মোহাম্মদ সহিদ উল্লাহ বাচ্চু।। ১৭ আগষ্ট, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ।।
এখন আর নতুন কোন আগন্তুক ভাবতেই পারেননা এখানকার নান্দনিক সৌন্দর্য্যের কথা। দিনদিন সবই বিপন্নের পথে। পালাক্রমে হয়তোবা স্থানও নেবেনা ইতিহাসের কোন অংশে।
নোয়াখালীর উপকূলীয় সদর দক্ষিণাঞ্চলের চরজব্বার ইউনিয়নের দক্ষিণ ওয়াপদার রেস্ট হাউজটি নির্মিত হয় সত্তরের দশকে। পাকিস্তান আমলে ওয়াপদা ৯ লাখ রুপি ব্যয়ে চৌরাস্তা তথা গুলগুইল্লা বাজার বা মান্নান নগর থেকে আটকপালিয়া বাজার তথা হারিছ চৌধুরী বাজার পর্যন্ত সাড়ে ১৬ কিলোমিটার ক্রসড্যাম-২ এর কাজ চলাকালীন ছয় একর জায়গায় এ রেস্ট হাউজটি নির্মিত হয়।

যাতে প্রকল্পের পরিচালক, প্রকৌশলী ও উর্ধতন কর্মকর্তাগণ এ রেস্ট হাউজে থাকতেন। সদর দক্ষিণের প্রাচীন এ রেস্ট হাউজে দেশের জাতীয় ব্যক্তিবর্গ, মন্ত্রীপরিষদ সদস্য, আমলা ও বিদেশী ব্যক্তিগণ অবকাশ বা গুরুত্বপূর্ণ কাজে এসে এ রেস্ট হাউজে ওঠতেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর, বন ও পরিবেশমন্ত্রী আবুল কালাম সাহেব প্রায় এ রেস্ট হাউজে থাকতেন।
এখানকার ছয় একর জায়গায় রয়েছে একটি বিশাল দিঘী, দীঘির ছিল ঘাটলা ও বসার স্থান, প্রশস্ত প্রবেশ দ্বার, দু’পাশে শত-শত নারিকেল গাছ, বিভিন্ন জাতের ফলজ ও কাঠজাতীয় বৃক্ষ। মাঠে চাষ হতো ধান আর বিভিন্ন প্রজাতির সবজি,আরো কত কি।
বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রতিদিন আসত হাজার-হাজার পর্যটক। তাদের কোলাহলে মুখরিত হয়ে ওঠতো এ অবহেলিত জনপদ।

নোয়াখালীর পানি উন্নয়ন বোর্ডের এ রেস্ট হাউজটি এখন পরিত্যক্ত। কত বছর পেরিয়েও এখানে এখন আর আসেন না কোন মন্ত্রী, কোন জাতীয় ব্যক্তিবর্গ। নেই কোন পর্যটক, ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা। নির্জন পরিত্যক্ত জরাজীর্ণ রেস্ট হাউজে দুই দশক ধরে বসবাস করছে হাতিয়া থেকে আগত নদীভাঙা অসহায় ভূমিহীন মর্জিনা আর রোকেয়া বেগম নামের দুইবোন ও তাদের পরিবারের সদস্যরা।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রাচীন এ রেস্ট হাউজটি সংস্কার বা উন্নয়নে কোন ভুমিকা দৃশ্যমান হয়নি গত কয়েক বছরেও। ভুমিদস্যুরা পাউবোর এ ছয় একর ভুমি অবৈধভাবে নামে বেনামে বেদখল করার চেষ্টা করেও সক্ষম হয়নি বলে জনশ্রুতি রয়েছে।
এমতাবস্থায়, ইতিহাসের ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের স্বার্থে সুবর্ণচর উপজেলার কেন্দ্রস্থানে নির্মিত দক্ষিণ ওয়াপদার পাউবোর রেস্ট হাউজটি সংস্কার ও উন্নয়নকল্পে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্টমহলের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

Leave a Reply