দিশারী ডেস্ক।। ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ।।
দেশীয় টিনের চিমনী ও প্রকাশ্যে কাঠ পুড়িয়ে পোড়ানো হচ্ছে মাটি। এভাবে চলছে কথিত ইটভাটা। যেন এটাই নিয়ম। নোয়াখালীর সুবর্ণচরের চরজব্বরে একই গ্রামে পাশাপাশি দুটি ইটভাটা পরিবেশবিধি লঙ্ঘন করে প্রভাব খাটিয়ে দাপটের সঙ্গে পরিচালিত হচ্ছে।
জানা যায়, পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে এসব ভাটায় কাঠ পোড়ানো হচ্ছে প্রকাশ্যে। উপজেলার চরজব্বরের কাঞ্চন বাজার আঞ্চলিক সড়কের পাশে চরপানাউল্যাহতে গড়ে ওঠছে এ দুটি ইটভাটা। যাতে প্রতিনিয়তই আশপাশের কৃষিজমি, ফসল এবং বসতবাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বেড়ে গেছে কালো ধোঁয়া ও ধুলোবালুর কারণে পরিবেশ দূষণও।

শুধু তাই নয়, ইটভাটার মধ্যে স’মিল রেখে পুড়ছেন সরকারী রাস্তার পাশের গাছও।
——————————————————————————————————
স্থানীয়রা জানান. এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনকে জানানোর পরও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। উপরন্তু কর্তৃপক্ষের নজরদারির চরম ব্যর্থতার কারনে ইটভাটাগুলো দিন-দিন আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠছে এমনটাই বলছেন সচেতন এলাকাবাসী।
——————————————————————————————————
একইভাবে, নোয়াখালী জেলার সুবর্ণচরের অন্যান্য এলাকায়ও সড়কের পাশে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে প্রকাশ্যে পরিবেশ আইন লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে আরো বেশ কিছু ইটভাটা। সম্পূর্ণ গ্রামীণ জনবসতিপূর্ণ এলাকা ও ফসলি জমিতে এসব ভাটা স্থাপন ও পরিচালনা করা হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এবং গোপনে বিভিন্ন দপ্তর ‘ম্যানেজ’ করে তারা দীর্ঘদিন ধরে নির্বিঘ্নে এই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট ইটভাটাগুলোর কোনো বৈধ অনুমোদন, লাইসেন্স কিংবা পরিবেশগত ছাড়পত্র নেই। অর্থাৎ পরিবেশ সংরক্ষণ আইনকে প্রকাশ্যে উপেক্ষা করেই চলছে এসব ভাটার কার্যক্রম।

এদিকে ইটভাটা থেকে নির্গত ঘন ও বিষাক্ত ধোঁয়ায় মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে আশপাশের পরিবেশ ও জনমানুষের বসতি। শুধু তাই নয়, ধোঁয়ার কারণে পথচারীদের চোখে তীব্র জ্বালা-পোড়া, শ্বাসকষ্টসহ নানা জটিল রোগ দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। ফলে এলাকাবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কার্যত জিম্মি হয়ে পড়েছে।
দেশজুড়ে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান জোরদার হলেও সুবর্ণচর উপজেলায় রহস্যজনকভাবে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। এতে জনমনে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযুক্তরা প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহলের ছত্রছায়ায় থেকে ‘উপরমহলে তদবির’ করে বারবার প্রশাসনিক অভিযান প্রতিহত করা হচ্ছে বলে স্থানীয়দের দাবি।
——————————————————————————————————-
এ বিষয়ে ভাটা দুটির পরিচালক কবির হোসেন বলেন, আমরা সুবর্ণচর উপজেলা প্রশাসনকে ম্যানেজ করে চলেছি। পরিবেশ অধিদপ্তরের লোকজনও মাঝে-মধ্যে এসেও দেখা করে যান। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে ওই স্থানে ব্যবসা করে আসছেন।
——————————————————————————————————-
তবে জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক জানান, মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। সহসায় এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন নোয়াখালী জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম।

Leave a Reply