দিশারী ডেস্ক।। ৮ এপ্রিল ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ।।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অভিশংসন ও ২৫তম সংশোধনীর আওতায় অবিলম্বে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে কৃষ্ণাঙ্গদের অধিকার আদায়ের ঐতিহ্যবাহী সংগঠন এনএএসিপি। ১৯০৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘ ১১৭ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে এমন কঠোর অবস্থান নিল সংগঠনটি।
ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য অ্যাডভান্সমেন্ট অব কালারড পিপল (এনএএসিপি)-এর প্রেসিডেন্ট ডেরিক জনসন এক বিবৃতিতে বলেন, এই প্রেসিডেন্ট অযোগ্য, অসুস্থ এবং উন্মাদ। তিনি আরও যোগ করেন যে, ট্রাম্পের বক্তব্য ও আচরণ কেবল উদ্বেগজনক নয়, বরং অত্যন্ত বিপজ্জনক।
এদিকে, মার্কিন কংগ্রেসওম্যান আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও-কার্তেজ আবারও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে অভিশংসনের দাবি তুলেছেন। তিনি বলেছেন, ইরানের সঙ্গে সাময়িক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা ‘ কিছুই বদলায়নি ’।
ট্রাম্প মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ইরানকে বেধে দেয়া ডেডলাইনের শেষ মুহূর্তে একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে লিখেছিলেন, একটি সভ্যতা আজ পৃথিবীর বুক থেকে চিরতরে মুছে যাবে। যার পর তিনি বৈশ্বিকভাবে কড়া সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন।
তবে তার আগে থেকেই ট্রাম্প তার দেশে অজনপ্রিয় হয়ে ওঠেছিলেন। তার কারণ ট্রিলিয়ন-ট্রিলিয়ন ডলার খরচ করে তিনি এই যুদ্ধে লড়ছেন, যার প্রভাব দেশটির অর্থনীতিতেও পড়েছে।
এর বাইরে ট্রাম্পের কর্তৃত্ববাদী শাসন আর বিভিন্ন বিতর্কিত আইন প্রণয়নও দেশটির মানুষকে তার বিরুদ্ধে যাওয়ার পেছনে নিয়ামক হিসেবে কাজ করছিল। যার ফলে তার বিরুদ্ধে গত মাসে ‘নো কিংস’ আন্দোলনও হয়েছিল, যে আন্দোলনে রাস্তায় নেমে এসেছিলেন প্রায় ৮০ লাখ মানুষ। এত জনসমাগম যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে কোনো আন্দোলনই দেখাতে পারেনি বলে দাবি করেছিলেন আয়োজকরা।
ডেমোক্র্যাট নেত্রী আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও-কার্তেজ সেই ট্রাম্পবিরোধী মনোভাবটাকেই আবার সামনে নিয়ে এসেছেন। তিনি এক্সে এক পোস্টে লিখেছেন, প্রেসিডেন্ট ইরানি জনগণের বিরুদ্ধে গণহত্যার হুমকি দিয়েছেন এবং সেই হুমকিকে এখনও কাজে লাগাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, আমরা আর বিশ্বকে এবং আমাদের দেশের মঙ্গলকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারি না।
আলেক্সান্দ্রিয়া সরাসরি তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার দাবি তুলেছেন। তিনি বলেছেন, তার মন্ত্রিসভা হোক বা কংগ্রেস, প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতা থেকে সরাতে হবে। আমরা বিপদের কিনারায় চলে এসেছি।
এর আগে ডজনখানেক ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের হুমকির কারণে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার দাবি তুলেছিলেন। যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরেও তাদের অনেকে জানিয়েছেন, তাদের অবস্থান একটুও বদলায়নি।
Leave a Reply