হিজড়াদের বকসিসবাজিতে (!) অতিষ্ট নোয়াখালীর জনগণ

  • আপডেট সময় রবিবার, ২৭ জুলাই, ২০২৫
  • ১৪৮ পাঠক

দিশারী ডেস্ক। ২৭ জুলাই, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ।।

একজন হিজড়া জানান, প্রতিটি পাড়ায়, মহল্লায় নাকি তাদেরও দালাল রয়েছে। কারো ব্যক্তিগত বা পাারিবারিক অনুষ্ঠানাদির খবর ওই দালালদের মাধ্যমেই পেয়ে যান তারা। এছাড়া, রয়েছে বিভিন্ন কাজী, কাপড়-দোকান, ডেকোরেশন দোকানেও তাদের যোগাযোগ ও চোখ।

গরীব নাকি সামর্থ্যবান, অসহায় নাকি অপারগ, কোনকিছুই তোয়াক্কা করেনা, কোনপ্রকার ওজর-আপত্তি, অনুরোধ গ্রহণ করেনা। বরং তারা নিজেদের দাবি বা চাহিদা আদায়ে অটল। একাট্রা। বিয়ে, জন্মদিন, আকিকা, মুসলমানি বা অন্য যেকোন ব্যক্তিগত বা সামাজিক অনুষ্ঠানে দলবল নিয়ে এসে হাজির হয়ে যায়। কখনো হোটেল, রেস্টুরেন্ট, বাসা-বাড়ি বা কমিউনিটি সেন্টারেও। এ যেন মগের মুল্লুক। এসব জানালেন কতেক ভুক্তভোগী জনগণ।

ভুুক্তভোগীরা জানান, হিজড়ারা এমনভাবে দাবি করে যেন এটা তাদের প্রাপ্য, ন্যায্য অধিকার ! তাদের কথাবার্তা আর বাচন-ভঙ্গিতে মনে হয় আগেই তারা টাকা জমা দিয়ে রেখেছে। সুন্দর করে বলে, বিশেষ অনুরোধ, অনুনয়-বিনয় করে ৫০০ টাকা দিলেও নেবেনা। অনেক বাকবিতন্ডার পরে মান-সম্মানের ভয়ে ১৫০০, ২০০০, ৩০০০ টাকা দিয়ে কোনভাবে দায় মুক্তি মেলে। অনেক ক্ষেত্রে ২ হাজার, ৫ হাজার, ১০ হাজার কিংবা তারও বেশি দাবি এবং দিতে হয়। না হয় জামাইকে বা নতুন বউকে নাজেহাল করার হুমকি দেয়।

নোয়াখালী শহরের ব্যবসায়ীরা জানান, প্রায় দিনই এমন ওৎপাত করছে হিজড়ারা। দোকানে বেচাকেনা না থাকলেও তাদের বাধ্যতামূলকভাবে চাঁদা দিতেই হচ্ছে। থেমে নেই নোয়াখালী-ঢাকা রুটে চলাচলকারী উপকূল ট্রেনেও। এ পথেও চৌমুহনী হতে লাকসাম কিংবা ব্রাক্ষণবাড়িয়া পর্যন্ত সইতে হয় চাঁদাবাজির উৎপাত।

এদিকে ইতোমধ্যে, সোনাইমুড়ি-ঢাকা রুটে কখনো সোনাইমুড়ি হতে, কখনো লাকসাম হতে চলাচলকারী প্রায় পরিবহনেও ওঠে পড়ে তারা। এসময় যাত্রীদের কাছ থেকে বাধ্যকরভাবে আদায় করে অতিরিক্ত চাঁদা।

ভুক্তভোগী ইমরান হোসেন জানান, হিজড়াদেও যন্ত্রনায় বাধ্য হয়ে পুলিশ প্রশাসনের দারস্থ হয়ে কোন পুলিশ কর্মকর্তা বা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)’কে ফোন দিলে চাঁদা না নিয়ে চলে যাওয়ার সময় হুমকি দিয়ে যায়। এ সময় বলে যায় নতুন বউ কিভাবে ঘরে ওঠাও দেখে নিবো। এসব বিষয় নিয়ে বরপক্ষ বা কনে পক্ষ বা ভুক্তভোগীদের মধ্যে দুশ্চিন্তা বা হয়রানি কাজ করে। বকশিস, সম্মানি, সেলামী নামের এ চাঁদাবাজি থেকে মুক্তি চায় নোয়াখালীবাসী।

এছাড়াও এসব হিজড়ারা শুধু চাঁদাবাজি পর্যন্ত সীমাবদ্ধ নয়, মাদকের রমরমা বাণিজ্যের সাথেও তারা জড়িত হয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে। সম্প্রতি এমনই ঘটনা ঘটছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। ইতোমধ্যে, মীরেসরাইয়েও বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ আটক হয়েছে ৬ জন হিজড়া। তাছাড়া এ দলে হিজড়া সেজে রয়েছে কিছু ভুয়া হিজড়াও। এমন ঘটনার সত্যতায় ক’বছর আগে নোয়াখালীর সুবর্ণচরেও ৪ জন আটক হয়েছে। তবে ক’জন হিজড়া জানালেন, তাদের মধ্যে সবার স্বভাব চরিত্র এক না। বললেন, অনুষ্ঠানাদীতে তাদের কাছে কেহ অপরাগতা প্রকাশ করলে তারা সেখানে বেশি বাড়াবাড়ি করেননা।

 

সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!