শিরোনাম:
অপচয় সম্পর্কে ইসলামের সতর্কবার্তা ? মানহীন হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার: শুধু সিলগালা নয়, চাই কঠোর ও স্থায়ী ব্যবস্থা সড়ক দুর্ঘটনার শিকার মানুষ ক্ষতিপূরণ পাচ্ছেন না নোয়াখালীর পৌরতে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিতে বারণ করায় গৃহিণীকে ছুরিকাঘাত হত্যা আড়াল করতেও লাশ ফেলা হয় রেললাইনে বছরে ৩০ হাজার মানুষ ডায়রিয়ায় মারা যায় খাল খনন : খাদ্যনিরাপত্তা, পুষ্টি ও জলবায়ু-সহনশীলতার পথে বাংলাদেশের নতুন সম্ভাবনা পেটকাটার পুনঃখনন উদ্বোধনে উপদেষ্টা জবিউল্লাহ ও সংসদ সদস্য শাহজাহান আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায়ে ” তত্ত্বাবধায়ক সরকার ” বহাল সোনাইমুড়ীতে হেযবুত তওহীদের দুই সদস্যকে হত্যার আজো বিচার পায়নি পরিবার

অপচয় সম্পর্কে ইসলামের সতর্কবার্তা ?

  • আপডেট সময় শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১০ পাঠক

মুফতি মুহাম্মদ মর্তুজা।। ০৪ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ।।

মহান আল্লাহ মানবজাতিকে অসংখ্য নিয়ামত দিয়েছেন। শাররিক সুস্থতা, অর্থ-সম্পদ, মেধা, প্রাকৃতিক সম্পদ থেকে শুরু করে জীবনের পরতে পরতে মহান আল্লাহর দেয়া অগণিত নিয়ামত রয়েছে। যার সবই মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে আমানত। মানুষের দায়িত্ব এই আমানতগুলো যথাযথভাবে রক্ষা করা, আল্লাহর দেয়া নিয়ামতকে যথাযথভাবে ব্যবহার করা।

অপব্যবহার বা অবহেলা না করা। কোনো অবস্থায়ই যেন নিয়ামতের অপচয় না হয়, সে ব্যাপারে সচেষ্ট থাকা। কেননা প্রতিটি অপচয়ই নীরবে ক্ষতি ও বিপদ ডেকে আনে। যার প্রভাব ব্যক্তি, পরিবার থেকে শুরু করে রাষ্ট্র পর্যন্ত পড়তে পারে।

অপচয় সম্পর্কে সতর্ক করে মহান আল্লাহ বলেছেন, অপচয়কারীরা শয়তানের ভাই। আর শয়তান তার রবের প্রতি খুবই অকৃতজ্ঞ। (সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ২৭)

এ আয়াত আমাদের বুঝিয়ে দেয় অপচয় শুধু অর্থনৈতিক সমস্যা নয়, এটি ঈমান ও নৈতিকতার সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত। লোক-দেখানো কিংবা প্রতিযোগিতার উদ্দেশে অপ্রয়োজনীয় খরচ করা জীবনে নানা ধরনের অকল্যাণ ডেকে আনে।

এই অপচয় শুধু এক অপরাধে সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং তার সঙ্গে যোগ হয় অহংকার ও বড়াই করার অপরাধ, যা আল্লাহ তাআলাকে ক্রোধান্বিত করে। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘ আর জমিনে বড়াই করে চলো না ; তুমি তো কখনো জমিনকে ফাটল ধরাতে পারবে না এবং উচ্চতায় কখনো পাহাড় সমান পৌঁছতে পারবে না। ’ (সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ৩৭)

তাই লোক-দেখানোর উদ্দেশে অপচয় করা মূর্খতা বৈ কিছু নয়। এটি একটা পর্যায়ে গিয়ে জীবনের বরকত তুলে নেয় এবং মানসিক চাপ বাড়ায়। সমাজে ব্যাপকভাবে এই প্রতিযোগিতা চললে, তার প্রভাব সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনেও পড়ে। যেমন—বিদ্যুৎ, গ্যাস বা জ্বালানি ইত্যাদির অপচয়ের প্রবণতা যদি ব্যাপক হারে দেখা দেয়, তাহলে গোটা রাষ্ট্রই কোনো না কোনো সময় সংকটের মুখে পড়ে। যেমন—একসময় বাংলাদেশের মানুষ বাড়ির কাপড় শুকানো কিংবা দিয়াশলাইয়ের কাঠি বাঁচানোর জন্য সারা দিন গ্যাসের চুলা জ্বালিয়ে রাখত। আর এখন কোনো কোনো এলাকায় জরুরি রান্নাবান্না করার জন্যও ভালোভাবে গ্যাস পাওয়া যায় না।

——————————————————————————————————————-

গণমাধ্যমের তথ্য মতে, গত দুই দশকে দেশে শিল্পোন্নয়ন ও বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেলেও নিজস্ব জ্বালানি সরবরাহের সক্ষমতা উল্টো কমেছে। একই সঙ্গে বেড়েছে জ্বালানির অপচয়। প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা, দক্ষতার ঘাটতি ও দুর্বল বাস্তবায়নের কারণে প্রতিবছর হাজার হাজার কোটি টাকার জ্বালানি নষ্ট হচ্ছে বলে বিভিন্ন গবেষণায় ওঠে এসেছে।

——————————————————————————————————————-

বাসাবাড়ি, অফিস-আদালত ও দোকানপাটে প্রতিদিন যে পরিমাণ অপ্রয়োজনীয় ডিভাইস চালানো হয়, তা যদি বন্ধ করা সম্ভব হতো, তাহলে আমাদের দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত আরো শক্তিশালী হতো। একইভাবে আমরা প্রতিদিন যে পরিমাণ সময় নষ্ট করি, তা যদি রোধ করা যেত এবং সঠিকভাবে ব্যবহৃত হতো, তাহলে আমাদের ইহকাল-পরকাল আরো সুন্দর হতো।

ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘ রাসুল (সা.) বলেছেন, এমন দুটি নিয়ামত আছে, যে দুটিতে বেশির ভাগ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত। তা হচ্ছে সুস্থতা আর অবসর। ’ (বুখারি, হাদিস : ৬৪১২)

একবার জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) একটি গবেষণায় ওঠে এসেছে, পৃথিবীর মোট উৎপাদিত খাদ্যের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অপচয় হয়, যার পরিমাণ বছরে প্রায় ১৩০ কোটি টন। অথচ অপচয় হওয়া বিপুল পরিমাণ এই খাবারের এক-চতুর্থাংশও যদি বাঁচানো যায়, তাহলে তা দিয়ে ৮৭ কোটি দুস্থ মানুষের প্রয়োজন মেটানো সম্ভব, যা আমাদের দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় পাঁচ গুণ বেশি।

খাবারের অপচয়ও ইসলামের দৃষ্টিতে জঘন্য অপরাধ। কেননা মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘ হে আদাম সন্তান ! প্রত্যেক সালাতের সময় তোমরা সাজসজ্জা গ্রহণ করো আর খাও, পান করো কিন্তু অপচয় কোরো না, অবশ্যই তিনি অপচয়কারীদের পছন্দ করেন না। ’ (সুরা : আরাফ, আয়াত : ৩১)

এক কথায় বললে, অপচয় শুধু একটি খারাপ অভ্যাস নয়, এটি একটি ধ্বংসাত্মক সংস্কৃতি, যা ব্যক্তি থেকে শুরু করে রাষ্ট্র পর্যন্ত সবকিছু গ্রাস করে। যদি আমরা ব্যক্তিজীবনে সংযম শিখি, তাহলে পরিবার ঠিক হবে, পরিবার ঠিক হলে সমাজ ঠিক হবে আর সমাজ ঠিক হলে রাষ্ট্রও শক্তিশালী হবে।

সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!