দিশারী ডেস্ক।। ২৬ জুলাই, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ।।
কোরআনুল কারিমের অনুবাদ ও সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
وَ لَئِنۡ سَاَلۡتَهُمۡ مَّنۡ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَ الۡاَرۡضَ لَیَقُوۡلُنَّ اللّٰهُ ؕ قُلِ الۡحَمۡدُ لِلّٰهِ ؕ بَلۡ اَكۡثَرُهُمۡ لَا یَعۡلَمُوۡنَ ﴿۲۵﴾
لِلّٰهِ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَ الۡاَرۡضِ ؕ اِنَّ اللّٰهَ هُوَ الۡغَنِیُّ الۡحَمِیۡدُ ﴿۲۶﴾
وَ لَوۡ اَنَّ مَا فِی الۡاَرۡضِ مِنۡ شَجَرَۃٍ اَقۡلَامٌ وَّ الۡبَحۡرُ یَمُدُّهٗ مِنۡۢ بَعۡدِهٖ سَبۡعَۃُ اَبۡحُرٍ مَّا نَفِدَتۡ كَلِمٰتُ اللّٰهِ ؕ اِنَّ اللّٰهَ عَزِیۡزٌ حَكِیۡمٌ ﴿۲۷﴾
مَا خَلۡقُكُمۡ وَ لَا بَعۡثُكُمۡ اِلَّا كَنَفۡسٍ وَّاحِدَۃٍ ؕ اِنَّ اللّٰهَ سَمِیۡعٌۢ بَصِیۡرٌ ﴿۲۸﴾ সুরা লোকমান : আয়াত ২৫-২৮)
সরল অনুবাদ
(২৫) তুমি যদি ওদেরকে জিজ্ঞাসা কর, ‘ আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী কে সৃষ্টি করেছেন ? ’ তাহলে ওরা নিশ্চয় বলবে, ‘ আল্লাহ। ’ বল, ‘ সর্বপ্রশংসা আল্লাহরই ’; কিন্তু ওদের অধিকাংশই জানে না।
(২৬) আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে, তা আল্লাহরই। নিশ্চয়ই আল্লাহ অভাবমুক্ত, প্রশংসার্হ।
(২৭) পৃথিবীর সমস্ত বৃক্ষ যদি কলম হয় এবং এ যে সমুদ্র এর সঙ্গে যদি আরো সাত সমুদ্র যুক্ত হয়ে কালি হয়, তবুও আল্লাহর বাণী (লিখে) শেষ হবে না। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
(২৮) তোমাদের সবার সৃষ্টি ও পুনরুত্থান একটি মাত্র প্রাণীর সৃষ্টি ও পুনরুত্থানেরই মতো। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।
সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা
২৫ নং আয়াতে বলা হয়েছে যে, আল্লাহ তায়ালা এই আয়াতে মুশরিকদের একটি বিষয় স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন যে, তারা মুখে স্বীকার করে যে, আসমান ও জমিনের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ। কিন্তু তার পরেও তারা আল্লাহর সঙ্গে অন্য কাউকে শরিক করে, যা তাদের অজ্ঞতা ও অবিবেচনার পরিচায়ক।
এখানে কয়েকটি বিষয় লক্ষণীয়:
আল্লাহর একত্ববাদ : মুশরিকরা মুখে স্বীকার করলেও, কাজে আল্লাহর একত্ববাদ গ্রহণ করেনি। তারা আল্লাহর সঙ্গে অন্যান্য দেব-দেবীর পূজা করে।
জ্ঞানের অভাব: এই আয়াতে তাদের জ্ঞানহীনতার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। তারা আল্লাহর সৃষ্টি ও পরিচালনা সম্পর্কে অবগত হওয়া সত্ত্বেও, তাঁর একত্ববাদে বিশ্বাস স্থাপন করেনি।
আল্লাহর প্রশংসা : যখন মুশরিকরা স্বীকার করে যে আল্লাহই সৃষ্টিকর্তা, তখন নবী (সা.)-কে বলা হচ্ছে, আল্লাহর প্রশংসা করতে। কারণ, তিনিই একমাত্র সত্য মাবুদ এবং তাঁরই প্রশংসা প্রাপ্য।
অজ্ঞতার পরিণতি : এই আয়াতে আরো বলা হচ্ছে যে, মুশরিকদের অধিকাংশই জানে না যে, আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে শরীক করা কতো বড় অন্যায়।
সারসংক্ষেপে, এই আয়াতটি মুশরিকদের জ্ঞান ও কর্মের মধ্যেকার বৈপরীত্য তুলে ধরে এবং আল্লাহর একত্ববাদের গুরুত্ব ও তাঁর প্রশংসার অপরিহার্যতা প্রমাণ করে।
২৬ নং আয়াতে বলা হয়েছে যে, সব কিছুর সৃষ্টিকর্তাও তিনি, মালিকও তিনি এবং বিশ্ব-জগতের পরিচালকও তিনি। আবার একমাত্র তিনিই সব কিছু হতে অমুখাপেক্ষী। সব সৃষ্টি তাঁর মুখাপেক্ষী ; তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন।
২৭নং আয়াতে আল্লাহর মহত্ত্ব, গর্ব, প্রতাপ, তাঁর সুন্দর নামাগুলো ও সুউচ্চ গুণাবলি এবং তাঁর মহত্ত্বের প্রতি ইঙ্গিত বহনকারী সেই অফুরন্ত বাণীর কথা উল্লেখ হয়েছে ; যা কেউ পরিপূর্ণরূপে গণনা করতে, জানতে বা তার প্রকৃতত্বের গভীরতায় পৌঁছতে সক্ষম নয়। যদি কেউ তাঁর সেই বাণী গণনা করতে বা লিখতে চায়, তাহলে সারা পৃথিবীর সমস্ত গাছপালার তৈরি কলম ক্ষয় হয়ে যাবে, সাগরসমূহের পানির তৈরি কালি শেষ হয়ে যাবে ; কিন্তু মহান আল্লাহ সম্পর্কিত জ্ঞান, তাঁর সৃষ্টি ও কারিগরির বিস্ময়কর নিপুণতা এবং তাঁর মহত্ত্ব ও মর্যাদার কথা লিপিবদ্ধ করে শেষ করা সম্ভব হবে না। সাত সমুদ্র অতিশয়োক্তি হিসাবে বলা হয়েছে, নচেত নির্দিষ্ট সংখ্যা উদ্দেশ্য নয়। কারণ আল্লাহর বাণী ও নিদর্শনাবলী গণনা করে শেষ করা সম্ভবই নয়। (ইবনে কাসীর)
২৮ নং আয়াতে বলা হয়েছে যে, আল্লাহর ক্ষমতা এত বিশাল যে, তোমাদের সবাইকে সৃষ্টি করা বা কিয়ামতের দিন পুনর্জীবিত করা একটি মাত্র আত্মা বা প্রাণীকে জীবিত করা বা সৃষ্টি করার মতোই। কারণ তিনি যা চান, তা كُن (হয়ে যাও) বলতেই চোখের পলকে অস্তিত্ব লাভ করে।
উৎস : তাফসিরে আহসানুল বায়ান থেকে ইষৎ সম্পাদিত।
Leave a Reply