বেগমগঞ্জে অনন্তপুর মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটি নিয়ে উত্তেজনা

  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬
  • ২ পাঠক

দিশারী ডেস্ক।। ৩ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ।।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম অনন্তপুর ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটি নিয়ে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এতে যে কোন সময়ে, যে কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

জানা যায়, গত ৪ নভেম্বর, ২০২৫ তারিখে মাদ্রাসার কমিটি গঠনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। এ নিয়ে সাবেক ইউপি সদস্য মো. জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে কমিটি গঠন প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ই-সিস্টেমের মাধ্যমে চার হাজার টাকা ব্যাংকে জমা দিয়ে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে দায়ের করেন।

সূত্র জানায়, বোর্ড অভিযোগটি আমলে নিয়ে বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে তদন্তের দায়িত্ব দেন। অন্যদিকে, নির্বাহী কর্মকর্তা এ বিষয়ে সরেজমিনে তদন্ত করে প্রতিবেদনটি দেয়ার জন্যে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেন।

তদন্ত কার্যক্রমের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হলে জামাল ৩০ দিনের জন্যে তদন্তটি স্থগিতের জন্যে আবেদন করেন। কিন্তু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কোনো পদক্ষেপ নেননি। একইসাথে, তদন্ত কর্মকর্তার পরিবর্তনের আবেদনটিও উপেক্ষা করা হয়। জামাল অভিযোগ করেন, তদন্ত কর্মকর্তা জামাল উদ্দিনের বক্তব্য ছাড়াই বিবাদী পক্ষের সাক্ষী ও বক্তব্য নিয়ে একতরফা প্রতিবেদন বোর্ডে পাঠান।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা একটি একতরফা ও পক্ষপাতদুষ্ট প্রতিবেদন দাখিল করেছেন।

অপরদিকে, সংক্ষুব্দ ও ভুক্তভোগী বাদী জামাল পুনরায় বোর্ড বরাবর ই-সিস্টেমের মাধ্যমে চার হাজার টাকা ব্যাংকে জমা দিয়ে প্রস্তাবিত কমিটি, বিতর্কিত প্রতিবেদন বাতিল করে একটি উচ্চতর তদন্তের দাবি জানান। তিনি গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে গ্রাহক অভিযোগ সেবা এবং সরাসরি আবেদন করেন। অথচ সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ তা আমলে না নিয়ে উপরন্তু কমিটি অনুমোদন করে প্রজ্ঞাপন জারি করেন। এতে এলাকাবাসী মনে করছেন জামাল উদ্দিনের প্রতি সঙ্গে আইনত ও ন্যায়ত অন্যায় করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি নবাগত কমিটির সভা আয়োজনের সময় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ও মারামারির ঘটনা ঘটে। যাতে একপর্যায়ে, কমিটি সভা বাতিল করে ফিরে যান। স্থানীয়রা স্পষ্টভাবে দাবি করছেন, এই কমিটি বাতিল করে পুনঃতফসিল ঘোষণার মাধ্যমে একটি জননন্দিত কমিটি গঠন করা হোক।

এদিকে, ইতোমধ্যে একই ঘটনার বর্ণনায় বিচার চেয়ে মো. জাকির হোসেন নামের এক অভিভাবক সদস্য প্রার্থী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক, শিক্ষাবোর্ড ও মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবিত কমিটি নিয়ে অভিযোগ করেছেন। তার অভিযোগ, অধ্যক্ষ স্বাক্ষর জাল করে নিজের পছন্দের লোক দিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। তিনি দাবি করেন, এই কমিটি বাতিল করে পুনঃতফসিল ঘোষণা করা হোক।

সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!