দিশারী ডেস্ক।। ১১ আগষ্ট, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ।।
নোয়াখালীর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের বিভিন্ন অবকাঠামোর মেরামতের নামে বরাদ্ধকৃত অর্থের কোন ধরনের কাজ না করে ১ কোটি ১৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে জেলার সচেতন নাগরিকেরা চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা প্রকাশ করছেন।
——————————————————————————————————–
সংঘটিত অন্যায়, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার বিচার চেয়ে জনস্বার্থে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে অভিযোগ দায়ের ও বিহিত ব্যবস্থা গ্রহনের নিমিত্তে দরখাস্ত করেছেন তারা।
——————————————————————————————————–
সূত্র জানায়, হাসপাতালের ইতোপূর্বের কাজসমূহকে বর্তমানের নামে প্রচার করেই এসব বরাদ্ধ জায়েজ করছেন তারা। যা সম্পূর্ণ ভুয়া ও তঞ্চকতাপূর্ণ বলেও মনে করছেন জেলার সচেতন নাগরিকেরা। অবহিতকরণের এমন একটি পৌঁছেছে আমাদের দপ্তরেও।

তাতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মেরামত শাখায় দায়িত্বশীল উপসচিবের গত ১১ মে, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ তারিখের স্বাক্ষরিত অফিস আদেশের বরাদ্ধকৃত নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের বিভিন্ন অবকাঠামোর মেরামতের নামে প্রতিটি কাজের কোন একটিও না করে সমুদয় কাজসমূহের বরাদ্ধ লুট করা হয়েছে।
এসব কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট নোয়াখালী গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম, নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীসহ দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ এবং সহ সংশ্লিষ্ট কাজের প্রতিটি ঠিকাদারসহ সংঘবদ্ধদের যোগসাজসে এ টাকা লোপাট করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
যার ফিরিস্তিতে বলা রয়েছে, ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে প্যাথলজি, এক্সরে, আল্ট্রাসনোগ্রাফী রুমের মেরামত, রঙকরণ ও অন্যান্য কাজ কিংবা কোন ধরনের সংস্কার না করে বরাদ্ধকৃত ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে। হাসপাতালের ইউসি ভবনের ভেতর ও বাইরের অংশের মেরামত ও রঙকরণের নামে বরাদ্ধকৃত ১০ লাখ টাকার পুরোটাই আত্মসাত করা হয়েছে।
——————————————————————————————————–
এছাড়া কিডনী ডায়ালাইসিস ইউনিটের দরজা, জানালাসহ স্যানেটারী ফিটিংস পরিবর্তন, বারিন্দার গ্রীল পরিবর্তন, মেরামত, রঙকরণসহ অন্যান্য কাজ বাবত বরাদ্ধকৃত ১২ লাখ টাকা, গাইনী, সার্জারী ওয়ার্ডের স্যানেটারী ফিটিংস পরিবর্তন ও মেরামতসহ অন্যান্য কাজ বাবত ১০ লাখ টাকা, ওটি এবং পোস্ট অপারেটিভ রুমের স্যানেটারী ফিটিংস পরিবর্তন, মেরামত, রঙকরণসহ অন্যান্য কাজ বাবত ১২ লাখ ৭২ হাজার টাকা, জরুরী বিভাগের স্যানেটারী ফিটিংস,পরিবর্তন, রঙকরণ ও অন্যান্য মেরামত কাজ বাবত ১০ লাখ টাকা, বিভিন্ন ওয়ার্ডের অকেজো লাইট, ফ্যান পরিবর্তন, সরবরাহকরণসহ অন্যান্য মেরামত কাজ বাবত ১৫ লাখ টাকা, এসডিবি, ডিবি ও সার্কিট ব্রেকার পরিবর্তনসহ অন্যান্য কাজ বাবত ১০ লাখ টাকা, বৈদ্যুতিক মেইন সার্ভিস লাইনসহ ওয়ার্ডভিত্তিক সার্ভিস লাইনের তার পরিবর্তন, ফিটিংস ফিকচার পরিবর্তনসহ আনুসাঙ্গিক কাজ বাবত ১২ লাখ টাকা, কিডনী ডায়ালাইসিস ইউনিটে এসি সরবরাহ, স্থাপন, পুরাতন এসি মেরামত এবং জেনারেটর সার্ভিসিং,পাখা পরিবর্তন এবং ডিবিবোর্ডের মেরামত ও অকেজো সার্কিট ব্রেকার পরিবর্তনসহ অন্যান্য বৈদ্যুতিক ফিটিংস পরিবর্তন ও মেরামত বাবত ১৩ লাখ টাকা আত্মসাত করা হয়েছে বলেও অভিযোগে বর্ণিত রয়েছে।
——————————————————————————————————–
সরেজমিনে গেলে, হাসপাতালে কর্মরত বেশ ক’জন কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অভিযোগের পুরোটাই সত্য। তারা বলেন, পুরোনো কাজকে নতুন কাজ বলে চালিয়ে দিয়ে সমুদয় বরাদ্ধ আত্মসাত করার সত্যতা তারাও নিশ্চিত করেন।
একইসঙ্গে, বিগত বছরগুলোতেও ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে অবকাঠামোসহ বিভিন্ন নামের প্রকল্পসমূহ তথাকথিত উন্নয়ন কিংবা সংস্কারের বিষিয়ে যথাযথ তদন্ত করলে সংঘটিত প্রতিটি কথিত প্রকল্পের নামে অর্থ হরিলুটের প্রমাণ পাওয়া যাবে বলে সেসবেরও তদন্তের দাবি করছেন ওই আবেদনের স্বাক্ষরিক সচেতন নাগিরক।
——————————————————————————————————–
এতে আরো বলা হয়েছে, নোয়াখালীর গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল ইসলামের চারপাশে রয়েছে একটি ঠিকাদার কমিশন সিন্ডিকেট। বিগত পলাতক সরকারের সময়েও তিনি দীর্ঘ ৮/৯ বছর এ দপ্তরে নির্বাহী পদে আসীন ছিলেন। সে সময়েই গড়ে ওঠে এ কমিশন সিন্ডিকেট।
একটা সময় বদলি হয়ে অন্যত্র পদাসীন হওয়ার পর তার সিন্ডিকেট সদস্যরা ফের তদবির করে তাকে নোয়াখালীর এ জায়গায় ফের বহাল করে আনেন। সঙ্গতকারণে তার কমিশন সিন্ডিকেটের বাইরে এখানে কেহ ঠিকাদারি করার সুযোগ নেই। অথবা যে ঠিকাদারের সাথে তার কমিশন বাণিজ্যের চুক্তি হয়, সে ঠিকাদারই এসব হরিলুটের বরাদ্ধ ভোগ করেন।
——————————————————————————————————–
সংশ্লিষ্ট বিষয়ে গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল ইসলামকে ফোন দিলেও তিনি না ধরায় তাঁর কোন মতামত তুলে ধরা সম্ভব হয়নি।

——————————————————————————————————
তবে এ বিষয়ে ডাক্তার ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, সবগুলো কাজ সঠিকভাবে হয়েছে। তবে আমার দপ্তরের ঘরের টিনের ছাউনী আর রঙের কাজটি না হওয়ায়, এ দুটি কাজের সার্টিফিকেট আমি দিইনি। বাকীগুলো সঠিকভাবে হয়েছে বলে সার্টিফিকেটও দিয়েছি। একইসঙ্গে বলেন, এগুলোতে গণপূর্তের একজন প্রকৌশলী, স্বাস্থ্য দপ্তরের একজন প্রকৌশলী ও জেলা প্রশাসনের একজনসহ সবার সম্মিলিত মতামতের ওপর ভিত্তি করে এবং কাজের সঠিকতা নির্ণয় করেই সার্টিফিকেট দিয়েছি।
Leave a Reply