কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব দিয়েও বিএনপি হতে অব্যাহতি ৫০ মামলার আসামী

  • আপডেট সময় শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১ পাঠক

দিশারী ডেস্ক।। ১১ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ।।

নির্ধারিত সময়ে কারণ দর্শানোর জবাব দেয়ার পরেও দল হতে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে বেগমগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ও ছয়ানী ইউনিয়নের সাবেক জনপ্রিয় চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিনকে। যাতে এলাকার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা, কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

গত ৩ এপ্রিল তারিখে নোয়াখালী জেলা বিএনপির আহবায়ক ও সদস্য সচিবের যৌথ স্বাক্ষরিত কারণ দর্শানোর নোটিশের যথাযথ জবাব যথাসময়ে দেয়ার পরও তাকে আনিত অভিযোগ হতে অব্যাহতি দেয়নি জেলা বিএনপি।

তিনি নোটিশের জবাবে বর্ণনায় উল্লেখ করেন, গত ৩ এপ্রিল, ২০২৬ তারিখে কতেক গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানতে পারি, আমার বরাবরে একখানা কারণ দর্শানোর নোটিশে পাঠানো হয়েছে। যাতে উল্লেখ করা হয়েছে, বেগমগঞ্জ উপজেলার দেবীপুর, দোয়ালিয়া খাল খননের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কতেক উচ্ছৃঙ্খল ও সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোক কাজে বাধা প্রদান করেন এবং অশ্লীল শ্লোগান দেন। তারা আমার নামে শ্লোগান দিয়ে অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে মর্মে নোটিশে উল্লেখ রয়েছে।

তিনি বলেন, প্রকৃতপক্ষে, যেসব ব্যক্তিগত আমার নামাকরণে শ্লোগান দিয়েছে , আমি উপরন্তু তাদের চিনিই না এবং তাদের সাথে আমার কোন ধরনের সম্পর্কও ছিল না।

তিনি বলেন, এদিন ওই মিছিলের নেতৃত্বে কিংবা মিছিলের আশে-পাশেও আমি ছিলাম না। একইভাবে, খাল খনন অনুষ্ঠানেও আমি উপস্থিত ছিলাম না। তিনি দাবি করেন, এ খাল খনন অনুষ্ঠান সম্পর্কেও তিনি সাংগঠনিকভাবে কিছুই জানেন না।

তার পুত্র আরাফাত রহমানের বড় পুত্র আরাফ রহমান (অটিজম) কে ডাক্তার দেখানোর জন্য তিনি এদিন সকাল ৯ টার দিকে মাইজদী মাদারল্যান্ড হাসপাতালে যান। তিনি সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে তার নাতিকে ডাক্তার দেখিয়ে দুপুর অনুমান ১টার দিকে বাড়িতে এসে বিভিন্ন লোকজন থেকে এ মিছিল ও হট্টগোল সম্পর্কে জানতে পারেন। যা কোনভাবেই একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে এরূপ উচ্ছৃঙ্খল কর্মকান্ড সমর্থন করা তার পক্ষে কাম্য নহে। এসব উচ্ছৃঙ্খল কর্মকান্ডকে তিনি অতীতেও আশ্রয়, প্রশ্রয় দেননি বলে জানান।

———————————————————————————————————–

তিনি বলেন, আমার বাবা মরহুম আক্তারুজ্জামান মিয়া ছয়ানী ইউনিয়ন পরিষদের স্বাধীনতার আগে ও পরে নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন। আমার পিতা বার্ধক্যজনিত কারণে স্থানীয় রাজনীতি হতে অবসর গ্রহনের পর আমি ছয়ানী ইউনিয়ন পরিষদে জনগনের প্রত্যক্ষ ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে গত ২০০৩-২০১৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করি। আমাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য এবং রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত করার জন্য আমার স্থানীয় শত্রুপক্ষীয় লোকজন আমার নামাকরণে মিছিল করেছে। যার সাথে আমি কোনভাবেই জড়িত নহে।

———————————————————————————————————–

জামাল উদ্দিন বলেন, আমি ১৯৭৮ সালে মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তে সম্পৃক্ত হয়ে বিএনপির সাথে এ পর্যন্ত সুনামের সাথে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করে আসছি।

২০০৭ সালে ফখরুদ্দিন ও মঈন উদ্দিন শাসনামলে যৌথবাহিনী কর্তৃক ধৃত হয়ে ১০ মাস ২৭ দিন কারাবরণ করেন তিনি। ২০০৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ২ দিন আগে তাকে আওয়ামীলীগ প্রার্থীর ইন্ধনে পুলিশ গ্রেফতার করলে ১ মাস ২৫ দিন কারাবরণ করেন।

২০১৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ২ দিন আগে আওয়ামীলীগের লোকজন ও পুলিশ তাকে বাড়ী থেকে আটক করলে তিনি ২৯ দিন কারাবরণ করেন।

আমি ১৯৮৬ সাল হতে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত ছয়ানী ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন জামাল। ১৯৯৩ সাল হতে ২৭ জুন, ১৯৯৬ তারিখ পর্যন্ত ছয়ানী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। একইসাথে ২৭ জুন, ১৯৯৬ তারিখ অনুষ্ঠিত সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি ছয়ানী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বলেন, বিগত স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার আমলে আমার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও হয়রানিমূলকভাবে ৫০টির অধিক মামলা দেয়া হয়। সেগুলোর মধ্যে এখনো অনেকগুলো মামলা চলমান রয়েছে।

সঙ্গতকারণে সার্বিক বিষয়সমূহ সহানুভূতির সাথে বিবেচনা করে এবং দলের প্রতি তার দীর্ঘদিনের ত্যাগ, নিষ্ঠা ও আনুগত্য পর্যালোচনা করে তাকে আনিত অভিযোগ হতে অব্যাহতি প্রদানের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানান তিনি।

————————————————————————————————————-

তবে ওই কারণ দর্শানোর নোটিশের এমন আবেগঘন জবাব প্রদানের পরেও তাকে দল হতে অব্যাহতি প্রদান করায় ব্যথিত হয়েছেন জামাল উদ্দিন। সর্বশেষ দলের প্রতি ভালবাসার কারণে দলীয় কর্মকান্ডে নিজেকে সবাক রাখার দাবিতে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছেও লিখিত আবেদন করেছেন তিনি।

————————————————————————————————————-

অবশ্য এমন আবেদনের সুরাহার বিষয়ে দলের চট্রগ্রাম বিভাগীয় বিষয়ে সাংগঠনিক দেখভালের দায়িত্বপ্রাপ্ত এডভোকেট আহমেদ আযম খান বিষয়টি নিবিড়ভাবে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার জন্যে জেলা বিএনপিকে নির্দেশনা প্রদান করেন।

সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!