জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হয়েছেন ২৮৪ জন শ্রমজীবী মানুষ >>>

  • আপডেট সময় সোমবার, ২১ জুলাই, ২০২৫
  • ৫৩ পাঠক

দিশারী ডেস্ক ।। ২১ জুলাই, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে যাঁরা জীবন দিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে শীর্ষে রয়েছেন শ্রমজীবী মানুষেরা। কমপক্ষে ২৮৪ জন শ্রমজীবী মানুষ গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ হয়েছেন।

দিনমজুর, রিকশাচালক, ভ্যানচালক, সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক, ট্রাকের চালক–সহকারী, দোকানের কর্মী, রেস্তোরাঁর কর্মচারী ও পোশাক কারখানার কর্মীদের মতো আনুষ্ঠানিক–অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকেরা গণ–অভ্যুত্থানে জীবন দিয়েছেন। সরকারি গেজেটে শহীদদের তালিকায় যে ৮৪৪ জনের নাম এসেছে, তাঁদের মধ্যে ৮১০ জনের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য সংগ্রহ করেছে একটি জাতীয় দৈনিক। তাঁদের প্রত্যেকের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছে ওই জাতীয় দৈনিকটি।

——————————————————————————————–

শহীদ পরিবারের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে পেশা ও বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শ্রমজীবীদের পরে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে শিক্ষার্থীদের—২৬৯ জন। আবার শিক্ষার্থীদের মধ্যে যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের উল্লেখযোগ্য অংশের বয়স ১৮ বছরের নিচে। স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার ১৮ বছরের কম বয়সী শিক্ষার্থীরা আন্দোলনের অগ্রভাগে ছিল। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গণ-অভ্যুত্থানে কমপক্ষে ১৩৩টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

——————————————————————————————-

শহীদ পরিবারের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে পেশা ও বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শ্রমজীবীদের পরে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে শিক্ষার্থীদের—২৬৯ জন। আবার শিক্ষার্থীদের মধ্যে যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের উল্লেখযোগ্য অংশের বয়স ১৮ বছরের নিচে।

শ্রমজীবী ও শিক্ষার্থীদের পর বেশি মৃত্যু হয়েছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের। অন্তত ১২০ জন ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে গণ–অভ্যুত্থানে। এরপর রয়েছেন বেসরকারি চাকরিজীবীরা—সংখ্যাটি ১০৮।

গণ-অভ্যুত্থানের নেতৃত্বে ছিলেন শিক্ষার্থীরা। বৈষম্য দূর করার জন্য শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে পরে সারা দেশের প্রায় সব শ্রেণি-পেশার মানুষ যুক্ত হন। শহীদদের সরকারি তালিকায়ও বিষয়টি স্পষ্ট।

————————————————————————————————–

বিশ্লেষণে দেখা যায়, যাঁরা শহীদ হয়েছেন, তাঁদের ৩৫ শতাংশ শ্রমজীবী, ৩৩ শতাংশ শিক্ষার্থী, ১৫ শতাংশ ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী এবং ১৩ শতাংশ বেসরকারি চাকরিজীবী। অন্তত ১২০ জন ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে গণ–অভ্যুত্থানে। এরপর রয়েছেন বেসরকারি চাকরিজীবীরা—সংখ্যাটি ১০৮।

————————————————————————————————–

৩৫ বছরের কম বয়সীদের মৃত্যু বেশি

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় যাঁদের হত্যা করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে ৭৯ শতাংশের বয়স ৩৫ বছরের কম। সংখ্যার হিসাবে যা ৬৩৮। আবার নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু প্রায় ১৭ শতাংশ। অন্যদিকে বেশির ভাগ মানুষের মৃত্যু হয়েছে প্রাণঘাতী গুলিতে। এ ছাড়া কুপিয়ে, পিটিয়ে ও আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনাও ঘটেছে।

মৃত্যুর তথ্য–উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, ৪ বছর বয়সী শিশু থেকে শুরু করে ৭০ বছর বয়সী ব্যক্তিও রয়েছেন। জনসংখ্যা বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে সাধারণত ১৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সীদের কর্মক্ষম হিসেবে ধরা হয়।

৮৪৪ জন শহীদের মধ্যে যে ৮১০ জনের তথ্য সংগ্রহ করেছে ওই জাতীয় দৈনিক। তাতে দেখা গেছে ৭৬৭ জনের বয়স ১৫ থেকে ৬৪ বছরের মধ্যে। অর্থাৎ যাঁরা মারা গেছেন, তাঁদের ৯৫ শতাংশই তখন কর্মক্ষম ছিলেন।

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের শুরুটা যে আন্দোলনের মাধ্যমে হয়েছিল, তার পেছনে কর্মসংস্থান একটি বড় ইস্যু ছিল। বেকারত্ব, বৈষম্য ও অসমতার বিষয়গুলোও ছিল। কাজেই কর্মক্ষম মানুষেরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ওই আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন। মৃত্যুর তথ্য বিশ্লেষণেও এটি দেখা যাচ্ছে। কর্মক্ষম এত মানুষের মৃত্যু যেকোনো দেশের জন্যই বিরাট ক্ষতি।

—————————————————————————————————

বিশ্লেষণে দেখা যায়, যাঁরা শহীদ হয়েছেন, তাঁদের ৩৫ শতাংশ শ্রমজীবী, ৩৩ শতাংশ শিক্ষার্থী, ১৫ শতাংশ ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী এবং ১৩ শতাংশ বেসরকারি চাকরিজীবী।

—————————————————————————————————

শ্রমজীবী মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল

গণ–অভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া শ্রমজীবীদের অনেকেই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাঁদের মৃত্যুতে পরিবারগুলো বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

একটি জাতীয় দৈনিকটির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গণ–অভ্যুত্থানের সময় রাজধানী ঢাকার যাত্রাবাড়ী, উত্তরা, মিরপুর, মোহাম্মদপুর ও রামপুরা—এই পাঁচ এলাকায় সবচেয়ে বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এই পাঁচ এলাকায় কমপক্ষে ৩২৪ জনের মৃত্যু হয়। আবার এসব এলাকায় শ্রমজীবী মানুষের বসবাস বেশি। বিশেষ করে যাত্রাবাড়ী, মোহাম্মদপুর ও মিরপুরের যেসব স্থান গণ–অভ্যুত্থানের সময় ব্যাপক প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়েছিল, ওই এলাকাগুলোয় শ্রমজীবী মানুষের বড় ভূমিকা ছিল।

যাত্রাবাড়ীতে গত বছরের ১৯ জুলাই গুলিতে নিহত হন সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক রাজীব হোসেন। তাঁর বাবা তোফাজ্জল হোসেন গত বুধবার বলেন, তাঁর ছেলে যাত্রাবাড়ীতে একটি ভাড়া বাসায় স্ত্রী ও দুই শিশুসন্তান নিয়ে থাকতেন। ছেলের মৃত্যুর পর পরিবারে বিপর্যয় নেমে এসেছে। যাত্রাবাড়ীর ভাড়া বাসা ছেড়ে ছেলের পরিবার এখন শরীয়তপুরের ডামুড্যায় চলে এসেছে। সেখানে ছেলের স্ত্রীর বাবার বাড়িতে থাকছেন তাঁর নাতিরা।

গণ–অভ্যুত্থানের সময় সাভার, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে বহু মানুষ হতাহত হয়েছেন। এসব এলাকায় পোশাককর্মীসহ আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক খাতের অনেক শ্রমিক বাস করেন। জাতীয় দৈনিকটির অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গণ-অভ্যুত্থানের সময় সাভারে ৬৫ জন, গাজীপুরে ৩৬ জন ও নারায়ণগঞ্জে ৩৪ জন নিহত হন। তাঁদের মধ্যে অনেকেই শ্রমজীবী মানুষ।

—————————————————————————————————

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গণ–অভ্যুত্থানের সময় রাজধানী ঢাকার যাত্রাবাড়ী, উত্তরা, মিরপুর, মোহাম্মদপুর ও রামপুরা—এই পাঁচ এলাকায় সবচেয়ে বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এই পাঁচ এলাকায় কমপক্ষে ৩২৪ জনের মৃত্যু হয়। আবার এসব এলাকায় শ্রমজীবী মানুষের বসবাস বেশি।

—————————————————————————————————-

গণ–অভ্যুত্থানে শ্রমজীবী মানুষের ভূমিকা সম্পর্কে শ্রম সংস্কার কমিশনের প্রধান সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ বলেন, অনেক শ্রমিক কাজের সন্ধানে বাসা থেকে বেরিয়ে রাস্তায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। শ্রমজীবী মানুষের মৃত্যু হলে পরিবার পথে বসে যায়।

শ্রমিকেরা দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্যের শিকার উল্লেখ করে সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ বলেন, তাই তাঁরা বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে তখন রাস্তায় নেমেছিলেন। শিক্ষার্থীদের এভাবে গুলি করে হত্যা করার বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি শ্রমজীবী মানুষ। তাই তাঁরা আন্দোলনে যুক্ত হয়েছিলেন। যেসব শ্রমজীবী মানুষ শহীদ হয়েছেন, তাঁদের পরিবারের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে শ্রম সংস্কার কমিশনের পক্ষ থেকে অন্তর্র্বতী সরকারের কাছে বেশ কিছু সুপারিশ করা হয়েছে। শ্রমিকদের বঞ্চনা ও বৈষম্য দূর করতে সুপারিশ করা হয়েছে। শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে এসব সুপারিশ বাস্তবায়নে সরকারকে এখন কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

——————————————————————————————————–

শ্রম সংস্কার কমিশনের প্রধান সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ বলেন, অনেক শ্রমিক কাজের সন্ধানে বাসা থেকে বেরিয়ে রাস্তায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। শ্রমজীবী মানুষের মৃত্যু হলে পরিবার পথে বসে যায়।

——————————————————————————————————–

নিহতদের ৩৩ শতাংশ শিক্ষার্থী

আবু সাঈদ, মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধসহ ২৬৯ জন শিক্ষার্থী জীবন দিয়েছেন গণ–অভ্যুত্থানে। শহীদদের তালিকা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোট মৃত্যুর ৩৩ শতাংশই শিক্ষার্থী। বিভিন্ন সরকারি–বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা রয়েছেন শহীদদের তালিকায়। এ তালিকায় নাম আছে শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মাহিনের (১৬)।

৪ আগস্ট রাজধানীর উত্তরার আজমপুরে রাজউক কমার্শিয়াল কমপ্লেক্সের সামনে গুলিতে নিহত হয় ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মাহিন (১৬)। তার মা সামিরা জাহান (১৬ জুলাই) বলেন, বৈষম্যের কারণে চাকরি যদি না পাই, তাহলে লেখাপড়া করে লাভ নেই, এমন কথা বলে আন্দোলনে গিয়েছিল মাহিন। সে বলেছিল, মারা গেলেও বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করে যাবে। আমার ছেলেটা সত্যি সত্যিই মারা গেল।

উত্তরা এলাকায় আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন একটি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী শেখ শিহাবুদ্দিন। তাঁর সঙ্গেও গত বুধবার কথা হয়। তিনি বলেন, মূলত দুটি কারণে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন। প্রথম কারণটি হচ্ছে, দেশে চাকরিসহ সব ক্ষেত্রে বৈষম্য দূর করার দাবির সঙ্গে তিনি একমত ছিলেন। আর দ্বিতীয় কারণ হচ্ছে, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও গুলির ঘটনায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। তাই প্রতিবাদ করার সিদ্ধান্ত নেন।

শেখ শিহাবুদ্দিন বলেন, উত্তরা এলাকায় নির্বিচার গুলি চলেছিল। বহু শিক্ষার্থীকে হতাহত হতে দেখেছেন। গুলিবিদ্ধ অনেক শিক্ষার্থীকে তখন তিনি হাসপাতালে নিয়ে গেছেন।

———————————————————————————————————

গণ–অভ্যুত্থানের তরুণেরা হয়ে ওঠেছিলেন সাহসী মানুষের প্রতিচ্ছবি। এই আন্দোলনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে, শতাধিক শিশু–কিশোরের মৃত্যু। অন্যায়ের বিরুদ্ধে, বৈষম্যের বিরুদ্ধে শিশু–কিশোর–তরুণদের প্রতিবাদ–আত্মত্যাগ অবিস্মরণীয় এক ঘটনা। পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ মঈনুল ইসলাম

———————————————————————————————————

গুলির সামনে বুক পেতে দিয়েছিলেন তরুণেরা

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে তরুণেরাই ছিলেন অগ্রভাগে। পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলির মুখেও তাঁরা রাস্তা ছেড়ে যাননি।

গত ফেব্রুয়ারি মাসে প্রকাশ করা জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের তথ্যানুসন্ধান প্রতিবেদনে ওঠে এসেছে, শেখ হাসিনার সরকার ক্রমাগত নৃশংস পদক্ষেপ নিয়ে পদ্ধতিগতভাবে বিক্ষোভ দমনের চেষ্টা করেছিল। ওই সময়ে (১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্টের মধ্যে) ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।

ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিক্ষোভ চলাকালে নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ৬৬ শতাংশ রাইফেলের গুলিতে, ১২ শতাংশ শটগানের গুলিতে এবং ২ শতাংশ পিস্তলের গুলিতে প্রাণ হারান।

———————————————————————————————————-

গুলির মুখে তরুণেরা বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা বুক পেতে দিয়েছিলেন উল্লেখ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ মঈনুল ইসলাম বলেন, গণ–অভ্যুত্থানের তরুণেরা হয়ে ওঠেছিলেন সাহসী মানুষের প্রতিচ্ছবি। এই আন্দোলনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে, শতাধিক শিশু–কিশোরের মৃত্যু। অন্যায়ের বিরুদ্ধে, বৈষম্যের বিরুদ্ধে শিশু–কিশোর–তরুণদের প্রতিবাদ–আত্মত্যাগ অবিস্মরণীয় এক ঘটনা।

———————————————————————————————————-

 

সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!