিশ মোট পাঁচ হাজার ৯৮টি লাশ উদ্ধার করেছে। সে হিসেবে এ সময় গড়ে প্রতি মাসে ৮৫টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে ; যা প্রতিদিনে গড়ে প্রায় তিনটির কাছাকাছি।

——————————————————————————

রেললাইনে প্রতি মাসে ৮৫ লাশ।। লাশের সংখ্যা প্রতিবছরই বাড়ছে।।
প্রায় অর্ধেকই আত্মহত্যা।। পরিচয় মেলে না অনেক লাশের।।

——————————————————————————

রেলওয়ে পুলিশ বলছে, উদ্ধার হওয়া এসব লাশের বেশির ভাগেরই পরিচয় পাওয়া যায় না। এর প্রধান কারণ, ট্র্রেনে কাটা পড়ে লাশ বিকৃত হয়ে যায়।

তাছাড়া লাশ ময়নাতদন্তে পাঠানো হলেও রিপোর্ট পেতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। এ ছাড়া কখনো কখনো হত্যাকান্ডকে ভিন্ন খাতে নিতে দুষ্কৃতকারীরা লাশ এনে লাইনের ওপর ফেলছে। এ ধরনের লাশের ক্ষেত্রে পাওয়া কিছু তদন্ত প্রতিবেদনে ছিনতাইকারীসহ অন্য অপরাধীদের হাতে মৃত্যুর বিষয়টি ওঠে আসে এবং বেশির ভাগ ঘটনায় পরিচয় মিললে লাশ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। অন্যথায় বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়।

——————————————————————————————————-

রেলওয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য বলছে, হত্যা ছাড়াও এসব মৃত্যুর পেছনে আরো কিছু কারণ রয়েছে। রেললাইনের ওপর বা পাশে কানে মোবাইল ফোন বা হেডফোন রেখে অবস্থানের সময় ট্রেন আসার শব্দ শুনতে না পাওয়া, রেললাইনের ওপর অন্যমনস্কভাবে বসে থাকা, রেললাইনে অসতর্কভাবে চলাচল, লেভেলক্রসিংয়ে দ্রুত পারাপারের চেষ্টা, ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে যাওয়া, আত্মহত্যা এবং বার্ধক্যসহ অসুস্থাজনিত কারণে মৃতের লাশও রেললাইনে মিলছে।

——————————————————————————————————-

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অরক্ষিত লেভেলক্রসিং, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবহেলা ও অব্যবস্থাপনার কারণে ট্রেনে কাটা পড়ে মানুষের মৃত্যু বাড়ছে। রেললাইনে হাঁটাচলা কিংবা বসা আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ। যাঁরা আইন মানছেন না, তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়ার নজির নেই। রেললাইনের নিরাপত্তার জন্য রেলওয়ে বিভাগের নিরাপত্তা বাহিনী রয়েছে। কিন্তু তারা এ বিষয়ে সক্রিয় বলে মনে হয় না।

রেলওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সারা দেশে রেললাইন থেকে যে পাঁচ হাজার ৯ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়, তাদের মধ্যে পুরুষ তিন হাজার ৯৩০ জন এবং নারী এক হাজার ১৬৮ জন। ২০২১ সালে রেলে কাটা পড়ে ৭৭৮ জনের মৃত্যু হয়। ২০২২ সালে এই মৃত্যু ও লাশের সংখ্যা দাঁড়ায় এক হাজার ৫০ জনে। ২০২৩ সালে এক হাজার ৭১ জন, ২০২৪ সালে এক হাজার ১৯ জন এবং ২০২৫ সালে এক হাজার ১৮০ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে হত্যাকান্ডের ঘটনাও রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কিছু মামলায় ওঠে আসে, যাত্রীদের ট্রেন থেকে ফেলে দিয়ে হত্যা করছে সংঘবদ্ধ অপরাধীরা। অন্যস্থানে খুন করে ঘটনা ভিন্নখাতে নেয়ার জন্য দুর্বৃত্তরা লাশ ফেলে যাচ্ছে রেললাইনে। ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত এ ধরনের হত্যা মামলা হয়েছে ২৫টি। পরিসংখ্যান বলছে, দৈনিক গড়ে প্রায় তিনজন ট্রেন দুর্ঘটনায় মারা যায় বা রেললাইনে তাদের লাশ পাওয়া যায়।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, রেল আইনের ১২ নম্বর ধারা অনুযায়ী, রেললাইনের দুই পাশে ২০ ফুটের মধ্যে নির্দিষ্ট লোক ছাড়া কেউ অবস্থান করতে পারবে না। লাইনের দুই পাশের ২০ ফুট এলাকায় সব সময় ১৪৪ ধারা জারি থাকে। ওই সীমানার ভেতর কাউকে পাওয়া গেলে গ্রেপ্তারের বিধানও রয়েছে। কিন্তু জনবহুল দেশ হিসেবে বাস্তব কারণেই এ জন্য কাউকে আটকের উদাহরণ নেই।

রেললাইনে পাওয়া লাশের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই আত্মহত্যা। প্রায় ৩০ শতাংশ মৃত্যু ঘটছে কানে মোবাইল ফোন বা হেডফোন লাগিয়ে অসচেতনভাবে চলাচলের কারণে।

পুরো রেলপথ পাহারা দেয়া রেলওয়ে পুলিশের পক্ষে কখনো সম্ভব নয়। তা ছাড়া পুরো রেলপথই উন্মুক্ত। বেড়া কিংবা দেয়াল নেই। দেশের প্রায় তিন হাজার ২০০ কিলোমিটারের বেশি রেলপথের ৯৮ শতাংশ এলাকাই রাতে অন্ধকারে ঢাকা থাকে। অনেক এলাকা থাকে নির্জন। অপরাধীরা লাশ গুম করতে এসব অন্ধকার ও নির্জন এলাকা বেছে নেয়। এ কারণে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন অপরাধ কমাতে হলে লাইনঘেঁষে সিসি ক্যামেরা স্থাপন জরুরি।

——————————————————————————————————————

এ বিষয়ে রেলওয়ে পুলিশের অ্যাডিশনাল ডিআইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) তোফায়েল আহমেদ বলেন, রেলপথে নানা কারণে এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। প্রতিটি দুর্ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা হচ্ছে। তবে এসব মামলার রিপোর্ট পেয়ে পুলিশ তদন্তে নামে এবং দক্ষতার সঙ্গে কাজ করে থাকেন।

——————————————————————————————————————

রেলওয়ে পুলিশের একাধিক কর্মকর্তার মতে, অরক্ষিত রেলপথের ৯৫ শতাংশের বেশি রাতে অন্ধকারে ঢাকা থাকে, অনেক এলাকা থাকে নির্জন। এই পথে কোনো অপরাধী যদি কাউকে হত্যা করে লাইনে ফেলে যায়, তখন রেলওয়ে পুলিশের কিছু করার থাকে না। তাছাড়া রেল পুলিশে লোকবলের অভাব রয়েছে।

রেলওয়ে পুলিশের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ করার শর্তে বলেন, অরক্ষিত লেভেলক্রসিং মৃত্যুর অন্যতম কারণ। এগুলো তদারকি ও লেভেলক্রসিংয়ে গেটম্যান নিয়োগ দেয়া রেলওয়ের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। এমনকি রেললাইনে যেন কেউ যেতে না পারে, সেটি দেখার দায়িত্বও রেলওয়ে বিভাগের।

অপরাধ ও সমাজ বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, পুরো রেলপথ না হলেও রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা চাইলে চিহ্নিত জায়গাগুলো সিসি ক্যামেরার আওতায় আনতে পারেন। এতে ট্রেন অপারেশন করতে গিয়ে কী কী সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়, সেটিও চিহ্নিত হবে। উন্নত রাষ্ট্রেও রেললাইনে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটছে। তবে আমাদের রেলপথ একেবারেই অনিরাপদ ও উন্মুক্ত। ফলে এখানে অপরাধীরাও সহজে পার পেয়ে যায়। এমনকি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনার কারণে ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যুর ঘটনায় নিহত ব্যক্তিকে দায়ী করা হচ্ছে।

সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!