দিশারী ডেস্ক।। সোমবার, ০৩ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ।।
পাখি পর্যবেক্ষণ বা ‘বার্ড ওয়াচিং’ কেবল শখ নয়, এটি আপনার মস্তিষ্ককে দীর্ঘকাল সচল ও তরুণ রাখতে সাহায্য করে। কানাডার গবেষকদের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত পাখি পর্যবেক্ষণে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের মস্তিষ্কের গঠন নবাগতদের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী ও কার্যকর।
‘ জার্নাল অব নিউরোসায়েন্স ’-এ প্রকাশিত এই গবেষণায় দেখা গেছে, অভিজ্ঞ পাখি পর্যবেক্ষকদের মস্তিষ্কের যে অংশগুলো মনোযোগ, স্মৃতি ও বোধগম্যতার সাথে জড়িত, সেগুলো সাধারণ মানুষের তুলনায় অনেক বেশি উন্নত। এটি তাদের নতুন তথ্য মনে রাখতে এবং জটিল বিষয় দ্রুত বুঝতে সাহায্য করে।
গবেষণায় আরো দেখা গেছে, প্রকৃতির সান্নিধ্যে থাকা মস্তিষ্কের জন্য দারুণ উপকারী। সবুজ পরিবেশে বসবাসকারীদের আলঝেইমার বা ডিমেনশিয়ার মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেক কম। ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা জানিয়েছেন, প্রকৃতিতে মাত্র তিন মিনিট সময় কাটালেই মস্তিষ্কে ইতিবাচক পরিবর্তন শুরু হয়।
হাজারো প্রজাতির পাখির রূপ, রং ও ডাক মনে রাখতে হয়। অভিজ্ঞরা পাখির সামান্য একটি শব্দ শুনেই প্রজাতি বলে দিতে পারেন। এই চর্চা মস্তিষ্কে নতুন স্নায়ু সংযোগ তৈরি করে, যা বয়স বাড়লে নাম বা মুখ মনে রাখার ক্ষমতাকেও সচল রাখে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মস্তিষ্ক হলো ‘ ব্যবহার করুন অথবা হারিয়ে ফেলুন ’— এমন একটি অঙ্গ। অর্থাৎ বুদ্ধিদীপ্ত কোনো কাজে মস্তিষ্ককে যত বেশি ব্যস্ত রাখবেন, এটি তত ভালো থাকবে। পাখি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি ব্যায়াম, সুষম খাবার ও সামাজিক যোগাযোগ বজায় রাখাও বার্ধক্যজনিত মানসিক সমস্যা দূরে রাখতে সাহায্য করে।
সূত্র : সিবিসি
Leave a Reply